সর্বশেষ :
Home / সারাদেশ / তিস্তার পানি বৃদ্ধি  পানি নিয়ন্ত্রণে  তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে

তিস্তার পানি বৃদ্ধি  পানি নিয়ন্ত্রণে  তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে

 

 

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান

 

জলঢাকা নীলফামারী প্রতিনিধি

 

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল ও কয়েকদিনের বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায়

 

পানি নিয়ন্ত্রণে ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়া সহ দেখা দিয়েছে তিস্তা নদীর পারের ভাঙন। এতে নীলফামারী জেলার জলঢাকা ও ডিমলা এই দুই উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চল ও তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলের অন্তত কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সোমবার (১৯ জুন) সকাল ৬ টায ডালিয়া তিস্তা নদীর পানি বিপদ সীমার ৭ সেন্টিমিটার উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরে সকাল ৯ টায় নদীর পানি  বিপদ সীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে।

 

রোববার (১৮ জুন) বিকেল ৩টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের  তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৮৭ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হয়েছিল। এতে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে  তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধিতে নীলফামারীর জলঢাকা ও ডিমলা উপজেলার তিস্তার তীরবর্তী  ইউনিয়ন সমুহের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় ওই এলাকার পরিবার  সমুহ পানি বন্দি হয়ে পরেছে। এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শুকনো খাবার  ও স্যানিটেশন সমস্যায় পড়বে হাজারো মানুষ।

 

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দৌলা বলেন, ভারতের উজানে কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বেড়েছে। পানি নিয়ন্ত্রণে ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন,রবিবার বিকেল ৩টায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। রাতে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।

 

এদিকে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ও উজানের ঢলে ধু ধু বালুচর এলাকা এখন পানিতে ভরপুর। তিস্তার চর ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে বাদাম, পাট ও মৌসুমি ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

 

পাউবো ডালিয়া পয়েন্ট সূত্রমতে, রবিবার (১৮জুন) বিকেলে থেকে পানি বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়। সন্ধ্যার পর কিছুটা কমতে শুরু করলে  সোমবার ভোর থেকে আবারও বাড়তে শুরু করে পানি।

 

নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ। চর এলাকায় চাষাবাদের জন্য বসবাসরত লোকজন গ্রাম এলাকায় চলে আসছেন। নৌকায় করে চরের ফসল নিয়ে আসছেন উঁচু এলাকায়।

 

সাইফুন বাজার তিস্তার চর এলকার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কয়দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। কালকেও (গতকাল) পানি বাড়ছিল। আজ আবারও বাড়তে। আমাদের বাদাম, পাটক্ষেত ডুবে গেছে।

 

জলঢাকার গোলমুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর বলেন, রাত থেকে তিস্তায় পানি বাড়ছে। কিছু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে বলে শুনেছি। এলাকা গুলোতে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

 

জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ময়নুল ইসলাম  বলেন, তিস্তায় পানি বেড়েছে। নিচু এলাকায় পানি ঢুকছে। ইউপি চেয়ারম্যানদের তাদের এলাকার খোঁজখবর রাখতে বলা হয়েছে। তবে জরুরি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সজাগ রয়েছি।

 

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী  বলেন,

 

গ্রীষ্ম মৌসুমে তিস্তার বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন ও মেরামত প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে।

 

ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!