জসীমউদ্দীন ইতি(ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে আতাউর রহমান নামে এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কামাল হোসেন চৌধুরী নামে কৃষকের বিরুদ্ধে।
গতকাল রবিবার বেলা ১১টার সময় লাহিড়ী বাজারে বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স শাহ ট্রেডার্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই কৃষি কর্মকর্তা বর্তমানে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।
আহত কৃষি কর্মকর্তার অভিযোগ, আমন আবাদের তুলনায় বেশি এমওপি সার চেয়েছিলেন কৃষক কামাল। দিতে রাজি না হওয়ায় সকলের সামনে শার্টের কলার ধরে টানা লাঞ্ছিত এবং মারধর করে সরকারি ডাইরীসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষক কামাল হোসেনের দাবি পাড়িয়া ইউনিয়নের চাষীদের জন্য বরাদ্দকৃত সার চাড়োল ইউনিয়নের চাষীদের দেওয়া হচ্ছিল। এটি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে আমার সাথে হাতাহাতি হয়। তাকে মারধর করিনি।
সোমবার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, রবিবার ১১টার সময় লাহিড়ী বাজারে বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স শাহ ট্রেডার্সের বরাদ্দকৃত আগস্ট মাসের উত্তোলিত সার কৃষকদের মাঝে বিক্রির হচ্ছিল। সেখানে তদারকির দায়িত্বে ছিলাম আমি। প্রতি বিঘায় এমওপি সার ১০ কেজি হারে কৃষক প্রদান করা হলেও কামাল হোসেন একই নামে জোর করে ১০ বস্তা এমওপি সার চান। তাকে দিতে অস্বীকৃতি জানালে কামাল হোসেন সহ তার সাথে থাকা লোকজন উপস্থিত কৃষকদের সামনে আমার শার্টের কলার ধরে টেনে হিচড়ে লাঞ্ছিত এবং মারধর করে সাথে থাকার সরকারি ডাইরীসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। আমি বিষয়ে গতকাল সোমবার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বরাবরে সরকারি কাজে বাধা প্রদানের লিখিত অভিযোগ করেছি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষক কামাল হোসেন চৌধুরী মুঠোফোনে জানান, আমি সার কিনতে সেখানে যায়নি। এক ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত সার অন্য ইউনিয়নের কৃষকদের প্রদান করা হচ্ছিল। এটির প্রতিবাদ করতে গেলে কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আতাউর রহমানের সাথে হাতাহাতি হয়েছে। তাকে মারপিট করা হয়নি এবং কোন কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এটা মিথ্যা, আমাকে ফাসানো হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, বিষয়টি ইউএনও স্যার এবং ডিসি স্যারকে অবগত করা হয়েছে। আমরা বালিয়াডাঙ্গী থানায় লিখিত ভাবে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছি।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) যোবায়ের হোসেন বলেন, কৃষকদের স্বার্থে সার সংকট নিরসন এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং উপজেলা প্রশাসন যৌথ ভাবে মাঠে কাজ করছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে মারধর করে অপরাধ করেছে কৃষক কামাল হোসেন। আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিবো।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি খায়রুল আনাম বলেন, কৃষি কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলা হলে আসামী গ্রেফতার করা হবে।
এর আগে গেল মাসে আলোচনা সভা ডেকে উপজেলা সার মনিটরিং কমিটি ডিলারদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কৃষকদের নিকট সার বিক্রির করার নিয়ম বেধে দেয়। সে অনুযায়ী উপজেলার ৩৩টি ডিলার কৃষকদের জমি অনুযায়ী সার বিক্রি করে আসছে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal