সর্বশেষ :
Home / সারাদেশ / পোশাক শ্রমিকরা মারমুখী, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তৃতীয় দিনের মত মহাসড়ক অবরোধ

পোশাক শ্রমিকরা মারমুখী, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তৃতীয় দিনের মত মহাসড়ক অবরোধ

 

দেলোয়ার শিকদার

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি

গত ২৩ তারিখ সোমবার থেকে পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা তাদের ২৩ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চন্দ্রা থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে রাখে।  এ সময় লগোজ বে ফুট সহ প্রায় ৮ থেকে ১০ টি  কারখানার প্রেমিকরা রাস্তায় অবরোধ করে বিক্ষোভ  প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা গাড়ি আটকে ভাঙচুর করার চেষ্টা করলে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ  যৌথভাবে তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করে রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। এর মধ্যে গত ২৪ তারিখ লগোজ কারখানার শ্রমিকেরা দাবি করেন সকাল দশটায়  টিফিনের সময় কারখানার বাইরে চা নাস্তা করতে গেলে বহিরাগতারা এসে তাদের চায়ের কাপ টেনে হেঁচড়ে  ফেলে দেন। এই ঘটনাটি আবার মুঠোফোনে বিভিন্ন শ্রমিক জানার পরে রাস্তায় নেমে ফের বিক্ষোভ করেন। এ সময় কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজ্জাদ আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ  মৌচাকের ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইমরান আহমেদ সহ বিভিন্ন কারখানার কর্তৃপক্ষদের সাথে আলাপ আলোচনা করে শ্রমিকদের শান্ত করে কাজে যোগদান করান। কিন্তু ২৫ তারিখ বুধবার শ্রমিকরা কর্মস্থলে যোগদান করার পর এগারোটা থেকে ফের রাস্তায় নেমে এসে  বিক্ষোভ করেন। এবং রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে শ্রমিকদের  আলাপ-আলোচনা করে ব্যর্থ হলে গাজীপুরে কোনাবাড়ীতে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের  সংঘর্ষ বাধে।এ সময় বেশ কয়েক রাউন টিয়ারগ্যাস  নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। বেলা দুইটার দিকে রাস্তায় যান চলাচলের জন্য কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বেলা তিনটার দিকে শ্রমিকরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে ফের সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে বেলা তিনটার দিকে তারা আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে রাস্তায় নামে। কালিয়াকৈরের সফিপুরে যমুনা গ্রুপের স্পিনিং ডিভিশনের শ্রমিকরা যমুনাস্পিনিং ডিভিশনে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশের একটি বিশেষ দল জল কামান নিয়ে প্রবেশ করে। কারখানায় আন্দোলনরত  ভাঙচুরত শ্রমিকদের লাঠিচার্জ টিয়ার সেল ও জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।  ততক্ষণে যমুনা গ্রুপের স্পিনিং ডিভিশনে ভাঙচুর ও ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় শিল্প পুলিশে নিযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইমরান আহমেদের সাথে তিনি বলেন, যেহেতু মহাসড়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সেখানে শ্রমিকরা অবস্থান করে রাস্তাঘাট যানজটের সৃষ্টি করাতে মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমাদের কিছু কৌশল এপ্লাই করতে হয়েছে সেইসাথে শ্রমিকদের সাথে কথা বলে তাদের শান্ত করে রাজপথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিক্ষোদ্ধ কিছু শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর করার চেষ্টা করেছে তবে বিকেল চারটা নাগাদ পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত রয়েছে এবং এ বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে  সতর্ক নজর রাখছি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!