সর্বশেষ :
Home / সারাদেশ / অন্তত আমার ছেলের লাশটা এনে দাও, হৃদয়ের মায়ের আকুতি আহাজারি 

অন্তত আমার ছেলের লাশটা এনে দাও, হৃদয়ের মায়ের আকুতি আহাজারি 

 

 

 

মেহেরপুর প্রতিনিধিঃমেহেরপুরের গাংনীতে আশা এনজিও কর্মি হৃদয়কে তিন দিনেও উদ্ধার করতে পারিনি পুলিশ। স্থানীয় ব্রাঞ্চের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে হত্যা করে লাশ গুম করার অভিযোগ থাকলেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। এদিকে মামলা না করার জন্য স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা চাপ দিচ্ছেন বলে জানান নিখোজ হৃদয় আলীর পরিবার।

গত ২ অক্টোবর সকালে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাওট গ্রামে আশা এনজিও অফিসের হৃদয়ের শয়ন কক্ষে তার পরিহিত টি-শার্ট, রক্ত মাখা বটি ও পুরো মেঝেতে রক্ত ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সে সময় থেকে হৃদয় নিখোজ রয়েছে। ওই দিনই আশার বাওট ব্রাঞ্চের ম্যানেজার আমিনুল ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

‘হৃদয়কে খুজে দেওয়া হবে’ বিভিন্ন জনের এমন প্রতিশ্রতিতে মামলা না করতে চাপ দেওয়া হয় হৃদয়ের পরিবারকে।

পরে ৪ অক্টোবর গাংনী থাানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন হৃদয়ের মা আক্তার বানু।

নিখোজ হৃদয় আলী গাংনী উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামের মিন্টু আলীর ছেলে। সে দির্ঘ দিন ধরে আশা অফিসের বাওট শাখায় পিয়ন ও বাবুর্চির কাজ ছাড়াও শুক্র ও শনিবার রাতে অফিস পাহারা দিত।

ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও নিখোজ হৃদয়কে উদ্ধার করতে পারিনি পুলিশ। হৃদয়কে ফিরে পাওয়ার দাবিতে ৫ অক্টোবর দুপুর ১টার সময় মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন হৃদয়ের পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে হৃদয়ের পরিবারের লোকজন বলেন, আমরা থানায় অভিযোগ দিয়ে আরও বেশি বিপদে পড়ে গেছি। পুলিশ উল্টো আমাদেরই হুমকি দিচ্ছে। থানায় বিচার চাইতে গেলে ওসির কক্ষে বসে থাকা আশার বড় বড় কর্মকর্তারা আমাকে ওসির সামনে হেনস্তা করে। আমার ছেলের লাশটাও অন্তত এনে দেওয়া হোক বলে তারা দাবি করেন।

নিখোজ হৃদয়ের স্ত্রী কনা জানান, বাওট ব্রাঞ্চের মানেজার আমিনুল এর সাথে ওই অফিসে কর্মরত এক মহিলার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তাদের অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও ছিল হৃদয়ের কাছে। এটা জানার পর থেকে ম্যানেজার আমিনুল তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল।

গাংনী থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হৃদয়কে উদ্ধারের সব চেষ্টা অব্যাহত আছে। তাকে খুঁজে পেলে সব জটলার অবশান হবে। তদন্তের জন্য এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!