সর্বশেষ :
Home / সারাদেশ / সালথায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, গৃহবধূকে উদ্ধার করল পুলিশ

সালথায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, গৃহবধূকে উদ্ধার করল পুলিশ

 

সাইফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সালথায় যৌতুকের দাবিতে আরিফা আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে গৃহবন্দী করে ৫ লাখ টাকা দাবিতে এ নির্যাতন চালায়। খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

রবিবার মধ্যরাতে সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদি গ্রামে গৃহবধূর স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

বর্তমানে ওই গৃহবধূ ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবার থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী গৃহবধুর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে ০৬ মার্চ কাগদি গ্রামের কৃষক মফিজুর শেখের ছেলে হাসান শেখের (২৫) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার বিবিরকান্দি গ্রামের স্কুল শিক্ষক আবুল কাশেম মাতুব্বরের কন্যা আরিফা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ ১ লাখ ২০হাজার টাকা, আড়াই ভরি স্বর্নলংকার ও আসবাবপত্রসহ যৌতুক হিসেবে মেয়ে জামাইকে দেন ওই গৃহবধূর পরিবার। বিয়ের পর থেকেই স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে বিভিন্ন সময় টাকা পয়সা আনার জন্য চাপ দেয়। আরিফা তার বাবার কাছ থেকে কয়েক দফায় কয়েক লাখ টাকা এনে দিয়েছেন। সর্বশেষ রবিবার (০৭ এপ্রিল) রাতে বিদেশ যাওয়ার জন্য স্ত্রী আরিফার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন হাসান ও তার পরিবার। এতে আপত্তি জানালে আরিফার ওপর সবাই মিলে শারীরিক নির্যাতন করে। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এ ঘটনার খবর পেয়ে মেয়েকে উদ্ধারের জন্য আরিফার পিতা সালথা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এর পরই রাতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এভাবেই প্রায় ৩ বছর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে আসছেন আরিফা। তার দেড় বছর বয়সী হাবিবা আক্তার নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরিফা আক্তার বলেন, সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে স্বামীর বাড়ির লোকজনের নির্যাতন সহ্য করেও স্বামীর সংসার করে আসছি। কিন্তু আমার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের অমানবিকতা এবং নির্যাতন মোটেও বন্ধ হয়নি। যৌতুকের জন্য প্রায় সময়ই তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। বিদেশ যাওয়ার নামে ৫ লাখ টাকার জন্য রবিবার রাতেও আমাকে প্রচণ্ডভাবে মারপিট করে বাসায় বন্দী করে রাখে। উপায় না পেয়ে আমি মোবাইলে আমার বাবাকে বিষয়টি জানাই। পরে সালথা থানা পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।

নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে আরিফার স্বামী হাসান শেখ বলেন, বিয়ের সময় মেয়ের বাবার পক্ষ থেকে আমাকে পাকা ঘর সহ বিভিন্ন সামগ্রী দেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এখনো তারা আমাকে তেমন কিছু দেয়নি। এটি সাংসারিক বিষয়। এ অভিযোগ নিয়ে আমার কিছুই বলার নেই।

উদ্ধারকারী অফিসার সালথা থানার এসআই রাকিব ব্যাপারী বলেন, আমরা ওই গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ পেয়ে রাতেই তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শেখ সাদিক বলেন, রবিবার রাতে গৃহবধূকে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে, এমন একটি অভিযোগ পেলে সাথে সাথে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। আরিফা আক্তার তার বাবার সাথে যেতে চাইলে আমরা তার পরিবারের কাছে তাকে হস্তান্তর করি। অভিযোগের বিষয়টি আইনগত প্রাক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!