সাইফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ রিংকুর জিব ছিঁড়ে ফেলার হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী এমপি। সোমবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের ত্রি-বাষিকী সম্মেলনে বক্তৃতাকালে তিনি এই হুমকি দেন।
শামা ওবায়েদকে বেয়াদব আখ্যায়িত করে নিক্সন চৌধুরী বলেন, নগরকান্দার শামা আপা পল্টনের সমাবেশে যেভাবে চিৎকার দেয়, বাবারে বাবা। আপনার (শামা) যতটুকু যোগ্যতা, ততটুকু বলেন। আপনাকে দেখলাম আপনি আমার নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) তুই-তোকারি করছেন। আপনি একজন নারী। আপনার বাবা (মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমান) একজন বড় রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। আপনার পিতারও কিন্তু এই সাহস ছিল না। আপনি তার মেয়ে। ছোট মুখে বড় কথা বলেন। আপনি সাবধান হয়ে যান।
শামাকে হুশিয়ারী করে দিয়ে নিক্সন চৌধুরী আরও বলেন, ভবিষ্যতে যদি নেত্রীকে নিয়ে বেয়াদবি বক্তব্য দেন তাহলে দক্ষিণবঙ্গে আপনাকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করা হবে। বেয়াদব, এমন একটা বেয়াদব আবার নির্বাচন করবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে আমরা লাবু মামার (ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাহবাদব আকবর লাবু চৌধুরী) সাথে আছি। নির্বাচনে এই বেয়াদবকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য আমরা আপনার সঙ্গে থাকব। আগামীতে যদি আমার নেত্রীকে এই বেয়াদব তুই-তোকারি কইরা কথা বলে তাহলে তার জিব টাইনা আমরা ছিঁড়ে ফেলাব।
নিক্সন চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের বলেন, নিক্সন চৌধুরীর অকথ্য ভাষার হুমকিতে আমি ভয় পাই না। গণতন্ত্রের স্বার্থে যতবার হুংকার ছাড়তে হয়, ততবার হুংকার ছেড়ে যাব। তার এমন কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা আমার পছন্দ হয় না। তিনি বলেন, দক্ষিণবঙ্গে শামা ওবায়েদ অবাঞ্চিত ঘোষনা করা নিক্সন কে?। ১৯৭১ সালে দক্ষিণবঙ্গে আমার বাবা (বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমান) মুক্তিযুদ্ধে সংগঠকের ভূমিকায় ছিলেন। তিনি দেশ, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানুষের ভোটাঅধিকার রক্ষার্থে বহুবার হুংকার ছেড়েছেন। আমি তার সন্তান হিসেবে দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে যদি একশবার হুংকার ছাড়তে হয়, ছাড়ব।
সালথায় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ফরিদপুর জেলা যুবলীগের আহবায়ক জিয়াউল হাসান মিঠু। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. খায়রুজ্জামান বাবুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদস সদস্য শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী, সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সুব্রত পাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু মুনির মো. শহীদুল হক রাসেল।
সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী ৬ জন ও সাধারন সম্পাদক প্রার্থী ১১ জন সিভি জমা দেন। সম্মেলন থেকে বর্তমান কমিটি বিলুপ্তী ঘোষনা করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে নতুন কমিটি ঘোষনা ছাড়াই রাত ৯টার দিকে সম্মেলন সমাপ্তী ঘোষনা করা হয়।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal