হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান
জলঢাকা নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রমত্তা তিস্তা ও, বুড়ি তিস্তা নদী বর্ষাকালে খরস্রতা আর শীত কালে যেন চেনাই যায়না।
পানির স্রোতের কারনে ফুলে ফেপে ওঠা তিস্তা ও বুড়ি তিস্তা নদী এখন পানির অভাবে শুকিয়ে মরুভূমিতে পরিনত হয়েছে।
ভারতের একতরফা পানি নিয়ন্ত্রণের কারনে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা নদী এখন মৃত প্রায়। ফলে তিস্তা অববাহিকায় জীববৈচিত্র হুমকির মুখে।
তিস্তার বুকে ছুটে চলা জেলে আর মাঝি মোল্লাদের নেই আর আগের মতো কর্মব্যাস্ততা। পানির অভাবে থেমে গেছে তাদের সংসারের চালিকা শক্তি।
তাই ড্রেজিং, ও পুনঃখনন না করায় নাব্যতা হারিয়ে পানি শুন্য হয়ে অকার্যকর হয়ে পড়েছে দেশের সর্ব বৃহৎ তিস্তা সেচ প্রকল্প ব্যারাজটি সহ নদীটি। ফলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এ নদীটির নাম।
এদিকে পানি শুন্য হওয়ায় তলাহীন তিস্তা এখন অস্থিস্ত হারা ধুধু বালু চরে পরিনত হওয়ায় সেখানে প্রস্তুতি চলছে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ।
শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজের জন্য যেখানে ৩ হাজার ৫ শত কিউসেক পানি থাকার কথা সেখানে রয়েছে ৩ শত কিউসেক পানি। ফলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীরবতায় বিপাকে পড়েছে স্থানীয় কৃষকেরা ।
এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্র জানায়, তিস্তা ব্যারেজের ৬৫ কিলোমিটার উজানের হিমালয় থেকে নেমে আসা তিস্তা নদীটি বাংলাদেশের নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা হয়ে জলঢাকা উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গিয়ে মিশে গেছে পার্শ্ববর্তী রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী এলাকায়।
১৯৪৭-৪৮ সালে তৎকালীন সরকার শুস্ক মৌসুমে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় সেচ সুবিধা দিয়ে অধিক ফসল ফলানোর লক্ষে একটি সেচ ক্যানেল প্রকল্প গ্রহন করে প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয় বুড়ি তিস্তা ব্যারাজ সেচ ক্যানেল প্রকল্প। এ ব্যারাজের উজানে নদীর পানি আটকিয়ে শুস্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা দিয়ে অধিক পরিমানে ইরি-বোরো চাষ করাই ছিল প্রকল্পটির মুল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ।এরই ধারাবাহিকতায় জলঢাকার কালীগঞ্জ এলাকায় বুড়ি তিস্তা নদীর উপর ১৯৬২ সালে প্রথম ১৪টি গেট দিয়ে নির্মিত হয় বুড়ি তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প।
পরবর্তীতে তিস্তা নদীর উপর ৫৯টি গেট দিয়ে তৈরী করা হয় দেশের সর্ব বৃহৎ তিস্তা নদীর উপর তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প।
এ ব্যারাজে আটকিয়ে রাখা পানি দিয়ে। পরবর্তীতে উপজেলার গোলনা, ধর্মপাল, মীরগঞ্জ, বালাগ্রাম, শৌলমারী, কৈমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সেচ ক্যানেল ও নালা খনন করে সেচ সুবিধার আওতায় আনা হলে উক্ত এলাকার কৃষকেরা প্রচুর পরিমানে ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু ১৯৯৮-৯৯ সাল হতে ব্যারাজসহ সেচের জন্য খনন করা নালা ও খাল গুলো পানির অভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ায় সেখানে চলছে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ।
সোমবার সরেজমিনে তিস্তা নদী ও সেচ ক্যানেল প্রকল্প এলাকায় দেখা যায়, তিস্তার পানি শুন্যের কৌটায় নেমে আসায় তিস্তা ব্যারেজের সকল গেট বন্ধ করে পানি দেওয়া হচ্ছে উপজেলার কিছু সংখ্যক তিস্তা সেচ ক্যানেলে।
এর ফলে তিস্তা নদীতে মাইলের পর মাইল জেগেছে চর। অথচ এক সময় এ নদী অনেক ফসলী জমি গ্রাস করেছে ও পাওয়া যেত মাছ। তিস্তার চরে এখন কৃষকরা পরিশ্রম করে ফলাচ্ছেন ভুট্টা, তামাক, আলু, কুমরা, সরিসা, পিয়াজসহ বিভিন্ন ফসল। ফলে ঐ চর এলাকায় ভরে উঠেবর সবুজের সমারোহ।
জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা বড়বাধ এলাকার কৃষক রাজ্জাক জানান নদীতে বালু জমে ভরাট হওয়ায় ও রিজার্ভারে পানি না থাকায় নদীটি বর্তমানে শুকিয়ে ধু-ধু বালুচরে পরিনত হয়েছে। সরকারের নিরবতা আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যর্থতার কারনেই নদীটি অকার্যকর হয়ে পরেছে।
নদী রক্ষা,পরিবেশ বাচার জন্য আন্দোলন- সংগ্রাম হয়। কিন্তু এখানকার বিষয়টি নিয়ে কেউ না ভাবায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই ব্যারাজ এলাকার বাসিন্ধা গোলনা ইউপি চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান । জলঢাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, তিস্তা নদীতে পানি না থাকায় তা খনন করা হলে পতিত জমিতে যেকোন ফসলেই সেচ প্রদান করা যাবে। এতে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করবে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal