খুলনা প্রতিনিধি-শাহাদাত হোসেন নোবেল
খুলনা দিঘলিয়ার কৃতি সন্তান
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার শীলার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে বদলে যাচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি। থাকবেনা কোনো পতিত জমি। চাষের আওতায় আনতে হবে সকল জমি। পরিশ্রমি হতে হবে কৃষকদের। কৃষকদের উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়ন হবে। তিনি শত ব্যস্ততার মাঝে ছুটে চলেছেন খুলনা অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে। কৃষি মেলা, কৃষক মেলা, কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিসহ নানা কর্মসূচি নিয়ে ছুটছেন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায়। তিনি কর্মহীন শ্রমিকদের পেশা পরিবর্তনে আগ্রহী ও উপযোগী করে কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়ে এ অঞ্চলের কৃষকদের সমিতির আওতায় এনে প্রশিক্ষণ ও সেচ প্রকল্পের আওতায় এনে বহুমূখী ফসল উৎপাদনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের স্বপ্নকে সামনে নিয়ে এ অঞ্চলের এক ঝাক প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ছুটছেন চূড়ান্ত গন্তব্যের দিকে।
তারই আন্তরিক প্রচেষ্টায় কৃষকের পুনর্বাসন ও প্রণোদনা, ফসল উৎপাদন এবং তদারকি বাড়ায় বর্তমানে চাহিদার অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন খুলনার কৃষকেরা। জেলার ৯ উপজেলার উৎপাদিত শাকসবজি দেশের বিভিন্ন জেলায় শহরে শহরে সরবরাহ করছে পাইকারি সবজি ব্যবসায়ীরা।

এই অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনকে কেন্দ্র করে খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক ভিলেজ মার্কেট। যেখান থেকে কৃষকের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রণালয় উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে বহুমুখী ফসল উৎপাদনের লক্ষে কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করায় এর সুফল পাচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। ফলে খুলনার বিভিন্ন উপজেলায় খালে-বিলে নারী কৃষকের চালে মৎস্যঘেরের বেড়িতে শোভা পাচ্ছে লাউ, করলা, ঢেঁড়স, বরবটি, গেমিকুমড়া, উচ্ছে, ঝিঙে, কুমড়া, সিম পেঁপে, শসা, পুঁইশাক, ক্ষিরাই, লালশাকসহ নানা ধরনের সবজি।
কৃষি প্রকল্পের নানা মৌসুমভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও বিনা মূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করে কৃষকদের প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। ফলে রবি মৌসুমে আলু, মিষ্টি আলু, গম, ভুট্টা, মসুর, মুগ, খেসারী, মটর, অড়হর, মাসকলাই, সরিষা, আখ, পেঁয়াজ, রসুন, ধনে, মরিচ, তরমুজসহ শীতকালীন শাকসবজির উৎপাদন গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
খুলনার কৃষকেরা এ অঞ্চলের পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়ায় দীর্ঘদিনের খাদ্য সংকট কাটিয়ে উঠে এখন নিজেরাই নিজেদের পুষ্টি ও খাদ্য তৈরি করার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করছেন।
উল্লেখ্য খুলনার বটিয়াঘাটা, দিঘলিয়া, রূপসা, কয়রা, পাইকগাছা ও তালা উপজেলার কৃষকরা কৃষিবিপ্লব ঘটিয়েছেন। তারা এক ফসলি জমিকে এখন বহু ফসলি জমিতে রূপান্তরিত করেছেন। ফলে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন খুলনাঞ্চলের কৃষকরা।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, গত পাঁচ বছর ধরে খুলনায় রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদন হচ্ছে। বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও কীটপতঙ্গের আঘাতে বিপর্যয় কাটিয়েও খুলনার কৃষক খাদ্যশস্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্যভাবে সফল হয়েছেন।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal