সাইফুল ইসলাম, সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় যুবসমাজকে মাদকমুক্ত ও খেলাধুলামুখী করার লক্ষ্যে আয়োজিত কেএম ওবায়দুর রহমান স্মৃতি ১০ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল ৫টায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সোনাপুর ইউনিয়ন ফুটবল একাডেমির উদ্যোগে এ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
“ক্রীড়া শক্তি, ক্রীড়াই বল—মাদক ছেড়ে যুবক মাঠে চল” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত টুর্নামেন্টটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ম্যাচের শুভ উদ্বোধন করেন সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা গ্রামের কৃতী সন্তান, সোনাপুর ইউনিয়ন ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ক্রীড়ানুরাগী মুহাঃ ছরোয়ার হোসেন।
ডা. মোঃ কাওসার আলীর সভাপতিত্বে এবং মোঃ তারা মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মো. ফারুক মিয়া, মো. জালাল মেম্বার, মো. আবুল খায়ের মিয়া, মোঃ ফজলু ফকির, মোঃ হালিম মোল্যা, সিরাজ মাতুব্বর, লিয়াকত হোসেন, ফজলু মাতুব্বর, মোঃ মোশারেফ মাতুব্বর, তুরাব মৃধাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়া সোনাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দুই সহস্রাধিক দর্শক খেলা উপভোগ করেন।
দিনের ম্যাচে মুখোমুখি হয় নটখোলা ফুটবল একাদশ ও যোগারদিয়া (স্কুল) ফুটবল একাদশ। নির্ধারিত সময়ে উভয় দল গোলশূন্য ড্র করলে খেলার ফলাফল নির্ধারণে টাইব্রেকারের আশ্রয় নেওয়া হয়। টাইব্রেকারে নটখোলা ফুটবল একাদশ ৩-১ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
খেলা চলাকালে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। খেলোয়াড়দের দৃষ্টিনন্দন পারফরম্যান্স ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় দর্শকরা দারুণভাবে উচ্ছ্বসিত হন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাঃ ছরোয়ার হোসেন বলেন, “মাদকাসক্তি থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। যুবকদের মাঠমুখী করতে পারলে তারা মাদক থেকে দূরে থাকবে এবং সুস্থ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে। খেলাধুলা শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, ভ্রাতৃত্ববোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে সমাজ থেকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় দূর করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষামুখী করতে হবে।”
টুর্নামেন্টে যৌথভাবে ধারাভাষ্য প্রদান করেন আরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান। তাঁদের প্রাণবন্ত ও সাবলীল উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। খেলায় প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করেন মোঃ সাজ্জাদ হোসেন সাগর। সহকারী রেফারি ছিলেন জাহাঙ্গীর হোসেন ও মেহেদী হাসান।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলো উন্মুক্ত থাকবে। অংশগ্রহণকারী দলগুলো দেশের যেকোনো অঞ্চল এমনকি বিদেশ থেকেও ফুটবলার অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal