সর্বশেষ :
Home / সারাদেশ / জলঢাকায় ইউনিয়ন পরিষদের  অর্থে  নিজ  পুকুরের গাইড ওয়াল নির্মাণ করেন ইউপি মহিলা সদস্য

জলঢাকায় ইউনিয়ন পরিষদের  অর্থে  নিজ  পুকুরের গাইড ওয়াল নির্মাণ করেন ইউপি মহিলা সদস্য

 

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান  ,জলঢাকা,নীলফামারী প্রতিনিধি:

 

 

নীলফামারীর জলঢাকায় ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় নিজ বাড়ির পুকুরে গাইড ওয়াল নির্মাণ করেছেন কাঠাঁলী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত  মহিলা সদস্য রিতা বেগম।

 

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে,২০২৫-২০২৬অর্থ বছরে ইউপি সদস্য রিতা বেগম  তার বাড়ীর সামনের সড়কের পাশেের পুকুরে গাইড ওয়াল নির্মাণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প থেকে তার নামে ১লাখ ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দ নেন।

 

শনিবার বিকালে  সরেজমিনে গিয়ে দেখা ও জানাযায়,

 

কাঠাঁলী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের তুহিন চেয়ারম্যানের বাড়ীর সামনে থেকে রংঙ্গের বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সরকারী রেকর্ডভুক্ত পাকা সড়ক রয়েছে। সড়কটি এলজিইডির আইডিভুক্ত। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের ২৫-২৬ অর্থ বছরের গ্রামীন উন্নয়ন  প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যয়ে আইডিভুক্ত সড়কে কাঁঠালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিতা সড়কের পাশের পুকুরে গাইড ওয়াল নির্মাণ না করে তার ব্যক্তিগত পুকুরে  ভরাট ও গাইড ওয়াল নির্মাণ করেন। যা সড়কের কোন কাজেই আসছে না। আর তিনি নিজেই  সভাপভি ও আত্মীয়দের নিয়ে এ প্রকল্প কমিটি করেন।

 

স্থানীয়রা জানান, প্রভাব খাটিয়ে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের  অর্থায়নে নিজ বাড়ির পুকুরে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ করে সরকারি অর্থের অপব্যবহার করেছেন । এগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতেও  তাদের নিজ বাড়ির পুকুর ও বাড়ির আঙিনা সরকারি অর্থে পাকা করবেন।

 

ওই গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, এই পাকাঁ সড়কটি জন গুরুত্বপুর্ণ। এ সড়কের পাশে বেশ কিছু  পুকুর রয়েছে  যা মাটি ভরাট, কাটা, গাইড ওয়াল  সহ সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

 

কিন্তু ইউপি সদস্য রিতা বেগম ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে ব্যক্তিগত পুকুরে গাইড ওয়াল নির্মাণ করে সরকারি অর্থের অপব্যবহার করলেও এলাকার সড়কের কোন উপকারে আসছে না। যা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান তারা।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাঠাঁলী  ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত  চেয়ারম্যান আলমগীর  হোসেন জানান ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল থেকে তাকে সড়কের পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণের জন্য ১ লাখ ৭২হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি কি করেছেন তা আমি এ বিষয় কিছু জানিনা।তবে বিষয়টি আমি লোকজনের কাছ থেকে শুনেছি। তবে এ বিষয় টি দেখছি।

 

উপজেলা প্রকৌশলী তারিকুজ্জামান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী এলজিইডির সড়ক টিআর, কাবিটা-কাবিখা প্রকল্পের আওতায় সংস্কার কাজ করা যাবে না। তবে পরিষদের সমন্বয় সভার অনুমোদনক্রমে জনগুরুত্বপুর্ণ এলাকায় যে কোন দপ্তর কাজ করতে পারে।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) নাহিদুজ্জামান বলেন,যে  বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তবে এব্যাপারে ইউপি সদস্যের সাথে যোগাযোগ করলে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি। তবে এর আগেও তার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে অভিযোগ হয়েছিলো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী বলেন,সরকারি অর্থায়নে কীভাবে নিজ বাড়ির পুকুরে রিটার্নিং ওয়াল করেছেন, আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!