সর্বশেষ :
;
Home / সারাদেশ / চাঁদা না দেয়ায় প্রবাসীর দোকানঘর দখল করলো শওকত গং

চাঁদা না দেয়ায় প্রবাসীর দোকানঘর দখল করলো শওকত গং

 

 

কালীগঞ্জ ( গাজীপুর) প্রতিনিধি

কাঙ্খিত চাঁদা না দেয়ায় প্রবাসীর দোকানঘর দখল করার অভিযোগ রয়েছে শওকত গংয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গাজীপুর বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন প্রবাসীর মা রাহেলা বেগম। সি আর মোকাদ্দমা নং ২১৮/২৬

ঘটনাটি ঘটেছে আশুলিয়া থানার জিরানীর মুসলিমটেক এলাকায়।

 

গত রোববার বিকেলে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় তিনটি দোকানের মধ্যে নানা ভাই টেইলার্স এন্ড ফেব্রিক দোকানটি খোলা রয়েছে। বাকী দুটি দোকান তালাবদ্ধ।

দোকানদার সোহেল রানা জানায়, সে দোকানের ভাড়া শওকতকে দেয়।

দোকানের পিছনে গিয়ে দেখা যায় নির্মাণ সামগ্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। নির্মাণ সামগ্রী ইট, বালি, সিমেন্ট নষ্ট হচ্ছে।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে দীর্ঘ দিন তিন দোকানের ভাড়া নেন প্রবাসী মাসুম পারভেজ। ইট, বালি ও সিমেন্ট এনে দোকানের পিছনে নতুন স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয় তার পরিবার। গত ১০/৪/২৬ তারিখে বেআইনিভাবে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে স্থানীয় শওকত, নাহিদ মোল্লা ও আলমগীর নির্মাণ কাজে বাঁধা প্রদান করে। তারা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বন্ধ করে দেয় কাজ। প্রবাসীর মা রাহেলা বেগম ন্যায়সঙ্গত প্রতিবাদ করলে তাকে কিল, ঘুষি মেরে শারীরিক নির্যাতন করে তারা। ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে নির্মাণ কাজ করতে দিবে না বলে তারা হুমকি প্রদান করেন। পাশাপাশি নির্মাণ কাজের ওয়াল ভেঙে সিমেন্ট বালি নষ্ট করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। পরবর্তীতে বিবাদীগণ ভয়ভীতি ও বাদিনীর ভাড়াটিয়া দোকানদারদের হুমকি দিয়ে তিনটি দোকানঘর তালা লাগিয়ে দখল করে নেয়। পরে গত ১৬/৪/২৬ তারিখে রাহেলা বেগম বাদী হয়ে গাজীপুর বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী) আদালতে তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি তদন্ত করে কাশিমপুর থানাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

গত ২/৯/২৬ তারিখে তদন্ত কর্মকর্তা কাশিমপুর থানার এসআই মো.রাশেদুল হক সরকার আদালতে পাঠানো তাঁর প্রতিবেদনে বিবাদী মো.শওকত এর সম্পর্কে উল্লেখ করেন বাদিনীর ছেলে মাসুম পারভেজ এর ৮.২৫ শতাংশ জমি হতে ৩ শতাংশ জমি ৩ টি দোকান দখল করে নেয় । সে প্রায় ১ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতি মাসে ৯ হাজার টাকা ভাড়া বাবদ উত্তোলন করছে । শওকত তার দাবিকৃত ও দখল নেয়া জমির কোনো কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি।

 

পরে গত ২৪/৯/২৬ তারিখে আসামিগণের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। গত ২৮/৯/২৬ তারিখে নিম্ন আদালতে আসামিগণ স্বেচ্ছায় আত্নসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত আসামিগণের জামিন ধার্য্য তারিখ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করে।

জামিন পেয়ে বাদিনীর সাথে বিবাদীগণ বেপরোয়া আচরণ করতে থাকে এবং মামলা তুলে নেয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

বাদী রাহেলা বেগম বলেন, আসামিরা জামিন পেয়ে অনবরত তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীতায় ভুগছেন। এখনও দখলকৃত দোকান বুঝে পাইনি। কাজের জন্যে আনা নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। তিনটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এই সম্পত্তি কিনেছি। এখন ঋণের কিস্তি দিতে কষ্ট হচ্ছে।

 

এই সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযুক্ত মো.শওকত এর মোবাইল ফোনে যোগাগোগ করলে তিনি সাক্ষাতে কথা বলার জন্য বলেন। এছাড়া তিনি কোনো বক্তব্য দিবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!
;