নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও যমীনকে স্থির রাখেন, যাতে টলে না যায়। যদি এগুলো টলে যায় তবে তিনি ব্যতীত কে এগুলোকে স্থির রাখবে? [সুরা ফাতির – ৩৫:৪১]। কিছু কোরআন না পড়ুয়া গবেষকদের কঠোর সমালোচনা করছি। পবিত্র কোরআনের কিছু আয়াতের গবেষণা করে নিচে বর্ণিত কিছু যুক্তি এবং প্রমাণ তুলে ধরলাম।
ঘুরছে এমন কিছুর উপর দাড়িঁয়ে জাম্প বা লাফ দিয়ে ঠিক ঐ একই স্হানে বা টার্গেট স্হানে পৌঁছানো যাবেনা। চাদঁ ঘোরছে তাই একই স্হানে কেউ লাফ দিয়ে একই স্হানে বা টার্গেট স্হানে কেউ নামতে পারেনা বা নামতে পারবেনা । পৃথিবী স্হীর তাই টার্গেট স্হানে কিছু ফেলা বা অবতরণ করা সম্ভব। কিভাবে গবেষকরা বলতে পারে যে,- পৃথিবী তার নিজ অক্ষে ঘোরছে, যেখানে যত উপরে উঠা যায় তত মেঘের নিচে সব সমুদ্র দেখায়?? যদি পৃথিবী ঘুরতো তাহলে ঢাকা থেকে বিমান সৌদি আরবে উড়ে যেতোনা।বিমান বা হেলিকপ্টার সোজা উড়ে উপরে বসে/স্হির থাকতো, পৃথিবী ঘুরে সৌদি আরব নিচে চলে আসতো আর বিমান বা হেলিকপ্টার নিচে নেমে অবতরণ করতো।যদি পৃথিবী এক দিক থেকে আরেকদিকে ঘুরতো তাহলে বাতাস শুধু বিপরীত দিক থেকে আগত থাকতো মানে এক দিক থেকে প্রবাহিত হতো। একটা নদী বা একটা সমুদ্রের তীরে গিয়ে পাবেন-” ঢেউ এবং বাতাস আপনার দিকে আসছে। আপনি যদি ঘুরে সমুদ্রের অন্য দিকে যান তা-ও ফলাফল একই রকম পাবেন, আবার যদি একদমই উল্টো দিকে যান ধরুন আগে ছিলেন ভারতে আর এখন গেলেন শৃলংকা তারপর আবারও দেখবেন বাতাস এবং ঢেউ আপনার দিকেই আসছে। আপনি বেশী দূরে নয় যে কোন একটা দ্বীপে যান, ধরুন সেন্টমার্টিন দ্বীপে যান সেই দ্বীপের যে কোন দিকের সমুদ্রের সামনে যাবেন, আপনি পাবেন বাতাস এবং ঢেউ আপনার দিকেই আসছে।এটা সম্পূর্ন আল্লাহরই কারিশমা। পুরা বিষয়টার কোন ব্যাখা কোন গবেষক বিভ্রান্ত ছাড়া কোন ব্যাখা আপনাকে দিতে পারবেনা।
পৃথিবী যদি নিজ কক্ষে ঘুরে দিনরাত হয়ে থাকে এবং বছরের সাথে তাল মিলিয়ে সূর্যের কাছে বা দূরে যায় যাহার কারণে ঋতু পরিবর্তন হয় তাহলে একই সময় ইংল্যান্ড বাংলাদেশে গরমকাল আর সেই একই সময় অষ্ট্রেলিয়াতে শীত কাল হবে কেন? এসব আল্লাহর কারিশমা বুঝা ছাড়া মাথা নষ্ট করে কোনই লাভ নাই। নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে সব নিচের দিকে নামে সূত্রটি যেমন ভূল প্রামাণিত হয়েছে মদিনা গিয়ে তেমনি বিজ্ঞানের এই নিজ কক্ষে ঘুরার সুত্রটিও ভূল এটা তারাই আবার গবেষণা করলেই পাবে। সাথে বসে থাকা মানুষটির শরীর থেকে রক্ত, কফ, মল-মূত্র বের না করে শরীরে নানান রোগ ভাইরাসের রেজাল্ট ঘোষণা করা অসম্ভব, অথচ সুদূর সূর্য থেকে মাটি বা কোন উপাদান সংগ্রহ না করে সূর্য কি কি উপাদান দিয়ে গঠিত এবং তা সব সময় জ্বলছে তা বলা পীর মানে গবেষক আর তাদের শেখানো মুরিদদের পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়, আবার আসে তারা পণ্ডিত পরিচয় দিয়ে মহা জ্ঞানী সাজতে। মূলত সূর্য আল্লাহর কারিশমা যাহা উনি না বললে কারো কিছুই জানা অসম্ভব। তেমনি শত আলোক বর্ষ দূরের গ্রহের বেলায়ও আমার এমনটাই মতমত।
আপনি একটি চাকা বিশিষ্ঠ চেয়ারে বসুন এবং মাঝখানে কিছু একটাকে ভিডিও করুন। ওটা স্হির থাকবে আর আপনি চারদিকে ঘুরে ভিডিও করুন। ভিডিওটার ছবি দেখলে মনে হবে -আপনি স্হির আছেন আর সামনের জিনিসটা ঘুরছে। যেহেতু পৃথিবীর চারপাশে সব ঘুরছে আর আপনি চাদঁ বা অন্য কোন গ্রহে বসে ভিডিওটা করছেন সেহেতু মনে হবে আপনি স্হির আছেন আর পৃথিবী ঘুরছে। পৃথিবী যদি ঘুরতো তাহলে এক এক দেশের স্যাটেলাইট তার নিজ দেশের তথ্য দিতে পারতোনা কারণ সে তার নিজ দেশের সিমানার উপরে থাকতোনা। আকাশের দিকে কিছুসময় তাকান,-দেখতে পাবেন কিছু মেঘ ডান দিক থেকে বামে যাচ্ছে আবার তার উপরের সাড়ির মেঘ বাম দিক থেকে ডানে যাচ্ছে, পৃথিবী ঘুরলে বায়ু প্রবাহের কারণে মেঘে এক দিকেই যেতো।পবিত্র কোরআনে আছে -“নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও যমীনকে স্থির রাখেন, যাতে টলে না যায়। যদি এগুলো টলে যায় তবে তিনি ব্যতীত কে এগুলোকে স্থির রাখবে? তিনি সহনশীল, ক্ষমাশীল। [সুরা ফাতির – ৩৫:৪১] অতএব চীনের আধুনিক একটি নদীতে বাধঁ নির্মাণ করে পৃথিবীর ঘুববার গতিকে কমিয়ে দেবার দাবী ১০০% অবান্তর, যেহেতু পৃথিবী ঘুরছেইনা। অন্য আয়াতে আছে- “তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে। [সুরা আম্বিয়া – ২১:৩৩]সূর্য পৃথিবী থেকে অনেক অনেক গুনে বড়, অতএব প্রথম ভূল হচ্ছে টেবিলের উপর বড় গ্লোব আর ছোট মোমবাতি নয় বরং বড় চুলার আগুন এবং তার সামনে খুবই ছোট একটি মারবেল বা এই ধরণের আয়তনের কিছু রেখে পৃথিবীতে আলোর সীমানা কভার হবার ভাবটা অনুমান করা উচিৎ, তাতে ফলাফল চিন্তার বিষয় দাড়াঁবে ১০০%। অন্য আরেকটি আয়াতে আছে,”সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ, আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ। [সুরা ইয়া-সীন – ৩৬:৩৮]
চন্দ্রের জন্যে আমি বিভিন্ন মনযিল নির্ধারিত করেছি। অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর শাখার অনুরূপ হয়ে যায়। [সুরা ইয়া-সীন – ৩৬:৩৯]
সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রি অগ্রে চলে না দিনের প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে। [সুরা ইয়া-সীন – ৩৬:৪০] পৃথিবীকে ঘিরেই সব ঘুরছে। অতএব এই কারণেই দিন রাত ইত্যাদি হচ্ছে। “আমি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনরূপ ক্লান্তি স্পর্শ করেনি। [সুরা ক্বাফ – ৫০:৩৮]” অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা।তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে। [সুরা হা-মীম – ৪১:৯+১০] তিনি পৃথিবীকে স্থাপন করেছেন সৃষ্টজীবের জন্যে। [সুরা আর-রহমান – ৫৫:১০] তারমানে অন্য কোন গ্রহ উপগ্রহে আর কোন জীব এলিয়েন বলতে কিছু নাই,তবে মহাকাশে বিভিন্ন জায়গায় জ্বীন আছে বলে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে। যেহেতু চাদঁ সহ সব গ্রহ উপগ্রহ ঘুরছে মানে অস্হীর সেহেতু এ গুলি বসবাস যোগ্য নয়। ১০০ গজ তফাৎ রেখে ২টি ফুটবল রাখুন। ১ম বলের সামনে দাঁড়িয়ে অপর প্রান্তের বলটিকে ছোট দেখাবে। অপর প্রান্তের বলটির সঠিক আয়তন জানতে সেই বলটির কাছে যেতে হবে। ছবি তুলে জুম করলে ইচ্ছা মত বলটিকে ছোট বড় করা যাবে কিন্তু বলটির সঠিক আয়তন বলতে হলে বলটির কাছে অবশ্যই যেতে হবে। এত শক্তিশালী ক্যামেরা দিয়ে শত আলোকবর্ষ দূরের সূর্য গ্রহ দেখে পরিমাপ ও কিছু অনুমান করা গেলে চাদেঁ নভোচারী বা রোবট পাঠানোর কি প্রয়োজন? গতকাল একটি পোষ্টে একজন কমেন্টস করেছেন যে -“মহাশূন্যে শূন্য থাকায় কিছু স্হির থাকতে পারেনা। জবাবে বল্লাম -“তাহলে ঘোরা ছাড়া কিভাবে একটি নভোযান টার্গেট স্হানে যেতে পারে?এবং ঘুরলে নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা নয়, টার্গেটে পৌঁছায় কিভাবে? হেসে জবাব দিলাম -“নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও যমীনকে স্থির রাখেন, যাতে টলে না যায়। যদি এগুলো টলে যায় তবে তিনি ব্যতীত কে এগুলোকে স্থির রাখবে? তিনি সহনশীল, ক্ষমাশীল। [সুরা ফাতির – ৩৫:৪১] কোন একটি নির্ধারিত স্হানে সূর্য মাথার উপর যত আসবে তত তাপ বাড়ে এবং তা অনুধাবন করা যায়, কিন্তু সকাল ও সন্ধায় তাপ কম হবার কারণ গবেষক গন বলেন যে, -ঐ স্হান থেকে সূর্যের দূরত্ব কিছুটা বাড়ায় তাপমাত্রা কমে।
উল্লেখ্য যে, আপনি আমি সূর্যের উদয় এবং ডুবা বা অস্ত যায় দেখলেও সূর্য কখনোই উদয় বা অস্ত যায়না, সে শুধু পৃথিবীর চার পাশে ঘোরে এবং তাপ দেয়, কোথাও অস্ত যাওয়া দেখা যায়তো কোথাও উদয়। মূল প্রসংগে আসা যাক,-“অতি সামান্য দূরত্বের কারণে দুপুরে খাড়া তাপ দেয়া স্হান থেকে সকাল বিকালের সূর্যের তাপ যদি কমে এবং দুপুরে কাছে আসায় বাড়ে তাহলে চাদেঁর তাপমাত্রা অনেক অনেক বেশী হবার কথা কারণ চাদঁ সূর্যের আরো বেশী নিকটে, এবং সত্যিকার অর্থে কেউ চাদেঁ যেতে পারে বলে আমার মনে হচ্ছেনা, খটকা লাগছে। আরেকটি কথা যা না বললেই নয়, গবেষকগন বলছেন যে মহাশূন্যে বাতাস নেই এবং চাদেঁ কম পরিমাণে বাতাস আছে তাহলে গাছ বিহীন মহাশূন্য এবং চাদঁকে শীতল রাখলো কে যে নভোচারীরা মহাশূন্যে নভোযানকে নিয়ন্ত্রণ রেখে সেখানে যেতে পারে ??? এবং নভোযান গুলো কিসের উপর ভর করে বা ধাক্কা দিয়ে উপরে উঠতে পারে যেমনটা মাছ পাখি বিমান হেলিকপ্টার উড়তে পারে??? শুধু মহা শূন্য এবং পৃথিবী স্হীর। মোট কথা, “সেন্টার বুঝতে ভূল হয়েছে, সূর্য নয় বরং সেন্টারে আছে পৃথিবী এবং সব কিছু পৃথিবীকে ঘিরেই ঘুরছে। – লেখক গবেষক সরকার তাসেক।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal