দেলোয়ার হোসেন সিকদার। কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কাপাসিয়ার আমরাইদ পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে এমন তথ্যচিত্র। এ বৃহৎ পশুর হাট বসবে প্রতি মঙ্গলবার। শুক্রবার থেকে জমবে প্রতিদিন। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে গাজীপুর জেলায় ছোট বড় তিন শতাধিক পশুর হাট বসবে। আয়তন ও আকারে সব চেয়ে বড় পশুর হাট কাপাসিয়ার আমরাইদ।
ঢাকার অতি নিকটে হওয়ায় রাজধানী থেকে অনেকেই কোরবানীর পশু কেনার জন গাজীপুরের এসব বাজারে চলে আসেন। আবার ব্যবসায়ীরাও গাজীপুরের এসব বাজার থেকে গরু কিনে রাজধানী ঢাকার বাজারগুলোতে নিয়ে যান। যাতায়াত খরচ বাঁচাতে গাজীপুরের হাটগুলোকে বেছে নেন অনেকে। ঢাকা কিশোরগজ্ঞ মহাসড়কের শীতলক্ষা ফকির মজনু শাহ সেতু পার হয়ে ৫ কিলোমিটার যেতে না যেতে দূর পাল্লার বাস থেমে যায়। কারণ জানতে চাইলে চৌরাস্তা মোড়ে পশ্চিম কোনায় দোকানদার জানান বাজার থেকে গরু বের হচ্ছে বলে এই অবস্থা। দুপুর থেকে রাত অবধি এমন অবস্থা চলবে বলে জানান দোকানদার সরাফত মোল্লা ।
সরাফত মোল্লা বলেন, প্রতি বছরের মতো ঢাকা কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক ঘেঁষে সড়কে পূর্ব পাশ থেকে শুরু হয় আমরাইদের পশুর হাট। ঠিক মতো হাট জমলে পুরো গ্রামেই গরুর ছাগল, ভেরা, মহিষে ভরপুর থাকে। কাওকে না কাওকে গরু হাতে দেখা যায়। মহিষ ও ছাগল কিছুটা কম দেখা যায়। এছাড়া পাশ্ববর্তী কালিগঞ্জ, মনোহরদী, চালাকচর, শিবপুর, পাগলা, গোসিংগা, পাকুন্দিয়া, গফরগাঁওসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পশু ক্রয় করতে আমরাইদ বাজারে আসতে দেখা গেছে ধর্ম প্রান মুসলমানদের । ছোট ছোট পিকআপ নিয়ে কোরবানীর জন্য পশু কিনতে চলে আসতে দেখা যায় তাঁদের। আমরাইদ বাজারে গিয়ে দেখা হয় লিটন সিকদারের সাথে, তিনি বলেন, আমার দুইটা গরু।
একটা বাহামা আরেকটা সিন্দি। বাহামার ওজন ১০ মন। সিন্দি গরুর ওজন ৮ মন। ৭০০ টাকা কেজি দরে ৪ লাখ টাকায় কিনেছিলাম গরু দুইটা। দৈনিক ১২০০ টাকার খাবার দেই। গরু দুটি এই ঈদে বিক্রি করবো। তিনি বলেন, খাবারের দাম খুব বেশি। নারিশ ফিড ৫০ কেজির এক বস্তা ৩৫০০ টাকা। ভূসি ৩৭ কেজির বস্তা ২২০০ টাকা। ধানের কুড়া কেজি ১৫ টাকা। খৈল কেজি ৫০ টাকা। ভূট্রার ভুসি ২৫ কেজির বস্তা ১১০০ টাকা।এত দাম দিয়ে খাদ্য কিনে গরু লালন পালন করে এই যে দুটি কাঙ্খিত মূল্য না পাই তবে গরু পালনে মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। তাছাড়া যদি ভারতীয় গরু বাংলাদেশের প্রবেশ করতে না পারে তবে তবে খামারিরা ও গরু পালনকারীরা তাদের কাঙ্খিত মূল্য পাবে। টংগী আউচপাড়া গ্রামের আহসান আলী ভূইয়া জানান, আমি এগারোটা গরু কিনবো। আমরাইদ বাজারে এসেছি গরু কিনতে। এই বাজার বড় বাজার। এই খান থেকে গরু কিনে নিলে পোষায়। স্থানীয় আশরাফ হোসেন বলেন, বাজারের শৃংখলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ নিলে সবার উপকার হবে। তা না হলে ঢাকা কিশোরগজ্ঞ সড়ক ও বাজারের আশ পাশে মারাত্বক যানজট লেগে থাকে। এতে যাত্রীরা বেশ অসুবিধায় পড়েন।

ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী নেতা গো খামারি বিশ্বজিত বর্মন বলেন, খামারে অল্প কয়েকটা গরু আছে। গো খাদ্যের দাম খুব বেশি বলে গরু উঠাতে পারছিনা। তবে সবসময় আমরা আমরাইদ বাজারে গরু বিক্রি করি। গো খামারি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গত বছর ৫০ টা গরু বিক্রি করছি। এখন মোটা তাজা করণে আগ্রহ নেই। বেশ কিছু গাভী রয়েছে খামারে। হ্যান্ড শেখ এগ্রো মালিক রুবেল বলেন, গত বছর অনলাইনে শতাধিক গরু বিক্রি করেছি। গো খাদ্যের দাম বাড়ায় খামারে লোকসান হচ্ছে। এবার গরু নেই। আমরাইদ বাজার ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইতিমধ্যে বাজারে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তবে মঙ্গলবার আমরাইদ বাজার। এছাড়াও আগামী শুক্রবার থেকে প্রতিদিন বেচাকেনা শুরু হবে। আমরাইদ বাজারে প্রচুর পশু বেচাকেনা হয়। মানুষ সহজেই ভালো গরু মিলাতে পারে। আমরাইদ বাজার ঢাকা উত্তরের সবচেয়ে বড় বাজার বলে প্রচার রয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের সময় আইনশৃংখলা বাহানীসহ সর্বস্তরের মানুষ ট্রাক ভরে ভরে গরু কিনে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, পশুর হাটে এলাকারবাসীর জীবন মান উন্নত হয়েছে। হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই অঞ্চলের কৃষি পণ্য বিক্রি করে সাবলম্বি হচ্ছে বহু কৃষকেরা। কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার রাশেদুজ্জামান মিয়া জানান, কোরবানীর জন্য কাপাসিয়া উপজেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে ২২৫১৪ টি, খামারীদের কাছে প্রস্তুুত রয়েছে ২১২৯৪ টি। খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়া গো খামারিরা আমার কাছে এসেছে। দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি জমিতে ঘাস লাগানো পরামর্শ দিচ্ছে। খামারিদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশু পালন করে বাজারে বিক্রি করার পরামর্শ দিয়েছি। গাজীপুর জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস এম উকিল উদ্দিন বলেন, জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস জানা যায়, গাজীপুর জেলায় এবার ১ লক্ষ ৭০ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। এর মাঝে প্রস্তুত রয়েছে ৮৫ হাজার ৭৩২ টি। এছাড়া জেলায় ৬২ টি ভেটেরিনারি টিম মাঠে কাজ করবে। তিনি বলেন, গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আমরা কাজ করছি। তাছাড়া স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়ন অগ্রগতিতে আমরা কাজ করছি। আমরা গত বছরের মতো এবছরও ই সেবা দিতে প্রস্তুতি গ্রহন করেছি। প্রানী সম্পদ এর ওয়েভসাইটের মাধ্যমে এ সেবা পাওয়া যাবে
projonmo21.com Popular bangla online newsportal