
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জে মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী এক সন্তানের জননী স্বামীর সাথে অভিমান করে আতœহত্যা করার সংবাদ পাওয়া গেছে। রবিবার (৯ মার্চ) দুপুরে শ্রাবনী দেবনাথ মোবাইল ফোনে স্বামীর সাথে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। ফোনে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হলে শ্রাবনী ঘরের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করেন। শ্রাবনীর মামা স্বপন দেবনাথ ঘরের দরজায় ধাক্কা দিয়ে ঘরের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে ঝুলন্ত অবস্থায় শ্রাবনীর লাশ নিচে নামায়। সংবাদ পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল হতে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলাউদ্দিন।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চুপাইর গ্রামের স্বপন দেবনাথ মাষ্টারের বোন চঞ্চলা দেবনাথের সাথে বিগত ৪০ বছর পূর্বে বি.বাড়ীয়ার সুনীল দেবনাথের বিয়ে হয়। পরে সুনীল দেবনাথ নরসিংদীর ঘোড়াদিয়া এলাকায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। বিগত ১০ বছর পূর্বে সুনীল মৃত্যুবরণ করলে চঞ্চলা দেবনাথ স্বপরিবারে পিত্রালয়ে চলে আসেন। চঞ্চলা দেবনাথ ও সুনীল দেবনাথের কন্যা শ্রাবনী দেবনাথ (২৫) এর সাথে ৩ বছর পুর্বে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কড়িহাতা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী লিটন দেবনাথের সাথে বিবাহ হয়। তাদের সংসারে সানড্রি দেবনাথ নামে ১৮ মাসের একজন কন্যা সন্তান রয়েছে। কিছুদিন পূর্বে শ্রাবনী মালয়েশিয়া থেকে দেশে আসেন।
এ বিষয়ে নিহতের মামা চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন দেবনাথ বলেন, দুপুরে কিছু শিক্ষার্থী আমার কাছে পড়তে আসেন। তাদের পড়া শেষ করে দুপুরে খাওয়ার সময় শ্রাবনীকে মোবাইল ফোনে স্বামীর সাথে কথা বলতে দেখি। একটু পরে আমার মেয়ে বলেন শ্রাবনী আপা ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। সাথে সাথে ঘরের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে দেখি শ্রাবনী ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে রয়েছে। দ্রæত তাকে নামিয়ে ডাক্তার এনে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখি সে মারা গেছেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলাউদ্দিন বলেন, আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। থানায় লাশ নিয়ে আসে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal