নিজস্ব প্রতিবেদক:
দিনের বেলাই একদল ডাকাত গুলি, ককটেল ফাটিয়ে মানুষের মাঝে দীর্ঘদিন যাবৎ
আতঙ্ক সৃষ্টি করে ডাকাতি করে আসছিল নয় সদস্যের একটি ডাকাত দল।
কাশিমপুর থানা পুলিশ সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে কালিয়াকৈর-নবীনগর
সড়কের তেতুইবাড়ী এলাকা থেকে ইউসুফ আলী রানা (৩৫), বিধান হালদারকে (৩১)
গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃত এই ডাকাত সদস্যেও দেওয়া তথ্য মোতাবেক একই
রাতে লস্করচালা এলাকার খাঁন ব্রাদাস মাঠের আশপাশে অভিযান চালিয়ে আরো
সাতজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশ জানান, সাত ডাকাত গ্রেপ্তারের সময় ডাকাত দলের সদস্যরা পুলিশকে
লক্ষ্য করে ককটেল ও গুলি ছুড়ে। এসময় পুলিশও কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। পরে পুলিশ
সুকৌশলে সাত ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, সোলাইমান
আকন ওরফে সোলেমান আকন (৪০), আনোয়ার হোসেন (৩৫), মোঃ রুবেল (৪০),
,বাবুল বেপারী (৩৬) জাকির হোসেন (৪০), সাগর বাড়ই (৪১) ও মৃদুল বাড়ইকে (৪১)।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানান, গত ১৬ আগষ্ট দুপুর ২ টার দিকে কাশিমপুর
মেট্রো থানার এনায়েতপুর এলাকার জনাব আলীর জোট কারখানার সামনে
মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা যুগে ৭-৮ জন ডাকাত ককটেল বিস্ফোরণ ও
চাপাতি দিয়ে আঘাত করে ডাচ বাংলা ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং রকেট এর
ডিএসএম শাহেদ শরীফ এর কাছ থেকে ৫ লক্ষ ২২হাজার টাকা ডাকাতি করে নিয়ে
যায়। এঘটনায় কাশিমপুর মেট্রো থানায় একটি মামলা রুজু হয়। এ মামলা
হওয়ার পর থেকেই মাঠে নামে কাশিমপুর থানা পুলিশের একাধিক টিম। পুলিশ
সোমবার রাতে ইউসুফ আলী রানা ও বিধান হালদারকে তেতুইবাড়ী সানসিটি
থেকে গ্রেপ্তার করেন। আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারেন,
সোমবার রাতেই লোহাকৌর রোড খান ব্রাদার্স এর খেলার মাঠে দেশীয়
অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ডাকাতি সংঘটনের জন্য সমবেত হচ্ছে। পুলিশের চারটি
টিম দ্রুত গিয়ে খান ব্রাদার্স খেলার মাঠের আশে-পাশে গোপন অবস্থান নিলে
কয়েকজন ডাকাত সদস্য পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে যায়। এসময় তখন পুলিশের
৪ টি টিমের সকল সদস্য ডাকাত দলের সদস্যদের আটকের জন্য ঘিরে ফেলে। এসময়
ডাকাত দলের সদস্যরা অতর্কিতভাবে পুলিশের উপর ককটেল ফাটিয়ে ও গুলি করে করতে
থাকে। পুলিশও ফাকা পাল্টা গুলি চালালে ডাকাত দল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময়
ডাকাত দলের নেতা সোলাইমান আকন ওরফে সোলেমান আকন গুলির আঘাত বাম
পায়ে লাগলে আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় পুলিশ সদস্য
মুস্তাফিজ ডান হাতে আঘাত পায়। পুলিশ -ডাকাত গোলাগুলির এক পর্যায়ে
দৌড়ে পালানোর সময় পুলিশ সাত ডাকাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন।
এসময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১টি বিদেশি পিস্তল, ১ টি ম্যাগজিন,১ রাউন্ড
তাজা গুলি,১২ টি ককটেল, ৩ টি চাপাতি, ২ টি মোটরসাইকেল, ২ টি হেলমেট,
১ টি অটোরিকশা, ১ টি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক।
কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতার্ রাকিবুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত এই
ডাকাত চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ গুলি এবং ককটেল ফাটিয়ে মানুষের মাঝে
আতংক সৃষ্টি করে ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, টাংগাইল সহ দেশের বিভিন্ন
স্থানে ডাকাতি করে আসছিল। এদের নামে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক
ডাকাতির মামলা আছে।
ককটেল ফাটিয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করে ডাকাতি করাই
তাদের নেশা।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal