সর্বশেষ :
Home / আইন আদালত / সংবাদ প্রকাশের পরই মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে সালথার উপজেলা প্রশাসন

সংবাদ প্রকাশের পরই মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে সালথার উপজেলা প্রশাসন

 

 

 

সাইফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথা উপজেলার কৃষিজমি পাট, পেয়াজ ও আমন ধান উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। এই এলাকার মানুষ একমাত্র কৃষির উপর নির্ভরশীল। সারাদেশের মধ্যে পাট-পিয়াজের জন্য বিখ্যাত এ অঞ্চলটি। কৃষিপ্রধান পেঁয়াজ, সোনালী আশ পাট ও আমন ধানের জমির প্রচুর উৎপাদন শক্তি সম্পন্ন ‘আবাদি জমি হচ্ছে পুকুর বিক্রি হচ্ছে মাটি’ বিভিন্ন সংবাদপত্রে ও অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে সালথা উপজেলা প্রশাসন ।

এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া থেকে ভেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করায় জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

 

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা ১২ টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: সালাহউদ্দিন আইয়ূবী।

 

এসময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজীব রায় ও সালথা থানার পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

 

জানা যায়, উক্ত স্থানে জাফর মুন্সী, সাগর হোসেন ও মিজানুর শেখ নাম ব্যক্তিরা যোগসাজসে ফসলী জমির মাটি বিক্রি করে আসছিলো। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: সালাহউদ্দিন আইয়ূবী এ অভিযান পরিচালনা করেন এবং তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

 

এছাড়া রবিবার বিকালে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রির অপরাধে আবু নাসের নামে এক জমির মালিককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। এ ছাড়া একই অপরাধে ইদু শেখ নামে আরেক মাটি ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার, জলিল শেখ নামে এক ভেকুর ড্রাইভারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি ভেকু মেশিন আটক করে সংশ্লষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সালাউদ্দীন আইয়ুবী বলেন, সমকালসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ ধারায় জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন শাহিন বলেন, চলমান বিশ্বের পরিস্থিতে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কাটার ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যহত হবে। এ বিষয় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কৃষি সমৃদ্ধ উপজেলা বিনির্মানে আমরা বদ্ধপরিকর। তাই কৃষি জমি ধ্বংস করে পুকুর তৈরি বা মাটি বিক্রির সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!