হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান
জলঢাকা নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তে রং তুলির কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন কারিগড়েরা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা কে সামনে রেখে জলঢাকায় চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ। মাটির কাজ প্রায় শেষের পথে, শিল্পীর রংতুলির আঁচড়ে মূর্ত হয়ে উঠছে দেবীর রূপ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবী দুর্গা শক্তি ও সুন্দরের প্রতীক। প্রতিবছর অসুরের বিনাশ করতে মা দেবী দুর্গা এই ধরাধামে আবির্ভূত হয়। তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন, সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার ও গ্লানি দূর করার জন্যই এই পূজার আয়োজন।
এই উদ্দেশ্য সামনে রেখে সারা দেশের মতো নীলফামারীর জলঢাকায় ১লা অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে দুর্গাপূজা। আর এ পূজাকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরি ও রং তুলির আচঁড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।
এদিকে উপজেলার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দেবী দুর্গাকে বরণ করতে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহনের মাধ্যমে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ঘরে ঘরে চলছে আনন্দ উৎসব ও পূজার প্রস্তুতি।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১ অক্টোবর শুরু হবে পূজা। দশমী পূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ৫ অক্টোবর উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
উপজেলার বিভিন্ন দুর্গামন্দির ঘুরে দেখা যায়, শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক কাজ প্রায় শেষের দিকে।
উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির তথ্যমতে, এবার উপজেলার ১৮৭ টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
মৃৎশিল্পিরা জানান আমরা বাপ দাদার আমল থেকে এ পেশার সাথে জড়িত।ছোটবেলা থেকে কাদামাটি ও রংতুলির সঙ্গে বেড়ে ওঠা। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরেও বেশ কয়েকটি প্রতিমা তৈরীর কাজ হাতে পেয়েছি । প্রতিবছর ২৫ থেকে ৩০ সেট প্রতিমা তৈরির ফরমাশ নেওয়া হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বর্তমান বাজারে জিনিস পত্রের দাম আকাশ ছোয়া তারপরে ও থেমে নেই কিছু। প্রতি সেট প্রতিমা তৈরিতে ব্যয় বেড়ে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকার উপরে। বিক্রি করেন ২৫/৩০ হাজার টাকায়।
এবিষয়ে কৈমারী ইউনিয়ের গাবরোল টগরার ডাঙ্গা সর্বজনীন দুর্গামন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি কালিপদ রায় বলেন, বর্তমান সরকারের সার্বিকভাবে সহযোগিতায় এবারের পূজায় আনন্দও বেশি হবে।
উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা পূজা উদ্যাপন পরিষদের পক্ষ থেকে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।’ তাঁরা জানান, এবার উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা সহমোট ১৮৭ টি মণ্ডপে পূজা উদ্যাপিত হবে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ দৃষ্টি রাখছে। তাদের পক্ষ থেকে তিন স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও সহকারী উপপরিদর্শকদের (এএসআই) বিভিন্ন মণ্ডপের দায়িত্ব দিয়ে নিয়মিত টহল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি সব কটি পূজামণ্ডপ গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান অন্য বছরের চেয়ে এবার জোরালো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা করেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না এবারের পূজায়। তবে এ জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
projonmo21.com Popular bangla online newsportal