সাইফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথায় দুটি কলেজের ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নে অবস্থিত নবকাম পল্লী কলেজ ও সালথা সরকারি কলেজের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এই অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভ নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
নবকাম পল্লী কলেজের পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আইসিটির মোট ২২০ জন পরীক্ষার্থীর প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০০ টাকা, ভূগোলে ১৬০ জন পরীক্ষার্থীর প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০০ টাকা, গার্হস্থ অর্থনীতি ৬০ জন পরীক্ষার্থীর প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০০ টাকা, বিজ্ঞান বিভাগের ৪ বিষয়ে ৬৬ পরীক্ষার্থীর প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিএম শাখায় ৬টি বিষয় মোট ৯২ জন করে মোট ৫৫২ জন পরীক্ষার্থীর প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমানের নির্দেশে বিএম শাখা ও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকসহ, আইসিটি (কম্পিউটার শিক্ষা), ভূগোল ও গার্হস্থ অর্থনীতি বিষয়ের শিক্ষকরা প্রতি বিষয়ের ব্যবহারিক খাতা বাবদ ও ব্যবহারিক পরীক্ষা বাবদ এসব টাকা করে আদায় করেছেন। ধার্যকৃত টাকা না দিলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ব্যবহারিক খাতায় স্বাক্ষর না করারও হুমকি দেওয়া হয়। ফলে বাধ্য হয়েই পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
নবকাম পল্লী কলেজ পরিচালনা পর্ষদ কমিটির এক সদস্য বলেন, বোর্ডের নির্দেশনা অনুসারে পরীক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক পরীক্ষা যেই কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল সেই কেন্দ্রেই ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষার সময় বোর্ড কর্তৃক নিয়োগ ইস্টার্নাল ও ইন্টার্নাল কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তবে খাতা বাণিজ্যের অভিযোগ পেয়ে গত সোমবার (০২ অক্টোবর) ব্যবহারিক পরীক্ষা চলাকালে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একজন কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তা অধ্যক্ষের রুমে বসে ছিলেন। এই সুযোগে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ করে দেয় শিক্ষকরা।
নবকাম পল্লী কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান টাকা আদায়ের বিষয় স্বীকার করে বলেন, টাকা তো এবার নতুন নেওয়া হয়নি। প্রতি বছরই নেওয়া হয়। সব কলেজেই নেয়। কারণ পরীক্ষার দিন খরচ হয়। অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেসব শিক্ষকরা আমাদের কলেজে এসে পরীক্ষা নিচ্ছে তাদের খাওয়া-দাওয়াসহ যাতায়াত খরচ রয়েছে। সব মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ। এসব খরচ কি আমি পকেট থেকে মেটাবো। তবে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে টাকা আদায় করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি খরচ হয়েছে।
এদিকে গত শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সালথা সরকারি কলেজে একই নিয়মে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। সেখানেও বোর্ড কর্তৃক নিয়োগ ইস্টার্নাল ও ইন্টার্নাল কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এই কলেজেও পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষা ও খাতা বাবদ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে টাকা আদায়ের বিষয় অস্বীকার করেছেন সালথা কলেজের অধ্যক্ষ কৃষ্ণচন্দ্র বর্মন।
সালথা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিনয় কুমার চাকী বলেন, এ বিষয় আমি কিছু বলতে পারবো না। আমি শুধু ট্যাগ অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছি।
এ বিষয় বুধবার (০৪ অক্টোবর) দুপুরে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বালী বলেন, নবকাম পল্লী কলেজে টাকা আদায়ের বিষয় খবর পেয়ে পরীক্ষার দিন আমি সালথা উপজেলার একজন কর্মকর্তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলাম। ওই কর্মকর্তাকে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছিল। তিনি যেটা জানিয়েছেন যে তার সামনে কোন টাকা-পয়সা নেওয়া হয়নি। তবে পরীক্ষার্থীরা যদি এই ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করে, তাহলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal