সর্বশেষ :
;
Home / সারাদেশ / গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও মাল্টিপারপাসের মালিক

গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও মাল্টিপারপাসের মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কয়েকটি এলাকা থেকে প্রগ্রেসিভ মাল্টিপারপাস নামক একটি এনজিও গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার
অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার দুুপুরে এনজিওর প্রধান কার্যালয় উপজেলার হাবিবপুর এলাকার আবুল কালাম আজাদের বাড়ীর নীচ তলার অফিসে গিয়ে তালাবন্ধ দেখা গেছে। এসময় এ এনজিও কোন কর্মকর্তা, ফিল্ড কর্মকর্তা কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে এঘটনায় বিপুল বর্মন নামের এ এনজিওর ফিল্ড কর্মকর্তা বিপুল বর্মন ও গ্রাহক মোঃ হাফিজ আহমদ নামের দুই ব্যক্তি গত ১২ ও ১৪ জুন ঋণ দেওয়ার নামে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে মর্মে থানায় পৃথক দুইটি অভিযোগ দিয়েছেন।


এলাকাবাসী ও এনজিও গ্রাহকরা জানান,গত এপ্রিল মাসে মাহাবুর হোসেন ও শহিদুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তি হাবিবপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের একটি বাড়ীর নীচ তলা ভাড়া নিয়ে রয়েল এন্টারপ্রাইজ নাম দিয়ে গ্রাহকের সঞ্চয় আদায়ের বই তৈরি করে টাকা আদায় করতে থাকেন। এসময় সঞ্চয় বইয়ে সমিতির নাম হিসাবে প্রগ্রেসিভ মাল্টিপারপাস কোং লাল কালি দিয়ে নাম লিখে প্রায় সহস্রধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ঋন দেওয়ার নামে সঞ্চয় ও জামানত বাবদ কোটি টাকা আদায় করেন। এ ব্যক্তিরা এনজিও চালুর পর পর কয়েকজন ফিল্ড কর্মকর্তা
নিয়োগ দিয়ে উপজেলা হাবিবপুর,বিশ্বাসপাড়া,সিনাবহ, সুরিচালা, ভান্নারা, মৌচাক, নিশ্চিন্তপুরসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক গ্রামে সমিতির নাম দিয়ে টাকা আদায়ের কেন্দ্র স্থাপন করেন।পরে কয়েকজন ফিল্ড কর্মীর মাধ্যমে সাপ্তাহিক সঞ্চয় ও ঋন দেওয়ার নামে জামানত আদায় করেন। এনজিও কর্মকর্তা মাহাবুর হোসেন ও শহিদুল ইসলাম গত ১১ জুন ঋণ প্রস্তাবিত গ্রাহকদের টাকা দেওয়ার ঘোষনা দেন। কিন্তু  নির্ধারিত তারিখ আসার আগেই ওই দুই কর্মকর্তা অফিস বন্ধ কওে পালিয়ে যান। গ্রাহকরা ১১জুন সকালে অফিসে এসে দেখেন অফিস বন্ধ রয়েছে।

 

বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানানো হলে এনজিওতে সঞ্চয় রাখা গ্রাহকরা অফিসে এসে ভীড় করেন। গ্রাহকরা এনজিও দুই কর্মকর্তাকে খুঁজে না পেয়ে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বার বার চেষ্টা করলে তাদের মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ দেখায়। পরে এনজিওর ফিল্ড কর্মী বিপুল বর্মন গত ১২ জুন রাতে মাহাবুর হোসেন ও শহিদুল ইসলামকে আসামী করে থানায় একটি অভিযোগ দেন। এঘটনায় নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এনজিও গ্রাহক মোঃ হাফেস আহমেদ বাদী হয়ে গত ১৪ জুন থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগকারী বিপুল বর্মন জানান, আমি এক মাস আগে ওই এনজিওতে ফিল্ড কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়ে দুইটি কেন্দ্রের প্রায় চার লাখ সত্তর হাজার টাকা সঞ্চয় ও ঋণ জামানতের টাকা তুলে মাহাবুর হোসেনের কাছে জমা দেই। তারা দুই জন গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে।

 

আরেক অভিযোকারী মোঃ হাফেজ আহমেদ জানান,আমি নিশ্চিন্তপুর এলাকায় চায়ের দোকানে বেচাকেনা করি। পঞ্চাশ হাজার টাকা ঋনের জন্য এই এনজিও কর্মকর্তাদের বিশ হাজার টাকা জমা দেই। কিন্তু ঋণ পাওয়ার আগেই সব টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তাই আমি থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ বিষয়গুলো তদন্ত করছেন।

গ্রাহক আলেয়া খাতুন, আনুবালা বেগম, জহিরুল ইসলাম, আজবানু জানান, আমরা হাস মুরগি পালনের জন্য ক্ষুদ্র ঋণের জন্য সঞ্চয় ও জামানত দেই কিন্তু এনজিও কর্মকর্তারা আমাদের ঋণ না দিয়ে সঞ্চয় ও জামানতের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে এনজিও মালিক মাহাবুর হোসেন ও শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন করা হলে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সুইচ বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহ আলম বলেন, এঘটনায় তিনটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দোষিদের আইনের আওতায় এনে টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!
;