হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান
নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকায় শীত শেষ হতেই বেড়েছে মশার উপদ্রব দিনে কিছুটা কম থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ জলঢাকা উপজেলার বাসিন্দার। সন্ধ্যা হলেই মশারি কিংবা কয়েল ছাড়া থাকা
কঠিন হয়ে পড়েছে। মশার কামড়ে বেশি ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী, শিশু ও বৃদ্ধরা। এতে বিঘ্ন ঘটছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। পৌরসভার বাসিরা বলছেন, যত্রতত্র আবর্জনার
স্তূপ, নালার (ড্রেন) পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া ও নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম না থাকায় মশার
উপদ্রব বেড়েছে। মশার বংশবিস্তার রোধে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, মশা নিধনের যন্ত্র নষ্ট থাকায় মশা নিধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিন পৌর শহর সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ঝোপঝাড়, জঙ্গল, ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় মশার উপদ্রব বাড়ছে। পৌরসভা সহ উপজেলার ইউনিয়ন সমুহের অধিকাংশ ড্রেনগুলোতে পানিপ্রবাহ নেই। ময়লা আবর্জনায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ড্রেনে জমে থাকা পানি থেকে জন্ম নিচ্ছে মশা। মশার কামড়ে সাধারণ মানুষ অস্বস্তির মধ্যে রয়েছেন। মশার আক্রমণ থেকে বাঁচতে পৌর সহ উপজেলা বাসীকে সন্ধ্যা থেকেই কয়েল বা স্প্রে করে ঘরের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। সব চেয়ে বেশি বিপাকে রয়েছেন শিক্ষার্থী, শিশু ও বৃদ্ধরা।
পৌর শহরের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মমিনুর রহমান বলেন, মশা নিয়ে তাঁরা খুব বিপদে আছেন। সন্ধ্যার পরেই মশার উৎপাত বেড়ে যায়। তাঁদের এলাকার অনেক স্থানেই ঝোপ-জঙ্গল রয়েছে। ফলে মশার বংশবিস্তার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা শিবানী বলেন, মশার উৎপাত অতিরিক্ত। সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয়, ভোর রাতে বেড়ে যায় কয়েক গুন। কয়েল জ্বালিয়েও ঘরে থাকা যায় না। মশার উৎপাত কমাতে হলে পৌর শহরের মধ্যে প্রথমত ড্রেন পরিষ্কার করতে হবে, ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করতে হবে। তা না হলে মশার হাত থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব না।
উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল টগড়ার বাজার এলাকার ব্যাবসায়ী নিত্যান্দ রায় বলেন, বর্তমানে মশার উপদ্রব অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সন্ধ্যার সময় কয়েল বা স্প্রে প্রয়োগ করেও ঘরে বা দোকানে টেকা যায় না। মশার কামড়ে অনেক রোগ হচ্ছে। সম্প্রতি মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হচ্ছে ড্রেনে জলাবদ্ধতা আর যত্রতত্র ময়লা ফেলা। মশার বংশবিস্তার কমাতে উপজেলা কর্তৃপক্ষের মশা নিধন কার্যক্রম শুরু করা উচিত।
জলঢাকা পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র রনজিৎ কুমার রায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, পৌরসভার মশা নিধনে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal