সর্বশেষ :
;
Home / সারাদেশ / অস্ত্র বানাও, মার্ডার হলে আমি দেখব: চেয়ারম্যানের বক্তব্যকে অপপ্রচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন

অস্ত্র বানাও, মার্ডার হলে আমি দেখব: চেয়ারম্যানের বক্তব্যকে অপপ্রচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন

 

 

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

অস্ত্র বানাও, মার্ডার হলে আমি দেখব এমন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ভিডিওটি সম্পাদনা ও বিকৃত করে প্রচারের দাবি করেছেন ফরিদপুরের সালথার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মোল্লা ওরফে রফিক মোল্লা। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

 

চেয়ারম্যান বলেন, সম্প্রতি যদুনন্দী ইউনিয়নের উজিরপুর বাজারে একটি সভায় তাঁর দেওয়া বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই ভিডিওর ভিত্তিতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে তাঁকে সমর্থকদের অস্ত্র তৈরির নির্দেশ এবং হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

 

রফিক মোল্লার দাবি, বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন ভিডিও ও তথ্য ছড়িয়ে তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। ভিডিওটির উৎস, ধারণের সময়, সম্পাদনা এবং বক্তব্যের আগে-পরে কী বলা হয়েছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

 

বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানান চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া কোনো ভিডিও বা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার না করার আহ্বান জানান তিনি।

 

এদিকে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক দাবি করে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার খারদিয়া কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

 

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন যদুনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান হুমায়ুন খান, স্থানীয় সমাজসেবক ইলিয়াস কাজী, ইউনুস মাতুব্বর, তারা মিয়া, মুক্তার ফকির, জালাল শিকদার, আজাদ ঠাকুর, নুরু মোল্লা ও তৃষ্ণা আক্তারসহ স্থানীয়রা।

 

মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, চেয়ারম্যানের বক্তব্যের ভিডিও খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতেই তাঁরা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

 

রফিকুল ইসলাম মোল্লা সালথার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রামের মেসের খানের ছেলে। তাঁর বয়স ৫৫ বছর। দীর্ঘ ২২ বছর বিদেশে থাকার পর ২০২০ সালে তিনি দেশে ফেরেন। ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রব মোল্লাকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে হত্যা সহ ১৭ মামলা হয়েছিল; বর্তমানে দুটি মামলা চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!
;