সর্বশেষ :
Home / সারাদেশ / সালথায় জনতার ভালোবাসা নিয়ে ভোটের মাঠে ছরোয়ার হোসেন

সালথায় জনতার ভালোবাসা নিয়ে ভোটের মাঠে ছরোয়ার হোসেন

 

সাইফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

মাথা গোঁজার স্থায়ী কোনো আশ্রয় ছিল না রাবুর মার। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অনিশ্চয়তা ও দুর্দশাই ছিল তার নিত্যসঙ্গী। এমন পরিস্থিতিতে তার পাশে দাঁড়ান সমাজসেবক মুহাম্মাদ ছরোয়ার হোসেন। নিজস্ব অর্থায়নে একটি বসতঘর নির্মাণ করে দিয়ে তিনি রাবুর মার জীবনে স্বস্তির পরশ এনে দেন।

 

রাবুর মার মতো সোনাপুর ইউনিয়নের অসংখ্য অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে ছরোয়ার হোসেন আজ একটি পরিচিত ও আস্থার নাম। দীর্ঘদিন ধরে নীরবে মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকা এই সমাজসেবক এবার আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন ছরোয়ার হোসেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার মানবিক কর্মকাণ্ডের সুফল ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছেছে।

 

অসহায় পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ, দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়ক সামগ্রী প্রদান, এতিম ও অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা উদ্যোগ তাকে সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

মানবিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। স্থানীয়দের মতে, সড়ক সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, মসজিদের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কবরস্থান সংস্কারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তিনি বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করেছেন।

 

সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা রাবুর মা বলেন, আমার থাকার কোনো জায়গা ছিল না। অনেক কষ্টে দিন কাটত। ছরোয়ার হোসেন আমাকে একটি ঘর করে দিয়েছেন। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। আমি সবসময় তার জন্য দোয়া করি।

 

দরজা ফুকরা গ্রামের এক উপকারভোগী বলেন, কঠিন সময়ে তিনি আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। শুধু ঘর নয়, খাদ্য সহায়তাও দিয়েছেন। মানুষের বিপদ-আপদে তিনি যেভাবে এগিয়ে আসেন, তা সত্যিই বিরল।

 

করোনা মহামারির সময় যখন বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন, তখনও খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ছরোয়ার হোসেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্যোগ ও সংকটকালে মানুষের পাশে থাকার কারণেই তার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

 

ছরোয়ার হোসেন বলেন, মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আমাদের এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্ব ও জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ড আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। তার দিকনির্দেশনায় এলাকার উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

 

নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ছরোয়ার হোসেন বলেন, জনসেবা আমার কাছে কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি আমার দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের জন্য কাজ করে আসছি। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হতে পারলে সেই কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।

 

তিনি আরও বলেন, সোনাপুর ইউনিয়নের উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই। আমি এমন একটি ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধির দরজা সবসময় উন্মুক্ত থাকবে।

 

নিজের শক্তির উৎস সম্পর্কে ছরোয়ার হোসেন বলেন, আমার সবচেয়ে বড় শক্তি এই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। তাদের ভালোবাসা, আস্থা ও সমর্থনই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেয়। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আমি মানুষের পাশে থাকতে চাই।

 

স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে ছরোয়ার হোসেন ইতোমধ্যে একটি ইতিবাচক ও গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। ফলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের আলোচনায় তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসছে।

 

সোনাপুর ইউনিয়নের অনেক বাসিন্দার অভিমত, জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগেই যিনি মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, নির্বাচিত হলে তার নেতৃত্বে ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল ও জনমুখী হতে পারে। আর সে কারণেই চেয়ারম্যান পদে তার প্রার্থিতার ঘোষণা স্থানীয় রাজনীতি ও জনমনে নতুন মাত্রার আগ্রহ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!