সর্বশেষ :
Home / সারাদেশ / জলঢাকায বৃদ্ধি পেয়েছে গরু ছাগল চুরি

জলঢাকায বৃদ্ধি পেয়েছে গরু ছাগল চুরি

 

 

 

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান জলঢাকা, নীলফামারী, প্রতিনিধিঃ

 

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে গরু ছাগল চুরির মহোৎসব শুরু হয়েছে।   এই গরু চুরির ইন্ধনদাতা হিসেবে অভিযোগ উঠেছে উক্ত  ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ হোসেন ভেন্ডারের বিরুদ্ধে। এই চুরিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ টি পরিবার।বিগত কয়েক মাসে ওই ইউনিয়ন থেকে প্রায় অর্ধশত গরু ছাগল চুরি হয়েছে।কিন্তু করার কিছুই নেই ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ থানায় একাধিক অভিযোগ লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগীরা।

 

ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর অভিযোগ বর্তমান প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বাড়ি বাড়ি গরু চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

তাদের অভিযোগ চেয়ারম্যানের ইন্ধনে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র গত কয়েক মাসে ১৫টি পরিবারের প্রায় অর্ধশত গরু-ছাগল চুরি করেছে। চুরি হওয়া গরু-ছাগলের বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বলে জানা গেছে।

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ২২জুলাই রাতে রতন কুমার নামে এক খামারীর ৬টি গরু নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চোর চক্র। থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্ত ওই কৃষক।

 

কোরবানি ঈদের আগে অশ্বিনী কুমার রায়ের ৪টি গরু ১টি খাশি, সাইটনালা এলাকার লুৎফর রহমানের ৩টি গরু, বারোগোপাল বাবুপাড়ার মেহেদী হাসানের ৩টি গরু, অজয় কুমারের ১টি গরু, জহিরুল ইসলামের ৪টি গরু, মিন্টু কুমারের ১টি গরু, সোহেল ইসলামের ৩টি গরু এবং পূর্ণ কুমারের গরু চুরি করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ ওই চোরচক্রটি। পরে ওই গরুর মালিকরা দিশেহারা হয়ে থানায় জিডি করতে গেলে মামলার পরামর্শ দেন পুলিশ।

 

সাবেক ইউপি সদস্য মনোরঞ্জন রায়সহ ভুক্তভোগীরা জানায়, প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে একটি চক্র রাতের বেলায় গরু-ছাগল চুরি করে কোনরকমে পাকারাস্তায় এনে পিকাপ অথবা নছিমনে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে। তবে গরুর মালিকরা বেশির ভাগে সংখ্যালঘু হাওয়ায় হেনস্তার ভয়ে ওই প্রভাবশালী ব্যাক্তি সহ সংঘবদ্ধ চোর চক্রটির নাম বলতে রাজি নন। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত গরুর মালিকদের দাবী সংঘবদ্ধ চক্রটির বিরুদ্ধে পুলিশ যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয় ।

 

ইউপি সদস্য মুকুল অধিকারী ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে বলেন, চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে, উনি সকল সদস্যদের ডেকে গরু চুরির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। আলোচনার মাধ্যমে আমরা সিদ্ধান্ত নিবো।

 

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে গরু চুরির সরঞ্জামসহ একজনকে আটক করে থানায় দিয়েছি। আজকেও সন্দেহ জনক চারজনকে আটক করে থানায় জমা দিয়েছি।

 

ইউপি চেয়ারম্যান আহমেদ হোসেন ভেন্ডার বলেন, ওই এলাকার  লোকজন আমাকে দেবতার মতো মানে, এবং আমার বিপক্ষে কিছু লোকজন আছে। তাঁরাই এগুলো ঘটাচ্ছে। ইতিমধ্যে দুজন চোর ধরা পরেছে। আর আমাকে থানার ওসি বলছে চোরদের  আমরা সনাক্ত করবো। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার নামে অভিযোগতো তাঁরা আনতে পারে না। আমি মনে করি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।আমার ইউনিয়নের ৮টি বাড়ির গরু চুরি হয়েছে বলে শুনেছি। আমি শুনার সাথে সাথে ওই এলাকায গেছি।এবং থানা অভিযোগ সহ আইনগত ব্যাবস্থা নিতে বলেছি।

 

এই ঘটনার বিষয়ে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুক্তারুল আলম মুঠোফোনে বলেন, মামলা হয়েছে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!