সর্বশেষ :
;
Home / সারাদেশ / কালীগঞ্জে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে যৌথবাহিনীর উচ্ছেদ অভিযান ৪৪টি পরিবারের ১৫৫টি অবৈধ ঘর উচ্ছেদ

কালীগঞ্জে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে যৌথবাহিনীর উচ্ছেদ অভিযান ৪৪টি পরিবারের ১৫৫টি অবৈধ ঘর উচ্ছেদ

 

 

 

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

পূর্বাচলের ২৪ ও ২৫ নম্বর সেক্টরে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনী উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ৪৪টি পরিবারের ১৫৫টি অবৈধভাবে নির্মিত ঘরবাড়ি গুড়িয়ে দিয়েছেন। গাজীপুর জেলা ও কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই উচ্ছেদ অভিযানে বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ, রাজউক ও বন বিভাগের শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশ গ্রহণ করেন। এই এলাকাকে শালকপিচ সমৃদ্ধ ভ‚মি ব্যবস্থাপনা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য সরকার বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। উপজেলা নাগরী ইউনিয়নের কেটুন ও পারার্বতা এলাকার কিছু লোকজন সেই জমি দখল করে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে এখান থেকে চলে যেতে সরকারিভাবে বলা হলেও তারা কোনো তোয়াক্কা করেনি। গত ২৪ জুলাই পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন অধিশাখা-১ এর সিনিয়র সহকারী সচিব জোনায়েদ কবীর সোহাগ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার সকালে থেকে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পূরণে যৌথবাহিনীর সহযোগিতায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

এই সময় বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, প্রাকৃতিক বনভূমি রক্ষা ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ২২(১) ধারার ক্ষমতাবলে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। লক্ষ্য ছিল পূর্বাচল প্রকল্পের আওতাধীন ১৪৪ একর শালকপিচ সমৃদ্ধ বনভূমির সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ।

 

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তনিমা আফ্রাদ ও সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) নূরী তাসমিন ঊর্মির নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট মোতায়েন করা হয়। উচ্ছেদ হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে টিনশেড, আধাপাকা ও পাকা স্থাপনাও ছিল।

 

অভিযান চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, তাদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অভিযান চালানোর আগে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযানে বিজিবির উপস্থিতি ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দলও অভিযানে যুক্ত ছিলেন।

 

এই অভিযান পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা ও প্রকল্পের জমি পুনরুদ্ধারের দিক দিয়ে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এই সময় উপস্থিত ছিলেন, বিজিবি’র সুবেদার মো. আবুল কালাম আজাদ, র‌্যাব-১ ওয়ারেন্ট অফিসার মো. ওয়াদুদ, পুলিশ ইন্সপেক্টর মেহেদী হাসান, বিদ্যুৎ বিভাগের সুপারভাইজার মেহেদী হাসান, রাজউক কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান শাহীন প্রমুখ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!
;