সর্বশেষ :
;
Home / সারাদেশ / মির্জাপুরে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে প্রবাসির মাইক্রোবাসে ডাকাতি, গলিবিদ্ধ ১

মির্জাপুরে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে প্রবাসির মাইক্রোবাসে ডাকাতি, গলিবিদ্ধ ১

 

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরে প্রবাসির মাইক্রোবাসে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে অস্্েরর মুখে জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গোড়াই হাইওয়ে থানার রেকার চালকের সহকারী তুহিন ডাকাতের গুলিতে আহত হয়।তাকে গুরুতর অবস্থায় কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গলিবিদ্ধ তুহিন উপজেলার মহেড়া এলাকার বাসিন্দা। সে রেকার চালক আমিনুল ইসলামের কাজ সহায়তা করার কাজে নিযক্ত রয়েছে।

ডাকাত দলের সদস্যরা প্রবাসি ও তার স্বজনদের নিকট থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মালামাল নিয়ে চম্পট দিয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার পোষ্টকামুরী চরপাড়া এলাকার পল্লিবিদ্যুতের সবাষ্টেশনের কাছে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ডাকাত দলের ব্যবহৃত একটি হাইস ও প্রবাসির মাইক্রোবাস এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন অস্্র উদ্ধার করেছে।

শনিবার বেলা ১১ টার দিকে মাইক্রোবাসের যাত্রী প্রবাসির স্বজন সুমাইয়া আক্তার জানান, তার ননদ বিউটি আক্তার জর্ডান প্রবাসি। তিনি বৃহস্পতিবার জর্ডান থেকে ঢাকায় আসেন। তারা টঙ্গী এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে একদিন অবস্থান করার পর শুক্রবার রাত ১২ টার দিকে মাইক্রোবাস যোগে বগুড়ার সারিয়াকান্দির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।মাইক্রোবাসে তার ননদ বিউটি, সম্পা, শ^শুর আব্দুল হামিদ ও তাদের শিশু সন্তান ছিল। রাত আড়াইটার দিকে তাদের মাইক্রোবাসটি মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার পোষ্টকামুরী চরপাড়া নামক এলাকার পল্লিবিদ্যুতের সাবষ্টেশনের কাছে পৌছয়। তখন পেছন দিক থেকে আসা ডাকাতদলের একটি হাইস তাদের মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করে। হ্যান্ডকাপ, ওয়াকিটকি, পিস্তল ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র হাতে ৭-৮ জনের ডাকাত দল প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে প্রবাসির একাধিক ব্যাগ তল্লাসি করে নগদ ৭০ হাজার টাকা কয়েকটি মোবাইল সেট হাতিয়ে নেয় এবং বলে আপনারা ভয় পাবেননা।

এসময় ঘটনাস্থলের কাছেই চরপাড়া মোড়ে ছিল টহল পুলিশ এবং গোড়াই হাইওয়ে থানার রেকার। মহাসড়কের নাটিয়াপাড়া সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রেকারটি সেখানে যাচ্ছিলো।দুটি মাইক্রাবাস এবং মানুষের জটলা দেখে রেকার চালক আমিনুল ইসলাম সহকারী তুহিন সেখানে গিয়ে কি হয়েছে জানতে চাইলে প্রবাসির স্বজনরা এবং ডাকাতদলের সদস্যরা এড়িয়ে যায়। তাদের সন্দেহ হলে রেকার দিয়ে হাইস এবং মাইক্রোবাসকে বেরিকেড দেয়। পরে রেকার চালকের সহকারী তুহিন হাইসের চাবি নিতে গেলে তাকে হাতে গুলি করে ডাকাতদলের সদস্য। গুলিবিদ্ধ হয়েও তুহিন ডাকাতদলের এক সদস্যকে ধরতে যান। এসময় ডাকাতরা রেকারের মধ্যে গুলি করে। টাহল পুলিশ এগিয়ে গেলে তারা হাইস রেখে পালিয়ে যায়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রবাসীর মাইক্রোবাস, ডাকাতদলের ফেলে হাইস, প্রবাসি এবং তার স্বজনদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। গুলিবিদ্ধ তুহিনকে উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তুহিন বলেন, ডাকাত দলে কমপক্ষে ৭-৮ জন ছিল। তাদেরকে ঠেকাতে গেরে আমার হাতে গুলি করে। এরপর ডাকাতরা রেকারে গুলি করে। টহল পুলিশ এগিয়ে এলে ডাকাতদল তাদের হাইস রেখে পালিয়ে যায়।

কুমুদিনী হাসপাতালের উপপরিচালক অনিমেষ ভৌমিক বলেন, গুলিবিদ্ধ তুহিনের চিকিৎসা চলছে। এখন সে শঙ্কামুক্ত আছে।এব্যাপারে প্রবাসি বিউটির বোন বাদী হয়ে ৮/৯ জনকে অজ্ঞাত আসামী মির্জাপুর থানায় মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাসেদুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডাকাত দলের ফেলে যাওয়া একটি হাইস ও প্রবাসির মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ তুহিনকে কুমুদিনী ভর্তি করা হয়েছে। থানায় মামলা হয়েছে। সন্ধা পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!
;