শাহাদাত হোসেন নোবেল-খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রচার প্রচারণায় সরব হয়ে উঠেছে। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীই নির্বাচনী প্রচার জোরদার করার পাশাপাশি নিজ নিজ কৌশল প্রয়োগ করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনের শেষ প্রান্তে এসে নানামুখী মেরুকরণ হচ্ছে।
খুলনা জেলার ৩টি উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ মে।
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন সহ মোট ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাচনে।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী হলেন শেখ মারুফুল ইসলাম প্রতীক আনারস, দোয়াত-কলম প্রতীকে দিঘলিয়ার সাবেক ৩ মেয়াদে নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মল্লিক মহিউদ্দিন, মোটর সাইকেল প্রতীকে রয়েছেন তরুন সমাজ সেবক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ জাকির হোসেন ও স্টার জুট মিলের সাবেক শ্রমিক নেতা গাজী এনামুল হাচান মাসুম প্রতীক হেলিকপ্টার।
প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের ফ্যাক্টর হিসেবে সামনে আসছে ত্রিমুখি সমীকরণ। ভোটাররা মনে করছেন,
শেখ মারুফুল ইসলামের আনারস সবার উপরে থাকলেও মল্লিক মহিউদ্দিন দোয়াত-কলম প্রতীক নিচে থাকবার পাত্র নয়। তরুন সমাজ সেবক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ জাকির হোসেন মোটর সাইকেল প্রতীক সকলকে ছাড়িয়ে জয় লাভ করবে বলে মনে করছেন তার সমার্থকেরা।
অপরদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দিঘলিয়া উপজেলায় ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আলী রেজা বাচা প্রতীক চশমা, সৈয়দ জামিল মোরশেদ মাসুম প্রতীক টিউবয়েল, চশমা ও টিউবয়েল এর মধ্য মূলত প্রতিদ্বীন্দিতা হবে বলে মনে করেন দিঘলিয়া উপজেলার ভোটারগন।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে দিঘলিয়া উপজেলায় অন্যন্য প্রার্থি গন হলেন -মোঃ আসাদুজ্জামান (আসাদ খামারী) প্রতীক তালা, মোহাম্মদ এনামুল ইসলাম প্রতীক উড়োজাহাজ, শেখ ইনামুল প্রতীক পালকি, বজলুর রহমান ফকির প্রতীক মাইক এবং গোবিন্দ মন্ডল প্রতীক টিয়া পাখি।
সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ নারী নেত্রী লড়ছেন। এদের মধ্যে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ শিরীন ময়না প্রতীক ফুটবল, নাসরিন আক্তার প্রতীক কলস ও সাবেক সেনহাটি ইউপি সদস্য নাসিমা বেগম প্রতীক পেয়েছেন হাঁস। ফুটবল ও কলসের মধ্যে ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
শেষ পর্যন্ত ফলাফল কি হয় তা দেখার জন্য উপজেলাবাসীর চোখ এখন নির্বাচনের দিনের দিকে।
ইতোমধ্যে প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠ গরম করতে সরব হয়েছেন প্রচার ও প্রচারণার মাঠে। কি জনগণকে দিয়েছে এবং নির্বাচিত হতে পারলে কি দেবেন কি করবেন মহল্লায় মহল্লায় মিটিং, উঠান বৈঠক ও মাইকে উন্নয়নের অঙ্গীকার নামা প্রচার করছেন। প্রার্থীর পক্ষে রকমারী গানও প্রচারিত হচ্ছে।
দিঘলিয়া উপজেলাটি মোট ৬ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। দিঘলিয়া উপজেলা খুলনা শহরের উত্তর পশ্চিম কোল ঘেষে দুইটি ইউনিয়ন আড়ংঘাটা ও যোগীপোল ইউনিয়নের অবস্থান। ভৈরব, আতাই ও মজুদখালী নদী দ্বারা খুলনা জেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন ও বেষ্টিত একটা দিপাঞ্চল নিয়ে বারাকপুর, দিঘলিয়া ও সেনহাটি ইউনিয়নের অবস্থান। ভৈরব ও আতাই নদী দ্বারা খুলনা জেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন, দিঘলিয়া উপজেলার উত্তর-পূর্ব কোণে দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নটির অবস্থান। এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৪৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৫ হাজার ৫৫১ জন এবং মহিলা ভোটার ৬৫ হাজার ১৯৭ জন। ১ নং গাজীরহাট ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৮৩ জন, ২ নং বারাকপুর ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৭৫২ জন, ৩ নং দিঘলিয়া ইউনিয়নে ২৬ হাজার ৭৩৯ জন, ৪ নং সেনহাটি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ৩৫ হাজার ৪৯৯ জন, ৫ নং আড়ংঘাটা ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ৬০৩ জন ও যোগীপোল ইউনিয়নে ২১ হাজার ১৭২ জন
projonmo21.com Popular bangla online newsportal