হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান
নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকায়
গ্রামীন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক হামিদুর হকের বিরুদ্ধে
অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সংবাদ সন্মেলন অনুষ্ঠিত।
শনিবার দুপুরে প্রেস ক্লাব সন্মেলন কক্ষে উপজেলার গোলনা শাখার গ্রামীন ব্যাংকের ব্যবস্থাপক (বর্তমানে কর্মরত) হামিদুল হকের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী পরিবারের উদ্দ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের মর্জিনা খাতুন। তিনি সংবাদ সন্মেলনে
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মর্জিনা খাতুন বলেন, তার স্বামী মোঃ আমজাদ হোসেন গ্রামীণ ব্যাংকের নীলফামারী সদর থানাধীন রামগঞ্জ বাজার শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ওই শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক বর্তমানে জলঢাকা উপজেলার গোলনা শাখায় কর্মরত হামিদুল হকের সাথে তাদের পারিবারিক সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।এই সুম্পর্কের সুযোগ নিয়ে হামিদুল হক বিভিন্ন সময়ে তার ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও অফিসের অডিট মেলানোর অজুহাত দেখিয়ে মর্জিনা খাতুন ও তার স্বামী সহ আত্মীয়ের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার নেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান হামিদুল হক বিভিন্ন কিস্তিতে জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ এবং অফিসের অডিটে ক্যাশ ঘাটতি পূরণের কথা বলে আমার পরিবারের কাছ ধার হিসাবে থেকে সর্বমোট ২৩ লক্ষ ৩১ হাজার ১৮ টাকা গ্রহণ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন যে, অফিসের অডিটের সময় হিসাবের ক্যাশ ঘাটতি লুকাতে হামিদুল হক সহকর্মীদের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন এবং ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে হিসাব সমন্বয় করতেন।এমনকি ব্যাংকের ব্যালেন্স সার্টিফিকেটেও হিসাবে গরমিল করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে বলেন হামিদুল হক কেবল এই পরিবারটিকেই নয়, বরং তার দ্বারা আরও একাধিক ব্যক্তি প্রতারিত হয়েছেন। সে ডাক্তার হামিদুল ইসলামের কাছ থেকে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা এবং লক্ষিছাপ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রঞ্জিত কুমার রায়ের কিস্তি বাবদ ৩৭ হাজার টাকা গ্রহন করে শাখার হিসাবে জমা না করে তিনি নিজেই আত্মসাৎ করেন।
তিনি আরো বলেন আমার স্বামীর সকল পাওনা টাকা চাইতে গেলে শাখা ব্যবস্থাপক হামিদুল হক চাকুরীতে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমজাদ হোসেনকে মানসিকভাবে অসুস্থ সাজিয়ে শাস্তিমূলক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
তিনি জানান আমার স্বামী গত ৩১-০৫- ১৯৯৮ সাল হইতে অদ্যবধি গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় সততা ও নিষ্ঠার সহিত চাকুরী করে আসছেন। বর্তমানে আমজাদ হোসেনকে লালমনির হাট জেলার হাতিবান্ধা এড়িয়া অফিসে ওএস ডি করে রাখা হয়েছে।এর আগে ০৯-১২-২৪ইং তারিখে কর্মদক্ষতার কারণে গ্রামীন ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমার স্বামীকে অভিনন্দন পত্র প্রেরণ করেছেন। তিনি আরও বলেন গত ২১-০১-২৫ইং তারিখে শাখা ব্যবস্থাপকের নিজ নামীয় গ্রামীণ ব্যাংকের নীলফামারীর রামগঞ্জ হাট শাখার সঞ্চয়ী হিসাব নং ১০০৩৫৫ এর এবং ৪৮৭৫২৮ নং চেকে ৯৩ হাজার ৫শত টাকার একটি চেক আমার স্বামীকে দেন। তা ব্যাংকে ডিজ অনার হয়।
মর্জিনা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন,সুচতুর এই ব্যবস্থাপক আমাদের সারা জীবনের সঞ্চয় হাতিয়ে নিয়ে এখন আমাদেরই উল্টো নানাভাবে হয়রানি করছেন ও হুমকি দিচ্ছেন। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানালেও তিনি বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত কাজে বাধাগ্রস্ত করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত পাওনা টাকা উদ্ধার এবং দুর্নীতি পরায়ণ ব্যবস্থাপক হামিদুল হকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এসময় ভুক্তভোগী পরিবার থেকে শরাফত আলী সরু, জরিনা বেগম, ছমেদা বেগম, সাহিদা বেগম ও শাহরিয়ার নাফিজ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাখা ব্যবস্থাপক হামিদুল হকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহল মনেনকরছেন,একটি স্বনামধন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal