নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হরিণহাটি এলাকার বুধবার সকালে স্বামী রুবেল হোসেন (৩০) স্ত্রীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেছে।
স্ত্রী শামসুন্নাহার শিলা ওরফে মামুনিকে (২৬) হত্যার পর নিজ ঘরের ভিতর থেকে ছিটকারী লাগিয়ে নিজে আত্নহত্যার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করে।
খবর পেয়ে এলাকাবাসী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বন্ধ ঘরের দরজা খুলার জন্য বার বার অনুরোধ করা হলে স্বামী রুবেল হোসেন দারালো অস্ত্র দিয়ে
নিজেকে কুপিয়ে আত্নহত্যার হুমকি দিয়ে স্ত্রীর লাশের পাশে বসে থাকে।
এ নিয়ে পুলিশ দীর্ঘ চারঘন্টা পর নানা কৌশলে পুলিশ রুবেলকে বুঝিয়ে কক্ষের বাহিরে এনে গ্রেপ্তার করেন।
নিহত হলেন, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার হেলালিপাড়া এলাকার রুবেল হোসেনের স্ত্রী শামসুন্নাহার শিলা ওরফে মামুনি (২৬)।
গ্রেপ্তারকৃত ঘাতক স্বামী রুবেল হলেন, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার হেলালিপাড়া এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে।
এলাকাবাসী, নিহতের পরিবার, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, গত ১০-১২ বছর আগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার হেলালিপাড়া
এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে রুবেলের সঙ্গে তার ফুফাতো বোন একই এলাকার শামসুল হকের মেয়ে শিলার প্রেমের সম্পর্কের জেরে তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু
তাদের বিয়ের বিষয়টি পরিবারের লোকজন মেনে নিতে পারেনি। পরে তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনে জীবিকার খোঁজে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আসেন।
কিন্তু বছরখানেক আগে তারা উপজেলার হরিণহাটি এলাকার জংসের আলীর কলোনীর একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। সেখানে ভাড়া থেকে তারা
দুজনে স্থানীয় পোশাক কারখানায় কাজ করে জীবিকা নিবার্হ করে
আসছিলেন। এরই মধ্যে পোশাক কারখানার কাজটি ছেড়ে দেন স্বামী রুবেল।
এ বিষয় নিয়েও তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মাঝে ঝগড়া-বিবাদ হতো।
বুধবার সকালে তাদের দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় ঝগড়া শুরু
হয়। ঝগড়ার এক পর্যায় স্ত্রীকে টেনে- হেচড়ে তাদের ভাড়া কক্ষের ভিতরে
নিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে রুবেল ধারালো বটি দিয়ে এলোপাথারি
কুপাতে থাকলে স্ত্রী বাঁচাও বাঁচাও বলে ডাক-চিৎকার করে স্ত্রী শিলা। কক্ষের
বাইরে থেকে পাশের ভাড়াটে লোকজন তাকে বাঁচাতে চাইলেও দরজা খুলেনি
স্বামী রুবেল। এক পর্যায় বটি দিয়ে স্ত্রীকে জবাই করে কক্ষের ভিতরে স্ত্রীর
রক্তাক্ত লাশের পাশে বসে থাকে রুবেল। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ
ঘটনাস্থলে গেলে নিহতের লাশ ও ঘাতক স্বামীকে আটকের চেষ্টা করেন। কিন্তু
ঘাতক স্বামী তার নিজের গলায় সেই ধারালো বটি ধরে নিজেকেই জিম্মি
করে। এ সময় রুবেল পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেন, দরজা ভেঙ্গে বা কোন ভাবে ঘরের
ভিতরে ঢুকার চেষ্টার করলে আমার হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে আমি নিজেকেও শেষ
করে দিবো। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার ওসি আকবর আলী, তদন্ত ওসি
আবুল বাশারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ও কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের
দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ঘওে ঢুকার চেষ্টা করে। পুলিশ অবশেষে
প্রায় চার ঘন্টা শ্বাসরুদ্ধ অভিযান চালিয়ে ঘাতক রুবেলকে গ্রেপ্তার
করে। পরে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ
তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তবে
হত্যাকান্ডের কারণ এখনো উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতার্ (ওসি) আকবর আলী খান জানান, ওই
হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও ঘাতক স্বামী নিজেকে
অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ ও
ফায়ার সার্ভিসকে অবগত করা হয়। এরপর তার হাতের বটি দিয়ে যাতে অন্য
কাউকে আঘাত বা নিজে খুন হতে না পারে। সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে
কৌশলে অস্ত্রধারীকে নিরস্ত্র করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal