সর্বশেষ :
Home / সারাদেশ / জলঢাকায় প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল পেয়ে আনন্দিত শিক্ষক শিক্ষার্থী

জলঢাকায় প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল পেয়ে আনন্দিত শিক্ষক শিক্ষার্থী

 

নীলফামারী প্রতিনিধি

 

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর নীলফামারীর জলঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে শিক্ষক  শিক্ষার্থীরা। কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেছে, কেউবা শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

 

শিক্ষার্থীদের সাফল্যে আনন্দিত হয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।  পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের

 

এদিকে এসএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্যের ধারা এবারও ধরে রেখেছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের কৈমারী স্কুল এন্ড কলেজ, শৌলমারী ইউনিয়নের গোপালঝার উচ্চ বিদ্যালয়।

 

এবারের এসএসসি  পরীক্ষায় কৈমারী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে অংশ নেওয়া ২৩৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৮৬ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয় এ গ্রেড নিয়ে । তাদের মধ্যে ১৬ জন পেয়েছে জিপিএ- ৫। এমন ফলাফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বইছে আনন্দের আমেজ।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ২৩৬ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহন করেন। পাশ করেন১৮৬ জন।তার মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৬ জন। পাশের হার ৭৮.৮১℅।

 

প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আইনুন নাহার বলেন, শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষকদের নিবেদিত প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

 

প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সামশুজ্জামান সামু কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ অর্জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের ফল। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পরিচালনা পর্ষদ সবসময় শিক্ষকদের পাশে থাকবে।

 

তিনি আরও বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সার্থকতা শুধু ভালো ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; জ্ঞান, নীতি-নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তোলাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। কৈমারী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের নেতৃত্বে ভূমিকা রাখবে—এটাই তাদের প্রতি প্রত্যাশা। তিনি আরও বলেন, আধুনিক বিশ্বে সফল হতে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জন জরুরি।

 

এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কৈমারীর  শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই ছিল এ বিদ্যাপীঠের লক্ষ্য। বর্তমান সাফল্য সেই স্বপ্নপূরণের পথে বড় অনুপ্রেরণা। শিক্ষার মানোন্নয়নে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

 

এক শিক্ষার্থী ফল পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘এই ফলের জন্য আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো ফল পেয়েছি। এই ফলে আমি যেমন খুশি, আমার পরিবারও তেমনি আনন্দিত। আশা করি, এই অর্জন আমাকে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেবে।’

 

একই প্রতিষ্ঠানের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষার প্রশ্ন অনেক কঠিন ছিল। তাই এত ভালো ফল হবে, সেটা আশা করিনি। ফল পেয়ে আমি অনেক খুশি। এখন সামনে আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।’ শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, ফল প্রকাশের পর অনেক অভিভাবককেও সন্তানদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেখা যায়। তাঁদের অনেকেই শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষকদের অবদানের কথা তুলে ধরেন।

 

এক অভিভাবক  বলেন, ‘আমার ছেলে গোল্ডেন জিপিএ–৫ পেয়েছে। তার ফলে আমরা খুবই আনন্দিত। এই সাফল্যের পেছনে তার নিজের পরিশ্রম যেমন রয়েছে, তেমনি স্কুলের শিক্ষকদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’

 

এদিকে এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬এ শৌলমারী ইউনিয়নের আনছারহাট গোপালঝার উচ্চ বিদ্যালয়ে-এর ফলাফলে কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। এ বিদ্যালয়েও একই ধরনের আনন্দঘন পরিবেশ দেখা যায়। ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে, ছবি তুলছে এবং নিজেদের অর্জন উদ্‌যাপন করছে।

 

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে মোট ১৯১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৬২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮৫.৭১℅। এছাড়া মোট ৬৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

 

কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হামিদুর রহমান জানান এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নীলফামারী জেলা ও জলঢাকা জুড়ে সুনাম ও জনপ্রিয়তা অর্জন করে আসছে।

 

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী, বলেন পরীক্ষার প্রশ্ন অনেক কঠিন ছিল। বিশেষ করে উচ্চতর গণিত পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। সব মিলিয়ে আমি যে ফল আশা করেছিলাম, তার চেয়েও ভালো ফল পেয়েছি। এতে আমি খুবই আনন্দিত।’

 

আরেক শিক্ষার্থী   বলেন, ‘আমাদের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা সব সময় আমাদের পাশে ছিলেন। তাঁদের সহযোগিতা ও উৎসাহের কারণেই আমরা ভালো ফল করতে পেরেছি। এই ফলকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার চেষ্টা করব। জীবনে যে স্বপ্ন দেখি, সেই স্বপ্নের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!