সর্বশেষ :
Home / সারাদেশ / টঙ্গীতে বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, চার ঘন্টার পর যান চলাচল

টঙ্গীতে বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, চার ঘন্টার পর যান চলাচল

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে কারখানা বন্ধ ও বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকায় বিএইচআইএস অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভ শুরু করেন। সকাল ১১টায় যৌথবাহিনী শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। চার ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিলো। এতে যাত্রী ও সাধারণ জনগন চরম ভোগাক্তিতে পড়েছেন।

শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, বিএইচআইএস অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানায় প্রায় ১ হাজার ৩০০ শ্রমিক কাজ করেন। সোমবার তাদের ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু বিকেলে মালিকপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়েই গোপনে কারখানা ত্যাগ করেন। এরপর শ্রমিকরাও বাসায় ফিরে যান। তবে মঙ্গলবার সকালে কাজে যোগ দিতে এসে শ্রমিকরা কারখানার প্রধান ফটকে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ’ লিখিত নোটিশ দেখতে পান।

ওই নোটিশ দেখে শ্রমিকেরা সকাল সাতটা থেকে কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপযায়ে তাঁরা হোসেন মার্কেট ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে ওই মহাসড়কের উভয় দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে দুর্ভোগে পড়েছেন ওই মহাসড়কে চলাচলকারীরা।

কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়েছে, কারখানার সকল কর্মী ও কর্মচারীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ১০ মার্চ অনুমান সকাল ১০টার সময় কর্মী ও কর্মচারীগণ নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ বন্ধ করে কারখানার অভ্যন্তরে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। কর্মী ও কর্মচারীগণকে কাজে যোগদানের জন্য বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কর্মী ও কর্মচারীগণ কাজে যোগদান থেকে বিরত থাকে। কর্মী-কর্মচারীগণের এই ধরনের আচরণ অবৈধ ধর্মঘটের শামিল। কর্তৃপক্ষ মনে করছে উচ্ছৃঙ্খল কর্মী-কর্মচারীগণ কারখানাতে যেকোনো ধরনের নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে। যার কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩(১) ধারা মোতাবেক ১১ মার্চ হতে অনির্দিষ্ট কালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করল। পরবর্তীতে কারখানা খোলার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে কারখানা খোলার তারিখ যথারীতি নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে।

মাসুদ নামে এক শ্রমিক বলেন, কিছুদিন পরেই ঈদ। এখন বেতন-ভাতা আটকে রেখে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা মানে আমাদের জীবন ধ্বংস করে দেওয়া। আমরা দিশেহারা কীভাবে বাসা ভাড়া দেব, দোকানের বাকি শোধ করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।

একইভাবে শ্রমিক শারমিন আক্তার বলেন, গতকাল আমরা দীর্ঘসময় কারখানায় বেতনের জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু মালিকপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়েই চোরের মতো পালিয়ে গেছে। আমাদের সমস্যার সমাধানের জন্য তারা কোনো চেষ্টাই করেনি।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, সকাল ৭টা থেকে শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। শ্রমিকদের বুঝিয়ে বেলা ১১টার দিকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!