সর্বশেষ :
Home / গণমাধ্যম / শরৎকালে দুর্গাপূজা উৎযাপনের সূচনা

শরৎকালে দুর্গাপূজা উৎযাপনের সূচনা

 

রচনায়: কবিতা কস্তা

 

সৃষ্টি, সত্বা ও সমস্ত গুণের আধাররূপে ঐশ্বরিক নারী শক্তির (শাক্ত মতে) উদযাপনই দুর্গাপূজা। শৃঙ্খল ও অশুভ শক্তি থেকে মানবজাতিকে রক্ষা হলো পুজার মূল তাৎপর্য। এটি শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবই নয়, বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ বটে।

 

দৈত্যনাশক, বিঘ্ননাশক, রোগনাশক ও পাপনাশক

নবরাত্রি উৎসবের সাথে সম্পর্কিত, যা দশদিন নয়রাত ধরে ঐশ্বরিক নারী শক্তিকে উদযাপন করে।

দুর্গা বিশ্বশক্তির আধার। তিনি খুশি হলে আমাদের সব ইচ্ছাই পূর্ণ করতে পারঙ্গম।

 

দুর্গার দশ হাত বোঝায়, দুর্গা সম্মিলিত শক্তি। দশ হাতে দশ আয়ুধ। আয়ুধ হলো যুদ্ধাস্ত্র। এ আয়ুধ বোঝায় তিনি সকল দেবতার সম্মিলন। এক হাতে চক্র বা বিষ্ণুর আয়ুধ। অর্থাৎ তিনি বিষ্ণুশক্তি। এক হাতে শূল যা মহেশ্বরের আয়ুধ। সেক্ষেত্রে তিনি দুর্গা মহেশ্বরী। এক হাতে নাগপাশ, নাগপাশ বরুণের আয়ুধ, যখন তিনি দুর্গা বরুণানী— বরুণের শক্তি।

হিন্দুদের অন্যতম প্রধান উৎসব এ দুর্গাপূজা ঐতিহ্যগতভাবে আশ্বিনমাসে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর), হিন্দুনপঞ্জিকার সপ্তম মাসে দশ দিন ধরে পালিত হয়।

এটি একটি বিশেষ পূজা/নৈবেদ্য উৎসব, যা দেবীর বিজয় উদযাপন করে।

 

এ পুজার প্রথম দিন হলো মহালয়া, বা দেবীর আবির্ভাব দিবস। ষষ্টীতে উৎসব শুরু হয় পুজোর মাধ্যমে। দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী-এসকল বিভিন্নরূপে পরবর্তী তিনদিন তাঁর পুজা সম্পন্ন করা হয়। বিজয়ের দশম দিন ‘বিজয়াদশমী’ তে উৎসবের পরিসমাপ্তি। যেখান থেকে দেবীরূপ প্রতিমাকে উচ্চমন্ত্র ও ঢোলের তালে বিশাল শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিসর্জনের জাগতিক রকম থেকে দেবী তাঁর বাড়িতে এবং হিমালয়ে তাঁর স্বামী শিবের কাছে চলে যায় প্রতিকী অর্থে।

 

ভারতবর্ষের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাস চর্চায় জাগ্রত প্রতীক হিসেবে দেবী মা দুর্গা প্রজ্জ্বলিত। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে জাতীয়তাবাদী চেতনাকে জাগ্রত করতে এর সর্বজনীন পূজা ব্যাপক প্রসার লাভ করেছিল সেই পরাধীন দেশেই।

দুর্গা মানে তো, দুর্গতি বা দুঃখ থেকে যিনি রক্ষা করেন। অন্য কথায় দুর্গতিনাশিনী। বিঘ্ন, পাপ, রোগ এবং শত্রুর হাত হতে রক্ষাকারী দুর্গা মা দুর্গম বা অজেয় নামক অসুরকে বধ করারও কৃতিত্ব রেখেছেন।

আবার দুর্গম স্থানে একমাত্র তিনিই প্রবেশাধিকার রাখেন। অভিন্ন অর্থে, তিনি মা, মাতৃকা, জননী, পালয়িত্রী, সৃজনকারিনী, জনয়িত্রী। তুলনাহীনা ত্রিধানে হিরন্ময় জগতসংসারে।

বিশ্বমাতৃত্বের আঁধার, সনাতনী বিশ্বাসীদের দেবী মহারথী, বিশ্ব ভ্রহ্মান্ড পরিভ্রমণের বিজয় উল্লাসের ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর ভক্তগণ উদযাপন করেন দুর্গোৎসব তথা দুর্গাপূজা। ১০ দিন ব্যাপী এই মহাযজ্ঞোৎসবের রেশ প্রবাহিত হয় মহাআড়ম্বরে। মহালয়ার মহামহিম দিন-ক্ষণের পদচারণার মাধ্যমে শুরু হয় দশদিনব্যাপি উল্লেখিত এ গঠনোৎসব। দুর্জ্ঞেয়, অজেয় মাতৃমহিমার স্মরণে এমন আরম্বড়তা তো গাঠনিক বিচারে অনন্যই।

ধনী-গরীব, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা, সকল ধর্মীয়-বিধর্মীয় ভক্ত তথা জাতি-বর্ণের আদোপ্রান্ত গ্রথিতজন এ উৎসবে সোৎসাহে অংশগ্রহণ করে থাকেন।

 

সার্বজনীন এ পুজা উৎসব উৎযাপনের মাধ্যমে হিন্দু সমাজ খুঁজে পায় সব অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, পাপ ও শোক থেকে মুক্ত হওয়ার প্রেরণা। এ যেনো সম্প্রীতির এক বড় সেতুবন্ধন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!