হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান
জলঢাকা নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকায় গত দের বছরে অর্ধশতাধিক গরু চুরি হওয়ার ঘটনায় টানা ৪৮ ঘন্টা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গরু চোর চক্রের পাচঁ সদস্যকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
উল্লেখযে,উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের শালনগ্রাম,সাইডনালা,
বারোগোপাল,সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গত দের বছরে ৪৮ টি গরু চুরি হওয়ার ঘটনায় থানা পুলিশ মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর ‘২৩ ইং তারিখ রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই চক্রকে আটক করতে সক্ষম হয় ।
এবিষয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো মুক্তারুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন গত ২১ সেপ্টেম্বর ‘২৩ তারিখ উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের শালনগ্রামের বটতলীর কমল কান্তি রায়ের বাড়ী হতে ৬ টি গরু গরু চুরি হওয়ার ঘটনায় কমল কান্তি নিজে বাদী হয়ে মামলা করেন।যার নং ২৭। এরই সুত্র ধরে জেলা পুলিশ সুপার গোলাম সবুরের নির্দেশনায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টানা ৪৮ ঘন্টা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ গরু চোর কে আটক করা হয়।তিনি আরো বলেন এই চক্রটির সঙ্গে আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
আটককৃত ব্যাক্তিরা হলেন, পৌর সভার বগুলাগাড়ী ৩ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পাড়া এলাকার আফজাল হোসেনের পুত্র তরিকুল ইসলাম(২৩),বগুলাগাড়ী বারোঘড়ি পাড়ার ধারাবেচাটারী এলাকার মৃত বাবুল হোসেনের পুত্র সাদেকুল ইসলাম(২৩),কদমতলী হাজীপাড়া এলাকার আব্দুল্লাহর পুত্র ওমর ফারুক (২৫), বগুলাগাড়ী মাঝাপাড়া এলাকার হবিবার রহমানের পুত্র আব্দুর রাজ্জাক, কাঁঠালী ইউনিয়নের পূর্ব কাঁঠালী ক্যানেলেপাড় এলাকার মুকুল চন্দ্র রায়ের পুত্র শংকর চন্দ্র রায় (১৯)।
থানা পুলিশ জানায়, আটককৃত আসামীদের বুধবার আদালতে সোপর্দ করলে গরু চুরির বিষয়ে আরো জিজ্ঞাবাদের জন্য আদালত তিন দিনের রিমান্ড মন্জুর করেন।
পুলিশ আরো জানায়, সম্প্রতি উপজেলায় অন্তত ১ শত টির মতে গরু চুরির ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এই চক্রটি গরু কেনা-বেচা এবং কসাই কাজে জড়িত। রাতের আঁধারে চক্রটি গরু চুরি করতো এবং দিনে তারা বাজারে জবাই করে মাংস বিক্রি করত। তাদের বিষয়ে আরো খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। পুলিশ আরো জানায প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চোর চক্রের সদস্যরা উক্ত চুরির ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। আসামী তরিকুল, শংকর এবং ছাদেকুল জানায় যে, তারা প্রথমে জলঢাকা থানা এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির সুপারি বাগান থেকে সুপারি চুরি করে জলঢাকা বাজারে এক ব্যক্তির দোকানে বিক্রি করতো । উক্ত বাজারে তাদের সাথে আসামী উমর ফারুক, রাজ্জাক এর সাথে পরিচয় হয়। পরে তারা একত্রিত হয়ে জলঢাকা থানার বিভিন্ন এলাকা হতে দিনের বেলা ছাগল চুরি করে তরিকুলের ভ্যানে করে বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করতো। এভাবে তারা প্রায় ৪০/৫০ টি ছাগল চুরি করে। ধীরে ধীরে তাদের সাথে আরো কিছু চোরের পরিচয় হয় এবং তারা গরু চুরি করার পরিকল্পনা করে। আসামী শংকর এর মামার বাড়ী বালাগ্রাম ইউনিয়নের শালনগ্রাম এলাকায় হওয়ায় সে সহযোগী আসামী ছাদেকুল সহ ভ্যানে করে তার মামার বাড়ী থেকে আশপাশ এলাকায় কোন বাড়ীতে গরু আছে এটির সন্ধান করতো এবং সহযোগী অন্যান্য আসামী সহ সেই বাড়ী গুলোতে গরু চুরির পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মাফিক তারা গত দেড় বছরে সাইডনালা, শালনগ্রাম, বারোগোপাল এলাকায় মোট ৪৮ টি গরু চুরি করে। আসামী তরিকুল, শংকর, ছাদেকুল, রাজ্জাক জানায় তাদের আরো কয়েক জন সহযোগী সহ তারা বিভিন্ন বাড়ী থেকে গরু বাহির করে নির্জন স্থানে অপেক্ষা করতো। আসামী তরিকুল মোবাইল ফোনে আসামী উমর ফারুককে কল দিয়ে ডাকলে উমর ফারুক মিনি ট্রাক নিয়ে কাছাকাছি রাস্তায় আসা মাত্রই তারা সকলে মিলে চোরাই গরু গুলো ট্রাকে তুলে দিতো। এভাবে তারা বিভিন্ন রোড দিয়ে চোরাই গরু দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিল। আসামী তরিকুল, শংকর, ছাদেকুল ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। আসামীদের দেয়া তথ্য-উপাত্ত যাচাই বাছাই পূর্বক গরু উদ্ধার সহ অন্যান্য আসামীদের সনাক্ত ও গ্রেফতার প্রক্রিয়া অব্যহত আছে
projonmo21.com Popular bangla online newsportal