নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর শিল্পাঞ্চলের সফিপুর বাজারের ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের ভিতরেই উৎপেতে থাকে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীর সোর্স। টাকা তুলে গ্রাহক ব্যাংক থেকে বের হলেই আশপাশের কোন নিরাপদ স্থানে র্যাব বা ডিভি পরিচয়ে টাকা বহনকারী গ্রাহককে জিম্মি করে গাড়ীতে তুলে নিয়ে যান। পথি মধ্যে গ্রাহকের টাকা লুটে নিয়ে ১০-১৫ কিলোমিটার দুরের কোন ফ্লাইওভার ব্রীজের উপর ফেলে দিয়ে চম্পট দিচ্ছে। গত গত তিন মাসে ডার্চ বাংলা ব্যাংক শাখা থেকে প্রায় ১০-১২ গ্রাহনের কোটি টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র। এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ কোনভাবে এ চক্রের ধাওে কাছে পৌছাতে পারছেন না।

দৈনিক সমকালে প্রকাশিত সংবাদ
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, সানোয়ার হোসেন ও আনোয়ার হোসেন
দুই ভাই গত ৭ ফেব্রæয়ারী বিকেলে ১০ লাখ টাকা তুলে স্থানীয় সফিপুর ডাচ্ বাংলা ব্যাংক শাখা থেকে। সানোয়ার হোসেনের নামে ব্যাংক একাউন্ট থাকায় চেকে লিখতে না পারায় ব্যাংকের এমদাদুল হক নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা দিয়ে চেকটি লেখান। সেই চেক লিখতে গিয়ে এমদাদুল হক কয়েকবাব কাটাছিড়া কওে সময় কাল ক্ষেপ করেন। পরে বেলা দুইটার দিকে ব্যাংক হিসাব রক্ষক কেশিয়ার ১০ লাখ
টাকা তাদের দিলে সানোয়ার হোসেন ও তার ভাই একটি বাজারের ব্যাগে তুলে নিয়ে ব্যাংক থেকে বের হন। ব্যাংকের নীচ দিয়ে যাওয়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে একটি অটো রিক্সায় উঠে তিন কিলোমিটার পল্লীবিদ্যূৎ নাম আরেকটি মিউচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংকের একাউন্টে জমা দিকে রওনা হন। আধা কিলোমিটার অটোরিক্সায় যাওয়ার পর একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার সেই অটোরিক্সাকে গতিরোধ করেন। এসময় চারব্যক্তি র্যাবের কটি জাতীয় পোশাক পড়ে টাকা বহনকারী সানোয়ার হোসেন ও আনোয়ার হোসেনের নামে ওয়ারেন্ট আছে বলে প্রাইভেটকারে তুলে। সেই দুইজনকে টাঙ্গাইল জেলার গোড়াই ফ্লাইওভার ব্রীজের উপর ফেলে রেখে টাকা নিয়ে র্যাব পরিচয়দানকারী ছিনতাইকারীরা চম্পট দেয়। এরকম ঘটনা গত চার মাসে ১০টিই বেশি র্যাব-ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সফিপুর, পল্লীীবদ্যূৎ মৌচাক এলাকার কয়েকটি ব্যাংক থেকে তোলা গ্রাহকের টাকা ছিনতাই হয়েছে। তার মধ্যে সফিপুর ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের গ্রাহকের টাকাই বেশি ছিনতাই হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংক থেকে তোলা টাকা নিয়ে
গ্রাহকের গন্তব্যে স্থানে যাওয়ার আগেই ছিনতাই হওয়া ঘটনার মধ্যে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ একটি মামলা রজু করেছেন। একটি মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ীর এক কর্মকর্তা তদন্ত করছেন। আরেকটি ছিনতাই হওয়ার টাকার কথা বাদ দিয়ে সাধারণ ডায়েরি করিয়েছেন। এ নিয়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের গ্রাহকের মধ্যেই টাকা ছিনতাই আতংক রয়েছে বেশি। ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার ও ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের দক্ষ ভুমিকা নেই বললেই চলে। ছিনতাই হওয়া গ্রাহকরা বলছেন, ছিনতাইযের ঘটনার সাথে
ব্যাংকের কর্মকর্তারাও জড়িত রয়েছেন। গ্রাহক টাকা তুলার সাথে সাথে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের কাছে তথ্য চলে যাচ্ছে। ফলে ছিনতাইকারীরা ঠিকঠাক গতিরোধ করে টাকাগুলো হাতিয়ে নিচ্চে।
এখন ব্যাংক পাড়ার চায়ের দোকানসহ সর্বক্ষেত্রে সফিপুর বাজারে ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের শাখা থেকে নগদ টাকা উত্তোলন করলেই ছিনতাইয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে এরকম আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে প্রতিনিয়তই।
গত ১৫ ডিসেম্বর উপজেলার বোর্ডমিল এলাকার অটোরিক্সার ব্যাটাি ব্যবসায়ী মনির হোসেন ও তার স্ত্রী আসমা বেগম সাড়ে তিনটার দিকে ৫ লাখ
