নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের বেড়াতে গিয়ে সমুদ্র সৈকতের জোয়ারের পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর শুক্রবার সকালে লাশ হয়ে বাড়ীতে ফিরল কালিয়াকৈরের কলেজ শিক্ষার্থী হিমেল। গত মঙ্গলবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজারের লাবনী বিচে সমুদ্রের পানিতে গোসল করতে নেমে নিখেঁাজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে বঁাকখালী এলাকা থেকে হিমেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত হিমেল হোসেন(২২) গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মাঝুখান এলাকার আক্কাস হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।

নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়,ঈদের পর দিন গত রোববার হিমেল, পাপ্পু ও আরমান তিন বন্ধু কক্সবাজার বেড়াতে যায়। গত মঙ্গলবার বিকেলে কক্সবাজারের লাবনী বিচে গোলস করতে সমুদ্রের পানিতে নামে হিমেল ও পাপ্পু। অপর বন্ধু আরমান টানে দাড়িয়ে থাকে। গোসল করার এক পর্যায় জোয়ারের পানির প্রচন্ড ঢেউ হিমেল হোসেন ও পাপ্পু মিয়াকে অনেক নিয়ে গেলে তাদের দুজনকে আর দেখা যায় না। এ সময় টানে দাড়িয়ে থাকা আরমান হোসেন বিষয়টি স্থানীয় টুরিষ্ট পুলিশকে জানায়। পরে টুরিষ্ট পুলিশ ও কোষ্ট গার্ড কমর্ীরা অনেক খোঁজাখুজির পর পাপ্পুকে মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করতে পারলেও হিমেলকে খঁুজে পায়নি। তিন দিন পর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কক্সবাজারের বঁাকখালী এলাকা থেকে হিমেলের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। পরে আইনী প্রক্রীয়া শেষে শুক্রবার সকালে হিমেলের লাশ তার গ্রামের বাড়ী কালিয়াকৈরের মাঝুখান এসে পৌছায়। পওে বেলা ১০টার দিকে নামাজে জানাযা শেষে বড় ভাইয়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। এদিকে হিমেলের লাশ তার বাড়ীতে পৌছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যে পরিণত হয়।হিমেলের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়। পরিবারের চলছে শোকের মাতম। পরিবারের শেষ সম্বল ছোট ছেলেকে হারিয়ে মা-বাবা পাগল প্রায়। নিহতের স্বজনদের কান্নায় ওই বাড়ীতে শান্তনা দিতে আসা লোকজনকেও কান্না করতে দেখা গেছে। মা হাসনা ভানুর গগণ ফাটা কান্নায় ভারী হয়ে উঠে ওই বাড়ীর আকাশ বাতাস। বার বার বলতে থাকে বড় ছেলে মরার পর তোকে বুকে নিয়ে বেচে ছিলাম। এখন তুইও চলে গেলি। আমি কি নিয়ে বাচব। আমার বুকের ধনকে তোমরা ফিরিয়ে দে। আল্লাহ তুমি আমার শেষ সম্বলটাকেও কেড়ে নিলে। পানিতে ডুবে না জানি কত কষ্ট কত কষ্ট করে মরতে হয়েছে আমার বাবার। বাবা আক্কাস আলী বাকরুদ্ধ হয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকি থাকে মানুষের দিকে। কি যেন বলতে চায় কিন্ত বলতে পারছে না।

নিহত হিমেল হোসেনের মামা জাবেদ হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হিমেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার তার লাশ বাড়গীতে পৌছায়। এভাবে যেন কারো মায়ের বুক খালি না হয়। বলতে বলতে সেও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। (শব্টা
projonmo21.com Popular bangla online newsportal