সাইফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ঢুকে প্রকাশ্যে সালথা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও একই উপজেলার ভাওয়াল গ্রামের রহমান মুন্সীর ছেলে মো. বাকি বিল্লাহ্কে ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়।
শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে হাসপাতালটির ৫ম তলার সার্জারী ওয়ার্ডে ঢুকে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, মাঝারদিয়া গ্রামে এলাকার প্রভাব বিস্তার নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হামিদের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেক সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাহিদুজ্জামান সাহিদের বিরোধ চলে আসছিল। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে সাহিদের গ্রুপের নেতৃত্ব দেন ইউপি সদস্য কবির হোসেন ও হামিদের গ্রুপের নেতৃত্ব দেন তার ছেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. ফারুক হোসেন।
ওই দুই গ্রুপের মধ্যে চলমান বিরোধের জেরধরে শনিবার বিকেলে উভয় গ্রুপের কয়েকশ লোক দেশীয় অস্ত্র ঢাল, কাতরা, ভেলা ও টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এতে আহতরা ভর্তি হন ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের নতুন ভবনের পাঁচতলায় সার্জারি ওয়ার্ডে। সেখানে সালথা উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর ও বাকি বিল্লাহ আহত লোকজনকে সহযোগিতা এবং তাদের সাথে দেখা করতে শনিবার রাতে হাসপাতালে যান।
এসময় মো. বাকি বিল্লাহ্কে ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়।
রবিবার সালথা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওয়াদুদ মাতুব্বর এসব তথ্য নিশ্চিত করে অবশ্য দাবি করেছেন, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্ব এ হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালে একটি ওয়ার্ডে ঢুকে দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে বাকি বিল্লাহ্কে ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটির অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে অ্যাম্বুলেন্স চালক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো: রাকিব বলেন, শনিবার রাতে তিনি একটি ভাড়া নিয়ে খৃস্টান মিশনে অবস্থানকালে তার স্বজন সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া গ্রামের সাবু তাকে ফোন করেন। তখন তিনি জানতে পারেন- চরকমলাপুরের কিশোর গ্যাং সাবুকে মারার জন্য হাসপাতালের সামনে অবস্থান করছে। একথা শুনে তিনি তার সমিতির কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে যাওয়ার সময় তার সাথে তর্কাতর্কি হয় বাকি বিল্লাহর। এরপর পাঁচতলায় সার্জারি ওয়ার্ডে পৌঁছার পর বাকি বিল্লাহকে দেখে রাকিব বলেন‘হাসপাতালে সবারই চিকিৎসা নেয়ার অধিকার আছে, এখানে কোনো চেয়ারম্যান গোনার টাইম নাই।’ এ নিয়ে এক কথা দু’কথায় তাদের মাঝে তর্কতর্কি হয়।
একথা জানতে পেরে রাকিবের সাথে থাকা অন্যান্য অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা সেখানে পৌঁছালে দুপক্ষের মারামারিতে বাকি বিল্লাহর মাথা ফেটে যায়।
বিষয়টি জানতে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: সালাউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সালথার একটি মারামারির রেশ ধরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরেকটি মারামারির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ঘটনা এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।
প্রসঙ্গত, শনিবার বিকেলে সালথার মাঝারদিয়ায় স্থানীয় প্রভাব বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের ২০ জনকে হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখনা উভয় পক্ষ থেকে কোনো অভিযাগ দেয়নি কেউ। অভিযাগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal