সর্বশেষ :
;
Home / সারাদেশ / জলঢাকায় চাহিদার অর্ধেক মিলছে বিদ্যুৎ, লোডশেডিং এ বিপর্যস্ত জনজীবন

জলঢাকায় চাহিদার অর্ধেক মিলছে বিদ্যুৎ, লোডশেডিং এ বিপর্যস্ত জনজীবন

 

 

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান নীলফামারী প্রতিনিধি

 

নীলফামারীর জলঢাকায় গত কয়েকদিনের টানা তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অসহনীয় গরমের মধ্যে বিদ্যুৎহীনতা জনজীবনে চরম ভোগান্তি ডেকে এনেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে ১৪/১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।

 

বিদ্যুৎহীনতায় অনেকেই প্রহর গুনছেন—কখন আবার বিদ্যুৎ আসবে।

 

বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।বিশেষ করে ছোট দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেচা কেনা কমে গেছে।বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক দোকান নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

 

অন্যদিকে, গরমের তীব্রতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। বাসা-বাড়িতে যেমন স্বস্তি নেই, তেমনি অফিস-আদালতেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। বিদ্যুৎ না থাকায় সরকারি-বেসরকারি অফিসের কাজ প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যাংকিং সেবাগ্রহীতারা।

 

জলঢাকা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ৪ লাখ মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

 

শিক্ষার্থী আবির, সিয়াম ও অরুনা আক্তার জানায়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না,।এতে পড়াশোনায় খুব ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত এর সমাধান দরকার।” অন্যদিকে, দিনভর কঠোর পরিশ্রমের পর বিদ্যুৎ না থাকায় স্বস্তি পাচ্ছেন না নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। গরমে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরেও তারা পাচ্ছেন না বিশ্রামের সুযোগ।

 

কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল গ্রামের বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, গভীর রাতে বিদ্যুত চলে গেলে আর আসার নাম থাকে না। এ সময় ছেটো শিশুদের নিয়ে ঘরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এত রাতে কেনো লোডশেডিং হবে? এ সময় তো অফিস আদালত হাট বাজার সবকিছুই বন্ধ থাকে, এ সময় কিসের লোডশেডিং?

 

গোলমুন্ডা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা তোজাম্মেল হোসাইন এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেন- বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ফলে মাদরাসার দুইটি হ্যালোজিন লাইট ও পানির মর্টার নষ্ট হয়ে গেছে, যার মুল্য ৪০,০০০/ টাকা। অসহনীয় গরম ও বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিংয়ের ফলে মাদরাসায় ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতিও কমে গেছে।

 

খুটামারা ইউনিয়নের পুর্ব খুটামারা গ্রামের বাসিন্দা অমল রায়ের স্ত্রী সুমী রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- পল্লী বিদ্যুতের কারনে আমাদের অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে গেলো। আমরা জীবনে মনে হয় আর উঠে দাঁড়াতে পারবো না। আমাদের মুরগীর খামারে তোলা এক হাজার ব্রয়লার মুরগীর বাচ্চা ঠিকমতো বুডিং করতে না পেরে মারা গেছে। এ ক্ষতি আমরা কিভাবে কাটিয়ে উঠবো!

 

বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, এ উপজেলায় কোনো কলকারখানা নেই। তারপরেও দিনে-রাতে কম করে হলেও ৮-১০ বার বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জনসাধারণ। অথচ বিদ্যুৎ বিলের (অর্থ) টাকার পরিমাণ দিন-দিন বেড়েই চলেছে। এদিক থেকে একজন গ্রাহক কোনো কারণে পর-পর তিন মাস বিল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। অতঃপর পুনরায় সংযোগ চালু করার জন্য তাকে গুণতে হয়েছে ফের নগদ অর্থ।

 

জলঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে, তা-ই সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে কাজ চলছে।

 

পল্লী বিদ্যুত জলঢাকা শাখার ডিজিএম মেহেদী হাসানের সাথে এ বিষয়ে কথা বলার জন্যে বেশ কয়েকবার তার মুঠোফোনে কল করার পরে তিনি ফোন রিসিভ করেন। এ বিষয় জলঢাকায় পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমরা যেটুকু বিদ্যুত পাই সেটুকুই সরবরাহ করছি, এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। পিডিবিতে সঙ্কট নেই কিন্ত আপনাদের এত সঙ্কট কেনো- প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা সরকার বলতে পারবে। কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হবে সেটিও তিনি জানেন না বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!
;