সর্বশেষ :
;
Home / সারাদেশ / জলঢাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, প্রবেশের রাস্তা নাই !

জলঢাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, প্রবেশের রাস্তা নাই !

 

 

 

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান

 

জলঢাকা নীলফামারী প্রতিনিধি

 

নীলফামারী জলঢাকা উপজেলার শিমুল বাড়ী ইউনিয়নের বালার পুকুরে অবস্থিত বালারপুকুর মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড বিএম কলেজ। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অবকাঠামো সবই আছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। জমির আল দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা করতে হয়। এতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

 

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানাগেছে, এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা নাজির উদ্দিনের উদ্দ্যোগে ২০০৪ সালে নাজির উদ্দিনের উদ্দ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এমপিও ভুক্ত হয় ২০১৯ সালে। প্রতিষ্টান এমপিও ভুক্ত হলেও শিক্ষকদের বেতন এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় তারা মানবেতর জীবন জাপন করছে।

 

এখানে শিক্ষার্থী রয়েছে ১শত ৫০ জন। অধ্যক্ষ সহ শিক্ষক রয়েছেন দশ জন। জমিদাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দিলেও পরবর্তী সময়ে এর আশপাশের জমির মালিকেরা তাঁদের জায়গা না ছাড়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার নির্দিষ্ট কোনো রাস্তা হয়নি।

 

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির চারদিকেই আবাদি জমি। সেখানে ভুট্টা ও আলুর চাষাবাদ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৩০০ গজ দুরে রাস্তা আছে। সেই রাস্তা থেকে প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার কোনো পথ নেই।

দুপুরে বিদ্যালয় ছুটির সময় দেখা গেল, শিক্ষার্থীরা দুই দিকের খেতের আল ধরে সারিবদ্ধভাবে বাড়ি ফিরছে। এ সময় শিক্ষার্থী সাবিনা আক্তার বলেন, এভাবে জমির মাঝ দিয়ে যাতায়াত করতে খুব অসুবিধা হয়। খেতের মধ্যে পড়ে যেতেও হয়। তখন খেতের মালিক রাগ করে।শিক্ষার্থী নাজমা বেগম বলেন,‘শীতে ও গরমে আইল ধরিয়া গেইলেও বর্ষাত স্কুল যাওয়া যায় না। জমিত পানি উঠে। ’বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা বালার পুকুর গ্রামের রশিদ মিয়া বলেন, একটি বিদ্যালয়ে যেতে রাস্তা থাকবে না, তা কেমন করে হয়। এ বিষয়ে সরকারিভাবেই উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ সবাইকে আসতে খুব ভোগান্তি পোহাতে হয়। যেকোনো মালামাল নিয়ে আসা কষ্টকর হয়ে পড়ে। রাস্তা না থাকায় এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে না; বরং দিন দিন কমে যাচ্ছে।

 

বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসায় কষ্ট ও দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠান প্রধান আবুল কাশেম বলেন, ৬ মাস আগে রাস্তা করার জন্য কর্তৃপক্ষ সহ উপজেলা ভুমি কমিশনার বরাবর বহু আবেদন করেছি। তদন্ত হয় কিন্তু ফল হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!
;