নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুরের খাজার ডেক এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে বন কর্মচারী ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় উভয় গ্রুপের মধ্যে কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে বন কর্মচারী মোঃ তোফাজ্জল হোসেন,মোহাম্মদ আলী, মোঃ আলাউদ্দিন, জামাল হোসেন, জহিরুল ইসলাম,
মামুন হোসেন, মোঃ আলী হোসেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেছেন। অপরদিকে গ্রামবাসীর মধ্যে তিন নারী স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রামবাসী কালিয়াকৈর থানার বন কর্মচারীদের নামে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। বন কর্মচারীদের নিযার্তনের বিষয়টি নিয়ে দুপুরের দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কাওসার আহাম্মেদ এর কাছে নালিশ দিয়েছেন বলে গ্রামবাসী জানান।
পুলিশ,বন কর্মকর্তা ও গ্রামবাসীরা জানান,কালিয়াকৈর পৌরসভার একটি সড়ক দুই পাশে প্রস্ততকরণের কারনে খাজার ডেক এলাকায় কয়েকটি দোকান ও বাড়ী ছোট হয়ে যায়। ওই সব দোকান বনের জমিতে পড়ায় বনকর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়াই বৃহস্পতিবার সকালে বনের জমি দখন করে দোকান ও ঘর মেরামতের কাজ শুরু
করেন কয়েকজন গ্রামবাসী। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর চন্দ্রা বীট অফিসেরক র্মচারীরা সেখানে যান। পরে নির্মাণ কাজে বাধা দিলে নির্মাণাধীন বাড়ীর গুলো কজনের সাথে হাতাহাতি হয়। এ খবর কালামপুর গ্রামের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে শতাধিক গ্রামবাসী জড়ো হয়ে বন কর্মচারীর উপর হামলা করে। গ্রামবাসীর হামলায় চন্দ্রা বীট অফিসের সাত কর্মচারী আহত হয়। এসময় গ্রামবাসীর মধ্যে
তিন নারীও আহত হয়। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর রেঞ্জ অফিস থেকে অতিরিক্ত কর্মকহর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।
গ্রামবাসী দীলিপ বর্মন, রাম বাব, মেঘলাল বর্মন বলেন,চন্দ্রা বীট অফিসের কর্মচারী তোফাজ্জল হোসেনকে আগে ৩লাখ টাকা দেওয়া হয়। যাতে সড়ক নির্মাণকাজে ভাঙা পড়া দোকানপাঠ আবার করা যায়। কিন্তু‘ ভাঙা পড়া দোকানপাঠ সকালে নির্মাণ কাজ শুরু করলে আবারও মোটা অংকের টাকা দাবী করে এ কর্মকর্তা। এসময় বন কর্মচারীদের দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করলে ৮-৯ জন
বন কর্মচারী কাজে বাধা দেয়। এসময় বন কর্মচারীরা দুইজন নারী গ্রামবাসীকে মারধর করেন।
অভিযুক্ত চন্দ্রা বীট কর্মচারী মোঃ তোফাজ্জল হোসেন আহত থাকায় তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাকে একটি ক্ষুদে বার্তা দিলেও কোন উত্তর মিলে নাই।
পৌরসভার ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ আবুল কাশেম বলেন, খাজার ডেক এলাকায় একটি সড়ক পৌর কর্তৃপক্ষ দুই পাশে দোকানপাট ও ঘরবাড়ী ভেঙ্গে বড় করেন। ওই সড়কের দুই পাশে ভাঙ্গা পড়া দোকানপাট ও ঘরবাড়ী বৃহস্পতিবার সকালে
দোকানপাটের মালিকরা পূনরায় মেরামত কাজ শুরু করেন। পরে বন কর্মকর্তারা এসে তা ভাংতে শূরু করেন। এসময় ক্ষুব্দ গ্রামবাসীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
কালিয়াকৈর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল করীম বলেন, খাজার ডেক এলাকায় সকালে ৬ নাম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ আবুল কাশেম এর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি সড়কের পাশে বনের জমিতে দোকান নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ায় আমাদের সাত বন কর্মচারীর উপর হামলা করে আহত করে। এ বিষয়ে আমরা বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাইছি। থানায় মামলা দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করা
হচ্ছে।
কালিয়াকৈর থানার ওসি এএফএম নাছিম বলেন, গ্রামবাসীর পক্ষে দীপ্তি রানী বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে বন কর্মকর্তাদের পক্ষে কোন অভিযোগ পাইনি। এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal