সর্বশেষ :
;
Home / সারাদেশ / জলঢাকায় বিদ্যালয়ে ৩ মাস ধরে অনুপস্থিত সহকারী শিক্ষিকা

জলঢাকায় বিদ্যালয়ে ৩ মাস ধরে অনুপস্থিত সহকারী শিক্ষিকা

 

 

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ

 

 

নীলফামারীর জলঢাকায় ৯৬ দিন থেকে কর্মস্থলে  অনুপস্থিত রয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা।

 

উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন ওই শিক্ষিকা। নিয়ম না মেনে চিকিৎসা ছুটির আবেদন করে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় তার বেতনভাতা বন্ধ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবগত করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

 

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারী’২৫ ইং তারিখে সহকারী শিক্ষিকা শাম্মী আক্তারের স্বামী আবুল খয়ের মোহাম্মাদ রহমুতুল বারী বকুল মৃত্যুবরন করেন। তবে তার স্বামীর মৃত্যুর কয়েকদিন আগ থেকেই নিখোঁজ তিনি। পরে ৯ জানুয়ারি অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মাধ্যমে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নিকট ২৫/০১/২৫ইং হতে ১১/০২/২৫ পর্যন্ত মোট ১৪ দিনের চিকিৎসা ছুটির আবেদন করেন শাম্মী আক্তার। চিকিৎসা ছুটির জন্য যে সকল কাগজপত্র আবেদনপত্রের সাথে সংযুক্ত করার নিয়ম রয়েছে সেসকল কাগজপত্র না দিয়েই প্রধান শিক্ষকসহ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ছুটির আবেদন করেন ওই শিক্ষিকা। আর এ কারনে তার ছুটির আবেদনটি মঞ্জুর হয়নি। ছুটি মঞ্জুর না হওয়ার বিষয়টিও চিঠির মাধ্যমে ওই শিক্ষিকাকে জানিয়ে দেন সংশ্লিষ্ট অফিস। অপরদিকে আবেদনের ৪ দিন পূর্বে থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত স্কুলে অনুপস্থিত তিনি। এ ঘটনায় জানুয়ারী মাস থেকে তার বেতনভাতা বন্ধ করে গত ০৯/০২/২৫ইং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে লিখিতভাবে অবগত করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, শাম্মী আক্তার নীলফামারী সদরে একটি বাসায় বসবাস করছেন। সরকারি চাকরি বিধি অমান্য করে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেই অনলাইন বদলির মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি স্কুলে যোগদানের আবেদন করেছেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিকের কোন শিক্ষক ছুটিতে থাকাকালীন বা প্রশিক্ষণে থাকাকালীন অবস্থায় বদলি’র আবেদন করতে পারবেন না।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, পরকীয়া প্রেমিকের সূত্র ধরেই তিন সন্তানের জননী শাম্মী আক্তার  তার স্বামীর মৃত্যুর আগ থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। এর আগেও কয়েকবার এরকম নিখোঁজ হয়েছিলেন তিনি। স্ত্রী’র এমন কর্মকান্ডের কারনেই পারিবারিক অশান্তিতে ছিলেন স্বামী আবুল খয়ের মোহাম্মাদ রহমুতুল বারী বকুল।

 

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষিকা শাম্মী আক্তার বলেন,” আমি নিয়ম মেনে ছুটির আবেদন করেছি,বেতনভাতা বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে, এ বিষয়ে আমি আর কোনো কথা বলতে চাই না বলে ফোন কেটে দেন তিনি।”

 

 

গাবরোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামসুল আলম বলেন,” গত ৯ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে দিয়ে চিকিৎসা ছুটির আবেদন করেন শাম্মী আক্তার। এবং ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি।  পরে তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অফিসকে লিখিত ভাবে অবগত করি।”

 

 

সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হারন-অর রশিদ বলেন,” সহকারী শিক্ষিকা শাম্মী আক্তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই ছুটির আবেদন করায় তার বেতন বন্ধ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

 

 

সরকারি চাকরি বিধি অমান্য করে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে অন্যত্রে বদলির আবেদন করার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কুমারেশ চন্দ্র গাছি বলেন,” শাম্মী আক্তারের আবেদনকৃত কাগজপত্র পূর্নরায় যাচাই বাছাই পূর্বক তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!
;