সাইফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথায় এনজিওর ঋণের চাপে মো. সাহিদ শেখ (৩৫) নামে এক ভ্যানচালক আত্মহত্যা করেছে।
শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে গলায় ফাঁস দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে তিনি আত্মহত্যা করেন।
নিহত সাহিদ সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের পোড়াগদী গ্রামের মৃত আব্দুর সোবহান শেখের ছেলে।

সালথা থানার পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্র জানা গেছে, সাহিদ শেখ মাদকাসক্ত ছিলেন ও জুয়া খেলতেন। জীবিকার তাগিদে তিনি র্দীঘ দিন ধরে ঢাকায় ভ্যান চালাতেন। বাড়িতে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে থাকতেন স্ত্রী। বাড়িতে ঠিকমত আসতেন না সাহিদ শেখ। মাঝে মাঝে এসে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ তুলে নিয়ে আবার ঢাকা চলে যেতেন। এতে তিনি অনেক টাকার দেনা হয়ে যায়। টাকা পরিশোধ করার জন্য এনজিও থেকে বারবার চাপ দেওয়া হচ্ছিল তার স্ত্রী কে এত স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সব সময়ই ঝগড়া হতো ও সাহিদ বাড়িতে আসলেই স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। এতে তার স্ত্রী বিভিন্ন পরপুরুষের সাথে পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। এই খবর সাহিদ জানার পর থেকে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন।
সব মিলিয়ে নানা টেনশন নিয়ে শুক্রবার বিকালে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন সাহিদ। বাড়িতে এসেই স্ত্রীকে মারধরের চেষ্টা করলে ভয়ে বিকালেই তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে তার বাবার বাড়িতে চলে যান। এই সুযোগে সাহিদ গলায় স্ত্রীর শাড়ি কাপড় পেঁচিয়ে নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা সাহিদের সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের ভিতর গিয়ে তার লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শেখ সাদিক বলেন, এনজিওর ঋণের চাপে ও স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার কারণে সাহিদ আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal