সর্বশেষ :
Home / লিড নিউজ / আট বছরেও যুবলীগ সভাপতি রফিক হত্যার বিচার হয়নি

আট বছরেও যুবলীগ সভাপতি রফিক হত্যার বিচার হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি রফিকুল
ইসলাম রফিকের হত্যার বিচার হয়নি ৮ বছেরও। তার স্ত্রী সন্তান
ভাই তারা দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচার পায়নি। ২০১৫ সালের ২১
আগষ্ট চন্দ্রা এলাকায় দলীয় কর্মসুচিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক
মন্ত্রীর শোক সভার একটি অনুষ্ঠানের পাশেই দলীয় নেতাকমর্ীর
হাতে খুন হন এ যুবলীগ নেতা রফিক। দীর্ঘ ৮ বছরে মামলাটি
নানা নাটকিয়তায় একাধিক চার্জসিট দেওয়ার পরও মামলাটি
আলোর মুখ দেখেনি।
নিহতের পরিবার ও দলীয় নেতাকমর্ীরা জানান,উপজেলা
আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ২০১৫ সালের ২১ আগষ্ট চন্দ্রা এলাকার
কলেজ মাঠে দলীয় শোক সভার কর্মসুচি চলছিল। এ যুবলীগ
নেতা রফিক বক্তব্য শেষে চন্দ্রা কলেজ মাঠ থেকে নেমে চা পান
করতে কলেজের পশ্চিম পাশের একটি দোকানে যান। এ সময়
প্রতিপক্ষ দরীয় কমর্ীরা তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে।
ওই ঘটনার দুইদিন পর রফিকুল ইসলামের বড় ভাই
মামুন সিরাজুল মজিদ ওরফে মোতালেব কালিয়াকৈর থানায়
আকরব আলী, খাত্তাব মোল্লাহসহ ১০জন আওয়ামী লীগের
নেতাকমর্ীর নামে একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু এই
মামলার এজাহার বাদী একাধিকবার পরিবর্তন করে তৎকালিন
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিমসহ একাধিক
নেতার নামে আরেকটি এজাহার দায়ের করেন। বাদীর
একাধিক এজাহার নিয়ে মামলাটি ডিবি পুলিশ,
সিআইডি ও পিবিআই সদস্যরা তদন্তে নামেন। এ নিয়ে
প্রথমে ডিবি পুলিশ আদালতে একটি চার্জশিট দিলে
বাদী না রাজি দেন। এর পর সিআইডিকে আদালত তদন্তের
নির্দেশ দেন। সিআইডির তদন্ত কর্মকতার্রা কালিয়াকৈর
পৌর ছাত্রলীগের তৎকালিন সাধারণ সম্পাদক খাত্তাব
মোল্লাকে প্রধান আসামী করে প্রায় ৩৫ জনের নামে
আরেকটি চার্জশিট আদালতে জমা দেন। এতেও বাদী না
রাজি দিলে সর্বশেষ ২০১৭ সালের শেষের দিকে পিআইবি তদন্ত
করে কালিয়াকৈর পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খাত্তাব
মোল্লাকে প্রধান আসামী করে একটি চার্জশিট আদালতে
জমা দেন।
নিহতের বড় ভাই মামুন সিরাজুল মজিদ ওরফে মোতালেব
বলেন,আমার ছোট ভাই দলীয় কর্মসুচিতে গিয়ে খুন
হয়েছেন। আমার ভাই রফিক খুনের ২দিন পর আকবর আলীসহ
১০জনের নামে একটি এজাহার দেই। কিন্তু সেই এজাহারের
তদন্ত না করেই সর্ব শেষ পিবিআই তদন্ত কর্মকতার্ খাত্তাব
মোল্লাকে প্রধান আসামী করে ৪৫ জনের নামে একটি
চার্জশীট দেন। কিন্তু প্রথম মুল এজাহারের উল্লেখিত
একজন বাদে সবার নাম বাদ দিয়ে পিবিআই চার্জশীট
দেওয়াতে আমরা রফিক পরিবারের সদস্যরা মর্মাহত হয়েছি।
উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম
জানান, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রফিকুল ইসলামকে যারা হত্যা
করেছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সবোর্চ্চ শাস্তি
দেওয়ার দাবী জানাই।
রফিক হত্যা মামলার বাদীর পক্ষের আইনজীবি মোঃ
সোহরাব হোসেন জানান, মামলাটি দীর্ঘদিনের। সরকার দলীয়
লোক সঠিক তদারকির অভাবে মামলাটি দ্রুত শেষ হচ্ছে না। তবে
আদালতে মামলাটি চলমান। সাক্ষী হয়ে গেলে মামলাটির
বিচারকার্য শুরু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!