টাকা সফিপুর ডাচ্ বাংলা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন। টাকাগুলো নিে বোর্ডমিল এলাকার খাদেম আলী মার্কেটের দোকানে ঢুকার সময় একটি
সিলভার রঙের একটি প্রাইভেটকার নিয়ে হাজির হয় ৪জনের একদল যুবক। এসময় মনির হোসেন ও তার স্ত্রীর নামে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা রয়েছে বলে জোড় করে প্রাইভেটকারে তুলে। সে সময় স্ত্রী আসমা বেগম ব্যাংক থেকে তুলা টাকাগুলো দোকানে রাখতে চাইলেও র্যাব পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা তাদের দ্রæত প্রাইভেটকাওে তুলে নিয়ে চলে যায়। মনির হোসেন ও আসমার কাছ থেকে টাকাগুলো জোড়পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে মির্জাপুর উপজেলার ধেরুয়া ফ্লাইওভার ব্রীজের উপর ফেলে রেখে চম্পট দেয়। এ নিয়ে সেই দিনই কালিয়াকৈর থানায় বিষয়টি জানানো
হলে, সেখানকার দায়িত্ব প্রাপ্ত ডিউটি কর্মকর্তা নানা তালবাহার কথা বলে ছিনতাই হওয়া টাকার কথা উল্লেখ্য না করার জন্য বলেন। পরে টাকা খুইয়েছে এরকম একটি সাধারণ ডায়েরি করে চলে আসেন মনির হোসেন।
ছিনতাইকারীর কবলে পড়া মনির হোসেন জানান, স্থানীয় পিদিম নামের একটি এনজিও থেকে স্ত্রী আসমা বেগমের নামে চার লাখ টাকার একটি ঋণ গ্রহণ করেন। সেই এনজিও ডাচ্ বাংলা ব্যাংক সফিপুর শাখার চার লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। সেই টাকা স্ত্রী আসমা বেগমসহ তোলে দোকানে আসতেছিলাম। দোকানে ঢুকার আগেই র্যাব পরিচয় দেওয়া চার যুবক তাদেও গতিরোধ করেন। গ্রেপ্তারী পরওয়ানা রয়েছে বলে গাড়ীতে তুলে আমাদের কালো কাপড় দিয়ে চোথ বেধে ফেলেন। পরে মারধর, গালিগালাজ ও ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে
টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে ঘটনা¯’ল থেকে ১০-১৫ কিলোমিটার দুরে ফ্লাইওভার ব্রীজের উপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে পুলিশের কোন সহযোগিতা পাইনি।
অপরদিকে ১৭ জানুয়ারী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম নাজির সফিপুর বাজারের শাহজাহানল ইসলামি ব্যাংক শাখা থেকে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ২ শত ৬০ টাকা তুলে একই এলাকার ডাচ্ বাংলা ব্যাংকে যান বাড়ী তৈরির জন্য মালামাল ক্রয়ের জন্য এক ব্যক্তির একাউন্টে দুই লাখ টাকা জমা দিতে যান। সেখানে আধা ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে দুই লাখ টাকা জমা দিয়ে ব্যাংক থেকে বের হয়ে আসেন।
তিনি সেখান থেকে আধা কিলোমিটার পায়ে হেটে তানহা নামক একটি হাসপাতালের সামনে আসেন। সেখান থেকে
একটি অটোরিক্সা নিয়ে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাড়ী যাওয়ার পথে যমুনা স্পিনিং মিলসের সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপর সাদা রঙের একটি নোহা মাইক্রোবাস দিয়ে তার অটোরিক্সার গতি রোধ করে। পরে মাইক্রোবাস থেকে ডিবির কটি পড়া ৫ যুবক নেমে এসে তাকে ঘিরাও করে। এসময় জোড় কওে মাইক্রোবাসে তুলে কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেধে বেধরক মারধর করে। পরে নজরুল ইসলাম নাজিরের কাছে থাকা বাকী টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়ে মির্জাপুর উপজেলার ধেরুয়া রেলওয়ে ফ্লাইওভারের উপর ফেলে রেখে চলে যায়। এ বিষয়ে ওই দিনই
একটি অভিযোগ দেওয়া হলে কালিয়াকৈর থানা মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ীর ওসি শহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু টাকা ছিনতাইয়ের দেড় মাস অতিক্রম করলেও হলেও পুলিশ কোন কোলকিনারা করতে পারেনি।
ভুক্তভোগি নজরুল ইসলাম নাজির জানান, আমি এলাকার ছেলে। ছোট থেকেই মানুষ হয়েছি এই এলাকায়। ভাবতেও পারি নাই আমার কাছ থেকে টাকা ছিনতাই হয়ে যাবে। ওরা ডিবি কটি পড়া ছিল। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেছে। চোখ বেধে গাড়ীর সীটের নিচে ফেলে রাখে। পরে আমার পাঞ্জারির পকেট থেকে ব্যাংক থেকে তোলা ও নগদ টাকাসহ ৫লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
পরে ধেরুয়া রেল ওভার ব্রীজের উপর ফেলে রেখে চলে যায়। এ ব্যাপারে মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ ওসি শহিদুল ইসলাম জানান,
বিষয়টি তদন্ত করছি। এরকম একটি চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধারের চেস্টা করছি।
এদিকে ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কালিয়াকৈর উপজেলার হরিনহাটি এলাকার বাসিন্দা ছানোয়ার হোসেন(৫৫) উপজেলার সফিপুর বাজার ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের তার নিজ একাউন্ট থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এসময় তার ভাই আনোয়ার হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় কওে পল্লীবিদ্যূৎ যাওয়ার উদ্দেশে রওনাহন। রিকশাটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আনসার একাডেমির তিন নাম্বার
গেইট এর কাছে পৌঁছালে তারা ছিনতাইকারীদের খপ্পরে পড়েন। ওই সময় সিলভার রং এর একটি প্রাইভেটকার তাদের গতিরোধ করে পরে র্যাবের কটি পড়া ৪ জন যুবক তাদের র্যাব পরিচয় দিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে হাত পা এবং চোখ বেঁধে নিয়ে যায়।এ সময় তাদে দু জনকে র্যাব পরিচয়দানকারী ওই ছিনতাইকারীরা গাড়ির ভিতর এলোপাথাড়ি মেরে সাথে থাকা ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে টাঙ্গাইলের
মির্জাপুর উপজেলা গোড়াই ফ্লাইওভার ব্রীজের উপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পওে তিনি কালিয়াকৈর থানায় উপস্থিত হন মামলা দায়ের করার জন্য প্রথমে পুলিশ তার মামলাটি দায়ের না করে নানান তালবাহানা করলেও পরে ১৬ ফেব্রæয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলাটি আমলে নিয়ে রুজু করে তদন্ত কাজ শুরু করেন।
ভুক্তভোগি সানোয়ার হোসেন জানান, গত দেড় মাস ধরে থানা পুলিশ ও র্যাব-১ অফিসে যাচ্ছি কিন্তু‘ ছিনতাই হওয়া টাকা ও ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের কোন অগ্রগতি দেখতে পারছি না। আমি ১০ লাখ টাকা ঋন তুলছিলাম। এখন কিস্তি দিচিবছ খুব কষ্টে। এই ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তা এমদাদুল হক, সবুজ মিয়া ও সেতু আহমেদকে সন্দেহ হচ্ছে। তারাই ব্যাংক থেকে টাকা তুললেই
ছিনতাইকারীদের জানিয়ে দিচ্ছে।
১০লাখ টাকা ছিনতাইয়ের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জামিনুর রহমান জানান, সানোয়ার হোসেনের ছোট ভাইয়ের মোবাইল উদ্ধার করেছি। ডার্চ বাংলা ব্যাংকের সন্দেহভাজন কর্মকর্তাদের নজরদারি করা হচ্ছে। টাকা উদ্ধার ও ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
একই ব্যাংক থেকে গত ডিসেম্বর মাসের প্রথম সাপ্তাহে ১০ লাখ টাকা তুলেন পূর্ব চান্দরা এলাকার নুুরুল ইসলাম নামের আরেক গ্রাহক। তার কাছ থেকে একই কায়দায় সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকারে আসা র্যাব পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে ছিনিয়ে নেয় নুুরুল ইসলামের টাকা। তিনি আইনী ঝামেলায় পড়ার ভয়ে থানায় কোন মামলা করেননি বলে জানান। ডাচ্ বাংলা ব্যাংক সফিপুর শাখার ম্যানেজার আক্তারুজামান সরকার
জানান, আমাদেও গ্রাহকের সংখ্যা অকে বেশি। কখন যে কিভাবে এসে ব্যাংকের ভিতরে অবস্থান নেয় তাও বলা মুশকিল। এই ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া কয়েকজন গ্রাহকের টাকা পথে ছিনতাই হয়েছে এরকম খবর আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা পুলিশের তদন্তকবারী কর্মকর্তাদের সহায়তা করছি।
কালিয়াকৈর থানার ওসি আকবার আলী খান জানান,আমাদের যে কয়টা অভিযোগ এসেছে সেইগুলো গুরুত্বসহকাওে তদন্ত করা হচ্ছে। র্যাব ও ডিভি পুলিশ পরিচয় দিয়ে গ্রাহকের টাকা ছিনতাইকারীদের শিঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে আশা করছি।
এ ওসি আরো জানান, যে সব গ্রাহক বেশি টাকা উত্তোলন করেন, তাদের পুলিশের সহায়তা নেওয়ার জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের তাগিদ দেওয়া হলেও কেউ পুলিশের সহায়তা না নেওয়ায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ছেন ।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal