সর্বশেষ :
;
Home / সারাদেশ / দৌলতপুর সরকারি মতিলাল কলেজে এইচএসসিতে ভয়াবহ ফল বিপর্যয়, পাসের হার ১৩.৫৪%, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

দৌলতপুর সরকারি মতিলাল কলেজে এইচএসসিতে ভয়াবহ ফল বিপর্যয়, পাসের হার ১৩.৫৪%, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

 

 

দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:

 

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর সরকারি মতিলাল ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬ এর ফলাফলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কলেজ থেকে ৩৬২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৪৯ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৩১৩ জন। এতে কলেজের গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩.৫৪ শতাংশ।

 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে ফেল করেছে।

 

এমন নজিরবিহীন ফল বিপর্যয়ে কলেজজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

 

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সত্যজিৎ দত্ত বলেন, “এ বছর সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে সিসি ক্যামেরার আওতায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের শিক্ষক স্বল্পতা ছিল। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে অতিথি শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিলাম। নির্বাচনের সময় কলেজে ৩ মাস সেনাবাহিনীর অবস্থানের কারণে আমরা পুরোপুরি সিলেবাস শেষ করতে পারিনি এবং নির্বাচনী পরীক্ষা পাশের একটি স্কুলে নিতে হয়েছে। ভবিষ্যতে ভালো ফলাফলের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”

 

শিক্ষকদের অবহেলা ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শিক্ষকদের আরও কৌশলী হয়ে পাঠদান করাতে হবে। যে সকল শিক্ষার্থী ভালো বোঝে না, তাদের আরও যত্ন নিয়ে বোঝাতে হবে।”

 

ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, “এই ফলাফলে আমি খুবই লজ্জিত। দৌলতপুরে এমন রেজাল্ট কখনো হয়নি। ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে দায়টা আমি এড়াতে পারি না। তবে আমাদের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় মনোযোগী নয়। আমরা পাশের স্কুলে নির্বাচনী পরীক্ষা নিয়েছিলাম, সেখানে ৩৬ জন পাস করেছিল, কিন্তু আমরা ফরম পূরণ করেছিলাম ২৬২ জনের। যদি বাকিদের ফরম পূরণ না করতাম, তাহলে শতভাগ পাস দেখানো যেত। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল হবে বলে আশ্বস্ত করছি।”

 

অপর ইংরেজি প্রভাষক মো. নিয়ামত উল্লাহ বলেন, “সিসি ক্যামেরায় পরীক্ষা হওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের কলেজটি সদরে হলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী চরাঞ্চলের। বর্ষা মৌসুম ও নদী ভাঙনের কারণে অনেকেই নিয়মিত ক্লাসে আসতে পারে না। তাছাড়া এবারের শিক্ষার্থীরা এসএসসিতে শর্ট সিলেবাসে এবং অষ্টম-নবম শ্রেণিতে অটোপাসে এসেছিল, কিন্তু এইচএসসি দিয়েছে পূর্ণ সিলেবাসে। সে কারণে ফলাফলে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন ফল হবে না।”

 

এদিকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করা আরেক বিষয় আইসিটি-র প্রভাষক শারমিন আক্তারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গরীব মানুষ, ধার-দেনা করে ছেলেমেয়েদের কলেজে পাঠাই। ৩৬২ জনের মধ্যে ৩১৩ জন ফেল, এটা কোনো রেজাল্ট হলো? একজন স্যার বলছে দায় আমার, আরেকজন বলছে চরের ছাত্ররা আসে না। তাহলে আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কে ভাববে? কলেজে ঠিকমতো ক্লাস হয় না, শিক্ষকরাও নিয়মিত না, আর এখন সব দোষ ছাত্রদের ওপর চাপাচ্ছে। আমরা এই ফলাফলের সুষ্ঠু তদন্ত ও শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ চাই।”

 

একই কলেজের শিক্ষকদের এমন ভিন্নমুখী বক্তব্য ও দায় এড়ানোর প্রবণতায় অভিভাবক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে এই বিপর্যয়ের প্রকৃত দায় কার?

 

অধ্যক্ষ জানান, শিক্ষার মান উন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং আগামীতে এমন ফলাফলের পুনরাবৃত্তি হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!
;