
জলঢাকা,নীলফামারী প্রতিনিধি :-
নীলফামারীর জলঢাকায় কৈমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেকুল সিদ্দীক এর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পেয়ারী বেগমের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবী করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন ওই ইউনিয়নের ৭.৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য রাজিয়া সুলতানা।
রবিবার দুপুরে রাজিয়া সুলতানা তার কর্মী সমর্থকদের সাথে নিয়ে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য রাজিয়া সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান পেয়ারী বেগম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পরিষদে তার একক সিদ্ধান্তে ও এক নায়কতন্ত্র শাসন কায়েম করেন। আমরা দু’একজন ইউপি সদস্য ছাড়া সবাই আওয়ামীলীগ আদর্শের হওয়ায় কৈমারী ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কাজ ব্যহত হচ্ছে। তাছাড়া প্যানেল চেয়ারম্যান পেয়ারী বেগম কৈমারী ইউনিয়ন আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সদস্য। প্যানেল চেয়ারম্যানের এমন কৃতকর্মের বিরুদ্ধে গত বছরের ১১ই নভেম্বর থেকে ইউপি সদস্যরা সহ জনসাধারণ আন্দোলন করে আসছি। রাজিয়া সুলতানা আরো বলেন, চেয়ারম্যান সাদেকুল সিদ্দীক নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য আলোচনা বা রেজুলেশন ছাড়াই কৌশলে তার নিকটাত্মীয় ভাগনী পেয়ারী বেগমকে প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন এবং তিনি আওয়ামিলীগ সমর্থক হয়ে সতন্ত্র পার্থী হিসাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি পরিষদে উপস্থিত না থাকলেও তার নির্দেশে পরিষদ পরিচালনা করছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পেয়ারী বেগম। আমরা ইউপি সদস্যরা কোন উন্নয়ন কাজের বিষয়ে অংশীদারত্ব হতে চাইলে আমাদের কথা কর্নপাত না করে নিজ ইচ্ছামত পরিষদ পরিচালনা করার কারনে আমাদের ইউনিয়নবাসী ও ইউপি সদস্যরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পেয়ারী বেগমের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে তার অপসারন দাবী করছি।
এলাকাবাসীর পক্ষে আব্দুল কাদের ও শরিফুল ইসলামসহ অনেকে জানান, আওয়ামিলীগের দুঃশাসন থেকে রক্ষা পায়নি কৈমারী ইউনিয়ন পরিষদ। বর্তমানে সে ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যানের দায়িত্বে নেওয়ার পর থেকে চেয়ারম্যান সাদেকের নির্দেশে ইউনিয়ন পরিষদ চালাচ্ছেন । তাই
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পেয়ারী বেগম চেয়ারম্যান সাদেকের সমর্থক হওয়ায় আমরা তার অপসারন দাবী করছি এবং আমরা এলাকাবাসী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পেয়ারি বেগম কে অপসারন করে ৭.৮ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রাজিয়া সুলতানা রাজিয়া সুলতানাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবী জানাচ্ছি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা ও জানাযায়, চেয়ারম্যান সাদেকুল সিদ্দীক পরিষদে অনুপস্থিত খাকার কারনে সরকারেরর নির্দশে নীলফামারী জেলা প্রশাসক সম্প্রতি এক পত্রের মাধ্যমে ১,২,৩ নং ওয়ার্ড আসনের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও ১ নং প্যানেল চেয়ারম্যান পেয়ারি বেগম কে ইউনিয়ন পরিষদ আইনানুযায়ী
সকল প্রকার সুবিধা ও আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব প্রদান করেন।
সংরক্ষিত ইউপি মহিলা সদস্য
রাজিয়া সুলতানা জানান ইউএনও স্যারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পেয়ারী বেগমের স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজন প্রীতির কারনে তার অপসারন চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি সিংহভাগ ইউপি সদস্যের স্বাক্ষরিত অনুলিপি দিতে বলেন।
এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পেয়ারী বেগম বলেন, যারা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পুর্ন মিথ্যা বানোয়াট ও ভুয়া। তার কোন ভিত্তি নাই।তাই তারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করছে চেয়ারম্যান পদ হতে
সরানোর জন্য। আর আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর যা করছি সবার সাথে আলোচনা করেই করছি। এবং আমি কারে কথায় পরিষদ না চালিয়ে সবার মতামতের ভিত্তিতে চালাচ্ছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন জানান অভিযোগ পেয়েছি।তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal