সর্বশেষ :
Home / সারাদেশ / তিস্তার পানি বিপদ সীমার উপরে

তিস্তার পানি বিপদ সীমার উপরে

 

 

নীলফামারী প্রতিনিধি

 

 

ভারতের সিকিমের পাহাড়ে ও সমতলে ভারী বর্ষণ সহ উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদী গর্জে উঠেছে।

 

বুধবার (১৩ আগস্ট)  নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার (৫২.২২) ৭ সেন্টিমটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

এর আগে মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬ টায় বিপদসীমার ২ সেন্টিমটার নিচে ছিল। ১২ ঘন্টা ঘন্টার ব্যবধানে ৯ সেন্টিমটার পানি বৃদ্ধি পায়।

 

তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশী অমিতাভ চৌধুরী। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া  হয়েছে। এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা পারের  বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

 

ডালিয়া বাইশপুকুর এলাকার তিস্তাপারের এলাকাবাসী জানায় তিস্তায় ঘন ঘোলাপানি ধেয়ে আসছে। নদীপারে পানির শোঁশোঁ শব্দ এলাকা কাঁপিয়ে তুলছে।

 

এদিকে ডালিয়া পাউবোর বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানে ভারী বর্ষন ও পাহাড়িঢলে তিস্তা নদীতে পানির ঢল নেমেছে। তাই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

 

এদিকে পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমটির ওপর দিয়ে প্রবাহের কারনে নীলফামারীর ডিমলা, জলঢাকা উপজেলা, লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা, পাটগ্রাম, কালিগঞ্জ, আদিতমারী উপজেলার নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, চর ও  চরের এলাকা প্লাবিত হয়েছে বলে জানাগেছে।

 

এ ছাড়া তিস্তা ব্যারেজের ভাটি দিকে তিস্তা নদী দিক পরিবর্তনে নীলফামারীর  ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর মৌজা এলাকার তুহিন ক্রস বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধটি ভাঙ্গলে পানি ডুকে চারটি ইউনিয়ন প্লাবিত হতে পারে। এলাকাবাসী বাঁধটি রক্ষার্থে বাঁশের ও কাঠের গুড়ি এবং বালির বস্তা ফেলছেন।

 

এদিকে তিস্তার পানি চরাঞ্চলের বাড়ি ঘরের চারপাশে প্রবেশ করার কারনে তলিয়ে গেছে চরের সড়ক। ডুবে গেছে ওইসব এলাকার ফসলি জমি গুলো। ফলে পানি বন্ধি হয়ে পরেছে তিস্তা পারের কয়েক হজার মানুষ।

 

তিস্তা নদী ভারতের সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার কালীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ফলে তিস্তার উজানে বন্যা দেখা দিলে তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। তিস্তাপাড়ের মানুষজন জানান, সারারাত ধরে বৃষ্টি হচ্ছে । সকালেও সেই বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। তিস্তার ঢল ও বৃষ্টির কারনে চরাঞ্চলের পরিবারগুলো উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন, এতে বন্যার আশঙ্কা করছে চরের এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!