কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
প্রাথমিক স্কুল শিক্ষার্থীদের মেধা ও শারীরিক বিকাশ এবং দুগ্ধ খামারিদের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার লক্ষ্যে সারাবছর বিনামূল্যে দুধপান করানোর পাইলট কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের ঈশ্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০৫ জন ছাত্রছাত্রীরা দুই বছর বিনামূল্যে প্রতিদিন ২০০মিলি করে দুধ পাবেন। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারী হাসপাতালের আয়োজনে নির্বাচিত বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে স্কুল মিল্ক ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি এমপি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “ প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প(এলডিডিপি)” এর অধীনে শিক্ষার্থীদের মাঝে নিরাপদ ও পুষ্টিকর দুগ্ধজাত পণ্য প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নির্বাচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে প্রতিদিন ২শত মিলি করে দুধ খাওয়ানো হবে। মূলত:একদিকে পুষ্টি চাহিদা মেটাতে এবং অপরদিকে পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ ইউসুফ হাবিব, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাকসুদ-উল-আলম খান মাসুদ, উপজেলা কৃষি অফিসার ফারজানা তাসলিম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এইচ.এম আবু বকর চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক মো.শরীফ হোসেন খান কনক, বাহাদুরসাদী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো.সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
মেহের আফরোজ চুমকি এমপি বলেন, শিশুর জন্মের পর তার পরিবার খুব আনন্দ পায়। প্রতিটি পিতামাতা চায় তাদের সন্তান মানুষের মতো মানুষ হতে। একটি শিশুর মেধা বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবার জরুরি। যেই খাবার খেলে মেধা ভালো থাকে, সেই আদর্শ খাবারের মধ্যে দুধ খুব উল্লেখযোগ্য। শিশুদের মেধা ও স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য বর্তমান সরকার বিনামূল্যে দুধ খাওয়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সেই জন্য সরকার স্কুল মিল্ক ফিডিং পাইলট কর্মসূচি চালু করেছেন। পাইলট কার্যক্রম সফল হলে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ ইউসুফ হাবিব জানান, স্বাস্থ্য সম্মত প্যাকেটে আধুনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষিত এ দুধ শতভাগ নিরাপদ এবং দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াকৃত। প্রক্রিয়াজাত কোম্পানীর ল্যাবে দুধের মান ও নিরাপদ তা পরীক্ষার পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবেও নিয়মিত পরীক্ষা করা হবে। দুর্গম ও দারিদ্র পীড়িত এলাকায় স্কুল নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কর্মসূচির ফলে শিশুদের দুধ পানের আগ্রহ তৈরি হবে, স্বাস্থ্য ভাল ও মেধার বিকাশ ত্বরান্বিত হবে। তেমনি দেশের দুগ্ধ খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন। দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে অধিকতর আগ্রহী হবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal