সর্বশেষ :
;
Home / লিড নিউজ / টঙ্গীতে নকশী কাঁথায় উদ্যোক্তা সুমির স্বপ্ন 

টঙ্গীতে নকশী কাঁথায় উদ্যোক্তা সুমির স্বপ্ন 

 

আবু সালেহ মুসা, টঙ্গী (গাজীপুর)

নকশী কাঁথা দেশীয় সংস্কৃতিতে একটি অনন্য নাম। গ্রাম-বাংলার হাজারো কথা সুই-সুতার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার এক ভিন্ন নিদর্শন। এমন একটি শিল্প নিয়ে গত এক বছর ধরে ব্যবসা করছেন উদ্যোক্তা হালিমা আক্তার সুমি। সে বর্তমানে ফেসবুক ও তার এলাকার আশপাশের লোকজনের মাধ্যমে ব্যবসাটি শুরু করছেন। ছোট বচ্চাদের নকশী কাঁথা থেকে শুরু করে পোশাক ও বিভিন্ন নকশী পণ্যের সমারোহ তার কাছে রয়েছে।

পৈতৃক নিবাস শরীয়তপুর জেলায় হলেও খুব বেশি সময় সেখানে কাটানো হয়নি তার। বাবা-মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে তৃতীয় সন্তান সুমি। ছোট বেলা তার বাবা মা তাকে বিয়ে দিয়ে দেন। ছোট বেলা বিয়ে হওয়াতে বেশী লেখাপাড়া করতে পারেননি তিনি। বর্তমানে টঙ্গীর আউচপাড়া খাঁ পাড়া এলাকায় স্বামীর সাথেই থাকেন। তিন ছেলে ও এক মেয়ের জননী তিনি। সংসার ও সন্তানের যথাযথ দেখাশোনার জন্য পুরোদস্তুর গৃহিণীতে মনোযোগী হয়ে পড়েন তিনি। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই হাতের কাজের প্রতি অনেক বেশি দুর্বলতা ছিল তার। তাই শখের বসে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কিছু হাতের কাজ শিখেছিলেন তিনি।

সরেজমিনে তার কর্মস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পাটির উপর নকশী কাঁথা সেলাই করার জন্য বিভিন্ন রংয়ের সুতা ও সুই রাখা আছে। সুতা ও সুই দিয়ে বিভিন্ন বয়সের নারীরা কাঁথার কাজ করছে। কেউ কেউ কাঁথা উপর বিভিন্ন ধরেনের রং দিয়ে ফুল আট করছেন। আর একদল কাঁথায় রং দিয়ে আট করার স্থানে সুতা দিয়ে সেলাই করছেন। হালিমা তাদের এসব কাজে সহযোগীতা করছেন। এসময় লিলি দাস বলেন, সংসারের কাজ শেষ করে এখানে কাঁথার কাজ করতে আসেন। কাঁথার কাজ করে কিছু টাকা পাওয়া যায়। যা দিয়ে সংসারের কাজে লাগাতে পারেন।

আর এক নারী শাহনাজ বেগম বলেন, হালিমা আপায় নকশী কাঁথার কাজ শুরু করাতে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। স্বামী ছোটখাট একটা চাকুরী করে। স্বামী অফিসে চলে গেছে আপার এখানে কাঁথার কাজ করতে আসি। কাঁথার কাজ করে যা পাই ত দিয়ে সংসরের টুকটাক কিছু করা যায়। তিনি আরও বলেন, নকশী কাঁথা এখন আর দেখা যায়না। আগে এর কদর ছিলো অনেক। তবে হালিমা আপার মত যদি আরও মেয়েরা উদ্যোগ নিতো তাহলে অনেক নারীদের উপকার হতো।

নকশী কাঁথা কিনতে আসা ইদ্রিস আলী, এসময় তিনি বলেন, বাড়িতে দেড় বছরের নাতী আছে, তার জন্য নকশী কাঁথা নিতে আসছি। খুব সুন্দর সুন্দর নকশী কাঁথা পাওয়া যায়। এখন এই কাঁথা দেখাই যায়না।

নারী উদ্যোক্তা হালিমা আক্তার সুমি বলেন, ব্যাপক চাহিদা থাকার পরেও আমাদের নকশী শিল্পীরা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও সম্মানীটুকু পান না। অনেক শিল্পীরাই এখন এই শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। জড়িত হচ্ছে অন্য পেশায়। যদি এই নকশী পণ্যগুলোকে আমরা দেশে-বিদেশে সবার সামনে তুলে ধরতে পারি, এর জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারি, তখনই শুধু সম্ভব হবে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা। তিনি আরও বলেন, সুই-সুতার নকশি শিল্পের জন্য যে পরিমাণ সময় আর শ্রম আমাদের শিল্পীরা দিচ্ছে, তার যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। এমন অবস্থায় দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই নকশী কাঁথা নিয়ে আমার স্বপ্ন দেখা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!
;