হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান
জলঢাকা নীলফামারী প্রতিনিধি
দিনে সূর্যালোকের দেখা না পেলেও জীবনযাত্রা স্বাভাবিক না থাকলেও সারাদিন ঘন কুয়াশায় ছেয়ে যাচ্ছে চারপাশ। সারাদিন গাছের পাতা নিঙ্গড়ে টিনের চালে পড়া শিশির বিন্দুর টিপটপ শব্দ জানান দিচ্ছে হাড় কাপানো শীতের বার্তা। উত্তরের জেলা নীলফামারীর জলঢাকায় হাড় কাপানো শীতের চিত্র এটি। দিনের তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ায় মানুষ উষ্ণ গড়ম কাপড় পরিধান করছে, আর খরকুঠো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে অসহায় দারিদ্র মানুষ ।।
আবহাওয়া অফিস সুত্র জানায়, তাপ মাত্রা কমে এ জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শীতের স্বাভাবিক নিয়মে আগামীতে তাপমাত্রা আরও হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অফিস । সঙ্গে বাড়ছে কুয়াশার ঘনত্ব।
এদিকে, শীতের আগমনে লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ধনুকররা। আর গরম পোশাক সংগ্রহে ভ্রাম্যমাণ ও ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকান গুলোতে ভিড় করছেন সব শ্রেনীর মানুষ।
উপজেলার ডাউয়াবারী ইউনিয়নের দিনমজুর মোহাম্মদ সিরাজ(৫৫) জানান, গরমের দিন আমাদের জন্য ভালো। শীত আসলেই নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। শীতবস্ত্রের অভাবে যেমন কষ্ট পেতে হয়, তেমনি এই মৌসুমে মাঠে কাজ করে রোজগার করা তাদের জন্য আরও বেশি কষ্টদায়ক।
চরভরট এলাকার আলম (৪৫)বলেন, বেশী ঠান্ডা পরির লাগছে । হামার গরমের দিনে ভালো। ঠান্ডা আসলে গরম কাপড়ের কষ্ট, কামাই (রোজগার) করি খাওয়াও কষ্টের।
উপজেলার চরাঞ্চলেও জেঁকে বসেছে শীত।
রাতে ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন থাকলেও দিনের জীবনযাত্রা অস্বাভাবিক বলে জানান উপজেলার ডাউয়াবারী ইউনিয়নের চর ভরট এলাকার বাসিন্দা বকুল মেকার (৪৩)।
তিস্তা নদীর চরের বাসিন্দা ও পেশায় মেকানিক বকুল ( ৩৫) বলেন, ‘তাপমাত্রা অনেকটা কমে আসলেও এবার বেশী শীত পড়তে শুরু করেছে । রাতে চারপাশ কুয়াশায় ঢেকে গেলেও ঠান্ডা ও শীত পরছে । চরের জীবযাত্রা এখন বিপর্যয় নেমে এসেছে। এবারের শীত মৌসুমে শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় একাধিক শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস । তখন তাপমাত্রা অনেকটাই হ্রাস পেয়ে জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পরার আশঙ্কা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জানান, শীত মোকাবিলায় সরকারিভাবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে
projonmo21.com Popular bangla online newsportal