নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় রোববার ও সোমবার দুই দিনে পৃথক দুই এলাকায় পোশাক তৈরির
কারখানায় শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবীতে বিক্ষোভের ঘটনায় ২৪ শ্রমিককে আটক করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এঘটনায়
আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা ইকোনিক্স নামক কারখানার নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগে ১৮ ও কোকোলা ফুড প্রোডাক্ট কারখানায় ৬ জনকে আটক করেছেন। কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ২৪ শ্রমিকের আটক কথা শিকার করেন ।তবে ২৪ জনের মধ্যে ৬ জনের নাম ঠিকানা পাওয়া গেছে । ছয় আটক শ্রমিক হলেন সুনামগঞ্জের র্ধমপাশা উপজেলার রফিক মিয়ার ছেলে শাকিল(২০)ও একই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে মোবারক)২০),গাইবান্ধা সদর এলাকার আব্দুল গনির ছেলে নাজমুল মিয়া(২০),শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার ইব্রাহিমের ছেলে খোকন হোসেন(২১),টাঙ্গাইলের বাসাইল থানার কৃষ্ণ রাজবংশির ছেলে উজ্জল রাজবংশি(২১) ও একই জেলার গোপালপুর উপজেলার আব্দুল হালিমের ছেলে সোহাগ মিয়া(২৩) ।
পুলিশ ও শ্রমিকরা জানান, কালিয়াকৈরের মৌচাকের দোকানপার এলাকার
কোকোলা ফুড প্রোডাক কারখানায় প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক কাজ করে আসছে। বিগত দিনে সরকার সারা দেশে সকল শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ নানা দাবি মেনে নিলেও ওই কারখানার শ্রমিকদের এখনো কোনো বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি। বেতন বৃদ্ধিও দাবীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নুন্যতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা,হাজিরা বোনাস ৮০০ টাকা,সাধারন ও বাৎসরিক ছুটিসহ ১২ দফা দাবিতে শ্রমিকরা কাজে যোগদান না করে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানার পাশে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর চালায়। সড়ক অবরোধের ফলে সড়কের ওই ¯’ানের দুইপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রী ও পথচারীরা। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী,পুলিশ সদস্যরা ঘটনা¯’লে গিয়ে শ্রমিকদেও সাথে কথা বলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে পুলিশ মালিক পক্ষের সাথে বসে পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের
দাবি পুরনের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা শান্ত হয়ে কাজে যোগদান করেন। কিন্তু ফের সোমবার সকালে কোকোলা কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলনে জড়িয়ে পরে।
অপরদিকে উপজেলার হরতুকিতলা এলাকার ইকোনিক্স লিমিটেড নামক পোশাক কারখানার শ্রমিকরা গত বৃহস্পতিবার থেকে বেতন বৃদ্ধিসহ কয়েক দফা দাবিতে কারখানায় কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করে। এসময় কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদেও বঝুানোর চেষ্টা করলেও তারা না বুঝে আন্দোলন চালিয়ে যায়। এসময় তারা কারখানার কয়েকজন কর্মকর্তাকে মারধর করেন। রোববার সকাল থেকে শ্রমিকরা পুনরায় কারখানায় প্রবেশ করে আন্দোলন করতে থাকে। কালিয়াকৈর থানা পুলিশ,
শিল্প পুলিশ এবং কারখানার ব্যাবস্থাপক কাজী আরহাফ উপস্থিত থেকে শ্রমিকদেও দাবি নিয়ে আলোচনা করেন। পুলিশের উপস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আহ্বানের পরও কিছু শ্রমিক নতুন দাবি তুলতে থাকে এবং কর্মবিরতি চালিয়ে যায়। এসময় উত্তেজিত কিছু শ্রমিক আন্দোলনে যোগ না দেওয়ার অভিযোগে কয়েকজন শ্রমিককে মারধর করে। এসময় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় ১০-১২ জন শ্রমিক আহত হন। এসময় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা উত্তেজিত ১৮ জন শ্রমিককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।সোমবারে কোকোলা ফুড প্রোডাক্ট কারখানা থেকে আরো ৬জনকে আটক করা হয় ।
কালিয়াকৈর থানার পরিদর্শক অপারেশন মোঃ জোবায়ের বলেন, হরতুকিতলা এলাকায় ইকোনিক্স কারখানায় বেতন বৃদ্ধিসহ কয়েকদফা দাবিতে বিক্ষোভ করে। এসময় শ্রমিকদের মধ্যে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ১৮ জন ও কোকোলা থেকে ৬ শ্রমিককে আটক
করা হয়
projonmo21.com Popular bangla online newsportal