সর্বশেষ :
;
Home / সারাদেশ / কারখানার বর্জ্যে মরছে নদী খাল মির্জাপুরে সাদিয়া টেক্সটাইলের বিরুদ্ধে এলাকাবাসির মানববন্ধন

কারখানার বর্জ্যে মরছে নদী খাল মির্জাপুরে সাদিয়া টেক্সটাইলের বিরুদ্ধে এলাকাবাসির মানববন্ধন

 

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

মির্জাপুরে সাদিয়া টেক্সটাইলের অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য মিশ্রিত পানি নদী ও খালে ফেলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ভূক্তভোগি এলাকাবাসি। রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাকুল্যা বাসস্টান্ডে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জামুর্কী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ এই মানববন্ধনে অংশ নেয়।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তৃতা করেন জামুর্কী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল, বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আকিব খান চেীধুরী , মমিনিুল ইসলাম, শেখ হেলাল ও শামীম আল মামুন চৌধুরী প্রমুখ।

জানা যায়, কয়েক বছর আগে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের কদিমধল্যা-সংলগ্ন বানিয়ারা মৌজায় সাদিয়া টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড নামে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। কারখানার দূষিত বর্জ্য খালে ফেলতে দুই বছর আগে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে কংক্রিটের পাইপ স্থাপন করা হয়। ওই পাইপ দিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে পাকুল্যা খালে নিয়মিত কারখানার দূষিত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। খালের পানি প্রবাহিত হচ্ছে লৌহজং নদীতে। ফলে ক্রমেই দূষণে পাকুল্যা খাল ও লৌহজং নদীর পানি অসহনীয় দুর্গন্ধযুক্ত ও কালো কুচকুচে হয়ে পড়েছে। এতে খাল ও নদীর মাছ মরে যাচ্ছে। নদী ও খালের পানি ব্যবহারকারীরা পড়েছেন বিপাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা নদী ও খাল থেকে মাছ ধরলেও সেই মাছ রান্নার পর দুর্গন্ধে খাওয়া যাচ্ছে না।

পাকুল্যা খাল ও লৌহজং নদী এ উপজেলার জামুর্কী, ভাতগ্রাম ও বানাইল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ পানির উৎস। এই খাল ও নদীতে স্থানীয় বাসিন্দারা মাছ ধরা ছাড়াও গোসল, গৃহস্থালির কাজ, আবাদি জমিতে সেচ ও গরু-মহিষ গোসল করানোর জন্য ব্যবহার করে থাকেন। সম্প্রতি খাল ও নদীর পানি কালো কুচকুচে হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। জন্ম নিচ্ছে পোকা। এ কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে খাল ও নদীর পানি। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে একাধীকবার এবিষয়ে বৈঠক হয়। তারা কারখানা কর্তৃপক্ষকে রাসায়নিক বর্জ্য খালে ফেলতে মানা করলেও কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরুপায় এলাকাবাসী এবিষয়ে মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করেন। এতেও যাদি রাসায়নিক বর্জ্য মিশ্রিত পানি খালে ফেলা বন্ধ করা না হয় তবে আরো বৃহত কর্মসুচী দেওয়া হবে বলে মানববন্ধন থেকে জানানো হয়।

সাদিয়া টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তাদের কারখানায় বায়োলজিক্যাল ইটিপি রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা ইটিপি চলে এবং সরকার নির্ধারিত রেঞ্জের মধ্যেই আছে। বায়োলজিক্যাল ইটিটি করলে পানির মূল রং থাকে না। এটা কোনো ক্ষতির কারণ নয়। তাছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বায়ারদের পক্ষ থেকেও এবিষয়ে নিয়মিত মনিটরিং করা হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!
;