কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক মাদক ব্যবসায়ীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ তার পরিবার ও গ্রামবাসী। তাকে ধরে পুলিশে দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েন গ্রামবাসী। ৯৯৯-এ ফোনসহ উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশে জানিয়েও আইনি সহয়াতা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের চাতৈলভিটি সোহাগীরটেক এলাকায় রোববার রাতে।
ওই মাদক ব্যবসায়ী হলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার চাতৈলভিটি সোহাগীরটেক এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সোহাগ হোসেন (২৫)।
ভুক্তভোগী পরিবার ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১০/১২ বছরে আগে একটি দুর্ঘটনায় তার বাবা মারা যাবার পর মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়েন সোহাগ। এরপর মাদক সেবন থেকে ধীরে ধীরে সে মাদক ব্যবসায়ী হয়ে উঠে। মাদকের টাকার জন্য বৃদ্ধ দাদা-দাদীকে বিভিন্ন সময় মারধর করেন মাদকাসক্ত সোহাগ।
এছাড়াও সে বিভিন্ন সময় বাপ দাদার ঘর-বাড়ি ভাংচুরসহ আগুন পযর্ন্ত দিয়েছে। শুধু তাই নয়, তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ নিরিহ পরিবার ও গ্রামবাসী। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামবাসী রোববার রাত ৮টার দিকে মাদক ব্যবসায়ী সোহাগ কে আটক করে। পরে পরিবারের মতামতে তাকে আইনের হাতে সোপর্দের সিদ্ধান্ত নেয় । এরপর গ্রামবাসী প্রথমে ৯৯৯-এ ফোন দিলে তাদের কালিয়াকৈর থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়। পরে থানায় ফোন দিলে ডিউটি অফিসার তাদের উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোনে ঘটনাটি জানানো হলে তিনি রাতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা নিষেধ জানিয়ে থানায় যোগাযোগ করতে বলেন। এরপর গ্রামবাসী থানার ওসিকে ফোনে ঘটনাটি জানালে তিনি ওই মাদকাসক্ত যুবককে নিরাময় কেন্দ্রে নেয়ার পরামর্শ দেন। এতে চরম বিপাকে পড়েন তার পরিবার, স্থানীয় মেম্বার নজরুল ইসলাম সহ গ্রামবাসী। মধ্য রাত পর্যন্ত প্রশাসনের আইনি সহায়তা না পেয়ে ওই মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন গ্রামবাসী ।
মাদকাসক্ত সোহাগের দাদা কলিম উদ্দিন ওরফে পন্ডিত জানান, আমার নাতি সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে মাদকের সাথে জড়িত। মাদকাসক্ত হয়ে বিভিন্ন সময় আমাকেসহ পরিবারের সবাইকে মারধর করে। ৩/৪ দিন আগেও আমাদের ঘরে আগুনও লাগিয়ে দেয়। এলাকার মানুষ সবাই তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। এ জন্য তাকে পুলিশে দিতে চেয়েছিলাম।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, রাত ৮টার দিকে মাদকাসক্ত সোহাগকে আটক করে গ্রামবাসী। ৯৯৯-এ ফোন, উপজেলা প্রশাসনকে ফোন ও থানায় ফোন দিয়েও রাত ১২টা পর্যন্ত আইনি সহযোগীতা পাইনি। পরে বাধ্য হয়েই তাকে ছেড়ে চলে যায় এলাকার লোকজন ।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান বলেন, যদি মাদকাসক্ত হয়ে থাকে তাহলে তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হোক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, স্থানীয়রা বিষয়টি অবগত করলেও রাতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ব্যাপারে বিধি নিষেধ থাকায় মোবাইল কোর্ট করা হয়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal